,


মধুপুরে বট গাছে যীশুর খৃষ্টের ছবি!

সামিউল আলম, মধুপুর থেকে: মধুপুর বনাঞ্চলে একটি বট গাছে যীশু খ্রীষ্টের মুখের অবয়ব দেখা যাওয়ার খবরে পুরো এলাকা জুড়ে সারা পড়ে গেছে।  হাজার হাজার খ্রীষ্টান-গারো, মুসলিম নারী পুরুষ আবাল বৃদ্ধ বনিতা এক নজর বিষয়টি দেখতে অকুস্থলে ভীড় করছেন। জননিরাপত্তার জন্য পুলিশও নিয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

বট গাছে যিশু খ্রিষ্টের ছবি
টাংগাইল ময়মনসিংহ মহাসড়কের বন অধ্যুষিত টেলকি থেকে ২ কিমি: ভিতরে গায়রা যাওয়ার পথে জলই নামক স্থানে রাস্তার ধারে একটি বট গাছের ডালে যীশুর মুখের এ আকার দেখা গেছে। 
গতকাল শনিবার রাত দশ টা থেকে এখানে মানুষের সমাগম শুরু হয়। গত ৮ সেপ্টেম্বর রবিবার বিকেলে অফিস থেকে বাড়ি ফেরার পথে গায়রা গ্রামের রনিত ঘাগ্রা নামের এক খ্রীষ্টান যুবকের নজরে বিষয়টি প্রথমে ধরা পড়ে। রনিত ঘাগ্রা ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ জলছত্র এডিপি’র স্বাস্থ্য বিভাগের সুপারভাইজার।
একনজর দেখার ও প্রার্থনার জন্য উৎসুক মানুষের ভিড়
তার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি টাঙ্গাইল বার্তা কে বলেন, গত ৮ সেপ্টেম্বর এটি দেখে স্ত্রী কে ছাড়া কাউকে বলিনি। প্রতিদিন এটি পর্যবেণ করতে থাকি। এক এক জন কে দেখিয়ে মতামত নেই। একাধিক মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের দেখিয়ে বলি তারাও বলে “হ্যাঁ যীশুর মতোই তো মনে হয়”। 
অবশেষে গতকাল শনিবার বিকেল থেকে ছড়িয়ে পড়ে খবরটি। রাতে ওই বট গাছের চারপাশের বেড়া দিয়ে প্রার্থণা শুরু করে খ্রীষ্টান ধর্মাবলম্বীরা। সকাল হওয়ার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে ভীড়। 
গেচুয়া গ্রামের অনুপ মারাক, থানার বাইদের রঞ্জন হাগিদক, গায়রার রুথ বলেন, লাঠিসহ যীশু কে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। 
গৃহিনী বার্নিতা রিছিল বলেন, গতকাল রাতে এসে কিছুটা কনফিউজড ছিলাম। এখন এসে ছবি দেখে প্রার্থনা করলাম। 
এলাকার মন্ডলী অনাথ রিছিল বট গাছের গোড়ায় অবস্থান করে সবার দান করা অর্থ ও মোমবাতি গ্রহন করছেন।  তিনি বলেন, এটি এই মন্ডলের লোকজনের জন্য আর্শিবাদ। 
কাকরাইদ গ্রামের জনৈক আব্দুছ ছাত্তার এটিকে যীশুর ছবি বলেই মত দিয়েছেন। তিনি তার পরিবারের সবাইকে এটি দেখানোর ব্যবস্থা করছেন। 
কিন্তু মাদ্রাসা শিক্ষক মওলানা মো. ইয়াকুব আলী ও জয়নাল আবেদীন ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, ঈশা (আ.) (যীশু) এভাবে আবির্ভূত হতে পারেন না। তিনি আসবেন দজ্জালের অপশাসন রোধ করতে। 
এ ব্যাপারে জলছত্র মিশনের ফাদার এ্যাপোলোর বক্তব্য নিতে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

Comments

comments