সিফাত হত্যা মামলার তদন্তে ধীরগতি

Print Friendly, PDF & Email

নিজস্ব সংবাদদাতা, রাজশাহী : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ওয়াহিদা সিফাত হত্যা মামলা তদন্ত চলছে ঢিমেতালে। গত ৫ এপ্রিল আদালত নিহত সিফাতের স্বামী মোহাম্মদ আসিফ ওরফে পিসলীর পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করলেও ১১ এপ্রিল থেকে পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে।

Sifat-1

নিহত সিফাত

মামলার বাদী নিহত সিফাতের চাচা মিজানুর রহমান খন্দকার অভিযোগ করেছেন, মামলার অন্যতম আসামি নিহত সিফাতের শ্বশুর অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন রমজান ও শাশুড়ি নাজমুন নাহার নাজলীর অবস্থান জেনেও তাদের গ্রেপ্তার করছে না পুলিশ।

২৯ মার্চ সন্ধ্যায় রাজশাহী নগরীর মহিষবাথান এলাকার অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন রমজানের বাড়িতে তার পুত্রবধূ ওয়াহিদা সিফাতের রহস্যজনক মৃত্যু হয়। ঘটনার চার দিন পর সিফাতের চাচা মিজানুর রহমান খন্দকার রাজপাড়া থানায় ২০ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ এনে সিফাতের স্বামী মোহাম্মদ আসিফ ওরফে পিসলী, শ্বশুর মোহাম্মদ হোসেন রমজান ও শাশুড়ি নাজমুন নাহার নাজলীকে আসামি করে মামলা করেন।

পরে পুলিশ সিফাতের স্বামী আসিফকে গ্রেপ্তার করে। গত ৫ এপ্রিল আদালত তার পাঁচ দিনের রিমান্ডও মঞ্জুর করে।

এদিকে, ওয়াহিদা সিফাতের রহস্যজনক মৃত্যুতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০০৪-০৫ সেশনের ১৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন। ৬ এপ্রিল সিফাতের অকাল মৃত্যুর নিরপেক্ষ তদন্ত করে বিচার দাবিতে নগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মানববন্ধন ও পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করে।

একই দাবিতে পুলিশ কমিশনারকেও স্মারকলিপি দেয় শিক্ষার্থীরা। সিফাত হত্যার সুষ্ঠু বিচার না পাওয়া পর্যন্ত রাবির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেয়া হয়।

সিফাতের চাচা মিজানুর রহমান খন্দকার বলেন, ‘সিফাতের শ্বশুর রাজশাহীর সিনিয়র আইনজীবী হওয়ায় এই হত্যা মামলার তদন্তে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। কেননা সিফাতের স্বামী পিসলীর রিমান্ড মঞ্জুর হওয়ার পাঁচ দিন পর পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মামলার অন্যতম আসামি সিফাতের শ্বশুর অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন রমজান ও শাশুড়ি নাজমুন নাহার নাজলী ঢাকার মিরপুর ১০ নম্বরের আশরাফুল হক নামে সাবেক এক ব্যাংকারের বাড়িতে অবস্থান করছেন জেনেও পুলিশ তাদের গ্রেপ্তারে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না।’

সিফাতের শ্বশুর নগরীর একজন প্রভাবশালী আইনজীবী হওয়ায় এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্তে প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা করছেন তিনি। তবুও প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে পুলিশ প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা কামনা করেছেন মিজানুর রহমান।

নিহত সিফাতের সহপাঠী গোলাম রাব্বানী  বলেন, ‘যেহেতু রিমান্ড মঞ্জুর হওয়ার পাঁচ দিন পরে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে, এতেই তদন্তকারী কর্মকর্তা যে আসামিপক্ষ দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে তা প্রমাণ করে। পুলিশ সব জেনেই সিফাত হত্যাকারী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন রমজান ও তার স্ত্রী নাজমুন নাহার নাজলীকে গ্রেপ্তার করছে না। রমজান রাজশাহীর প্রভাবশালী অ্যাডভোকেট হওয়ায় এ মামলার তদন্ত প্রভাবিত হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘সিফাতের শ্বশুর-শাশুড়ি এই হত্যা মামলায় আগাম জামিন নিতে উচ্চ আদালতে আবেদন করেছেন। তাদের আবেদনটি উচ্চ আদালতের কার্য তালিকায় ২৬৪ নম্বরে রয়েছে। এরই মধ্যে ওয়াহিদা সিফাত হত্যার পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিক সংবাদের কপি উচ্চ আদালতের ডিআইজি বরাবর পাঠানো হয়েছে। যেন আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করেন।’

তদন্তে ধীরগতি প্রসঙ্গে রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, সিফাত হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার পিসলীকে শনিবার থেকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। সেই সঙ্গে এই হত্যা মামলার অন্য দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সম্ভাব্য স্থানে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। তবে পুলিশ কারও দ্বারা প্রভাবিত হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

রিমান্ড দেরিতে কার্যকর হওয়া প্রসঙ্গে ওসি জানান, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম ট্রেনিংয়ে ঢাকায় অবস্থান করায় রিমান্ডে নিতে দেরি হয়েছে। বাংলামেইল

Comments

comments