ঢাকা-টাঙ্গাইল-ঢাকা সরাসরি ট্রেন সার্ভিসের দাবীতে একাট্টা টাঙ্গাইলবাসী

0

ফজলুল হক : বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চলের জেলা টাঙ্গাইল। ঢাকা থেকে মাত্র ১০০ কিলোমিটার দুরে এর অবস্থান। ঢাকার সাথে সড়ক ও রেলপথে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোর সাথে যোগাযোগ ও উন্নয়নের সেতুবন্ধন তৈরী করেছে জেলাটি। যমুনা নদীর উপর দেশের সর্ববৃহৎ বঙ্গবন্ধু বহুমূখী সেতু চালু হওয়ায় উত্তরাঞ্চলের মানুষের ট্রেন ও সড়ক পথে যাতায়াত দ্রুততর হয়েছে। কিন্তু তাতে টাঙ্গাইল জেলাবাসীর ভোগান্তি বেড়েছে। সড়ক পথে টাঙ্গাইল জেলা পরিণত হয়েছে সড়ক দুর্ঘটনার মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে। প্রতিদিন ঝরে পড়ছে মানুষের তাজা প্রাণ। জানমালের ক্ষতি হচ্ছে মানুষের। কয়েক বছর আগেও সড়ক পথে টাঙ্গাইল থেকে ঢাকা আসতে সময় লাগতো সর্বোচ্চ দুই ঘন্টা। কিন্তু এখন একই পরিমাণ রাস্তা পারি দিতে সময় লেগে যায় প্রায় পাঁচ ঘন্টা। রেলপথে ঢাকা থেকে উত্তরাঞ্চলগামী বেশ কয়েকটি ট্রেন নিয়মিত যাতায়াত করলেও তাতে টাঙ্গাইলবাসীর জন্য নামেমাত্র কয়েকটি সিট বরাদ্ধ থাকে যাতে বসার সৌভাগ্যও হয়না সচারচর। ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থায় দারুণ ভোগান্তির শিকার টাঙ্গাইলের মানুষ। সড়ক পথে দুর্ঘটনা, তীব্র যানজট, মানসম্মত পরিবহন সার্ভিসের অপ্রতুলতাসহ বিভিন্ন কারণে টাঙ্গাইলবাসী এবার একাট্টা অবস্থান নিয়েছে ঢাকা-টাঙ্গাইল-ঢাকা সরাসরি রেল সার্ভিস চালুর দাবীতে। টাঙ্গাইল থেকে ঢাকায় যাতায়াত করার জন্য সরাসরি একটি রেল সার্ভিস এখন টাঙ্গাইলবাসীর প্রাণের দাবী।

বিভিন্ন সময় রেল সার্ভিস দাবী তুললেও আন্দোলনে যাওয়া হয়নি কখনো। কিন্তু এবার টাঙ্গাইলের সকল স্তরের মানুষ দাবী আদায়ে সোচ্চার হয়ে উঠেছে। সাধারণ মানুষের দাবীর সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সাংসদ, প্রশাসন, বিভিন্ন দলের রাজনীতিক, সামাজিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের জনগণ।

ইতিমধ্যে টাঙ্গাইলে ট্রেনের দাবীতে গণস্বাক্ষর, মানববন্ধন, অবস্থান কর্মসূচিসহ বিভিন্ন কমসূচি পালন করা হয়েছে। গঠিত হয়েছে ঢাকা-টাঙ্গাইল-ঢাকা সরাসরি ট্রেন সার্ভিস বাস্তবায়ন কমিটি। এ কমিটির আয়োজনে টাঙ্গাইলে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। যেখানে ট্রেনের দাবীকে সমর্থন জানিয়ে স্বাক্ষর করেছেন স্থানীয় সাংসদ, বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ টাঙ্গাইলের সকল পেশার জনগণ। রেলমন্ত্রী বরাবর দাবীর পক্ষে স্মারকলিপিও পৌছেঁ দেয়া হয়েছে ট্রেন বাস্তবায়ন কমিটির পক্ষ থেকে।

গত ৪ মে ২০১৭ তারিখে  টাঙ্গাইলের জন্য একটি কমিউটার ট্রেন চালু ও অন্যান্য আন্তঃনগর ট্রেনে আসন বৃদ্ধিকরণের জন্য রেলপথ মন্ত্রী বরাবর ডিও লেটার পাঠিয়েছেন টাঙ্গাইলের স্থানীয় সাংসদ ছানোয়ার হোসেন। চিঠিতে তিনি বলেন, বর্তমানে ট্রেন যাতায়াত মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। টাঙ্গাইল থেকে প্রতিদিন রাজধানী ঢাকায় অফিস ও অন্যান্য জরুরী কাজের জন্য অসংখ্য মানুষ যাতায়াত করেন। কিন্তু ট্রেনে টাঙ্গাইলবাসীর জন্য যে পরিমাণ সিট বরাদ্ধ আছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

তিনি অতি দ্রুত ঢাকা টাঙ্গাইল ঢাকা একটি কমিউটার ট্রেন চালু ও আসন বৃদ্ধির জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করেন।

এদিকে সরাসরি ট্রেন সার্ভিস দাবীতে আন্দোলনে নামছে টাঙ্গাইলের বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন। আগামী ১৮ মে ২০১৭ তারিখে টাঙ্গাইলে মানববন্ধনের ডাক দিয়েছে টাঙ্গাইল জেলা সিটিজেন জার্নালিস্ট গ্রুপ ও সরাসরি ট্রেন সার্ভিস বাস্তবায়ন কমিটি।

শুধু টাঙ্গাইলেই নয়, সরাসরি ট্রেনের দাবীতে ঢাকাতেও মানবন্ধনের আয়োজন করেছে ঢাকাস্থ টাঙ্গাইল জেলা যুব সমিতি। আগামী ২০ মে ২০১৭ তারিখে ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধনের ডাক দিয়েছে সংগঠনটি।

সংগঠনের সহ-সভাপতি আব্দুল আলিম বলেন, বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা একটি ছোট জেলা হওয়া সত্ত্বেও এখানেই ২ কোটি লোকের বসবাস। ধীরে ধীরে বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়া এই ঐতিহাসিক শহরকে বাঁচাতে প্রয়োজন কার্যকর পরিকল্পনা। আর সেই পরিকল্পনার অন্যতম মুল বিষয় হতে পারে রাজধানী শহরের সাথে ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর অত্যন্ত সহজ ও দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা। যার ফলে ঢাকার উপর থেকে মানুষের আবাসন চাপ কমবে। চাপ কমে যাবে আনুষঙ্গিক নাগরিক সুবিধার। শুধু টাঙ্গাইলের মানুষের জন্য নয় ঢাকার উপর চাপ কমাতেও প্রয়োজন ঢাকা- টাঙ্গাইল-ঢাকা সরাসরি ট্রেন।

তিনি আরো বলেন, বিপুল সংখ্যক লোক প্রতিদিন টাঙ্গাইল হতে ঢাকা এবং ঢাকা হতে টাঙ্গাইলে যাতায়াত করে। সময়, অর্থ ও নির্ঝঞ্জাট যাত্রার বিবেচনায় সরাসরি ঢাকা-টাঙ্গাইল সরাসরি ট্রেন সার্ভিস হতে পারে টাঙ্গাইলবাসীর সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম।

Comments

comments

Share.

Leave A Reply