ঢাকা মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৮

Mountain View



ভূঞাপুরে দুই ব্যক্তি চারটি সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন উত্তোলন করছেন!

Print Friendly, PDF & Email

মুহা. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি : টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে দুই ব্যক্তি তথ্য গোপন করে চারটি সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বছরের পর বছর বেতন উত্তোলণ করে যাচ্ছেন। তারা হচ্ছেন, ভূঞাপুর ইব্রাহীম খাঁ সরকারি কলেজের ইংরেজী প্রভাষক ও গোপালপুর উপজেলার নারুচী স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রভাষক আমিনুল ইসলাম এবং একই উপজেলার মির্জাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক ও ইব্রাহীম খাঁ সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক জান্নাতুন নাহার জলি। তারা একই সাথে দুইটি করে সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে তাদের বেতন উত্তোলন করছেন।

a

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিয়ম বহির্ভুতভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে আমিনুল ইসলাম গোপালপুরের নারুচী স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষকতা করা অবস্থায় তথ্য গোপন করে ভূঞাপুর ইব্রাহীম খাঁ সরকারি কলেজে ইংরেজি প্রভাষক হিসেবে বিগত ২০১২ সালের অক্টোবর মাসে নিয়োগ পান। এরপর থেকেই তিনি দুই কলেজ থেকে বেতন উত্তোলন করে যাচ্ছেন। একইভাবে ভূঞাপুর ইব্রাহীম খাঁ সরকারি কলেজের অপর প্রভাষক জান্নাতুন নাহার জলি তার তথ্য গোপন রেখে বিগত ২০১০ সালের ডিসেম্বর মাসে নিয়োগ পান। এর পাশাপাশি তিনি গোপালপুর উপজেলার মির্জাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষক হিসেবেও কর্মরত রয়েছেন। তিনিও ওই দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন উত্তোলণ করছেন। এরআগে ইব্রাহীম খাঁ কলেজটি সরকারি করণ হওয়ার পর আমিনুল ইসলামের পদ সৃজন হলেও বাদ পড়ে যান জান্নাতুন নাহার জলি। পরবর্তীতে কলেজের অধ্যক্ষ গভর্নিং বডির অনুমতি সাপেক্ষে জলির পদ সৃজনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠান।

আলোচিত এই দুই শিক্ষককে নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক ইব্রাহীম খাঁ সরকারি কলেজের একাধিক শিক্ষক জানান, জেনে শুনে বুঝে দুর্নীতি করে আমিনুল ও জলিকে প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ফলে যারা নিয়োগ নিয়েছেন তারা দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থেকে বেতন উত্তোলণ করে যাচ্ছেন।

ভূঞাপুর ইব্রাহীম খাঁ সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল মান্নান বলেন, একই ব্যক্তি দুইটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকা ও বেতন উত্তোলণ করা সম্পূর্ণ অবৈধ এবং শাস্তিমূলক অপরাধ। প্রভাষক জান্নাতুন নাহার জলি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত জানার পরই কলেজ থেকে তার বেতন উত্তোলন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এছাড়া আমিনুল ইসলাম নারুচী স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন বলে শুনেছি। আমিনুল ও জলির বেতন আমি যোগদান করার পর থেকেই বেতন বন্ধ করে দিয়েছি। যদি দুই জায়গায় থেকে তিনি নিয়োগ ও বেতন উত্তোলণ করে থাকেন তাহলে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

গোপালপুর নারুচী স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ পিন্টু চন্দ্র তরফদার জানান, নিয়ম অনুযায়ী আমিনুল ইসলাম অন্য প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ নিতে আমার কাছ থেকে ছাড়পত্র ও অভিজ্ঞতার সনদ নিয়ে সেখানে যোগদান করার কথা। কিন্তু তিনি তা না করে তথ্য গোপন করে যদি দুই জায়গা থেকে বেতন উত্তোলণ করেন সেটা আমার দেখার বিষয় নয়। বছর খানেক আগে তিনি অব্যাহতিপত্র দিয়েছেন। এরপর থেকেই কলেজ থেকে তার বেতন উত্তোলণ বন্ধ রয়েছে।

গোপালপুর উপজেলা সহকারি শিক্ষা অফিসার আব্দুল আওয়াল খান জানান, জান্নাতুন নাহার জলির অন্য প্রতিষ্ঠানে যোগদান করার ব্যাপারে তিনি অবগত নন। তিনি মির্জাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে বেতন উত্তোলণ করছেন। তবে তিনি যদি তথ্য গোপন করে দুই প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ এবং বেতন উত্তোলণ করে থাকেন সেটা গুরুতর অপরাধ।

ফেসবুক মন্তব্য