ঢাকা শনিবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৮

Mountain View



বঙ্গবন্ধু সেতু সংযোগ সড়ক যেন মরণফাঁদ : দেড় যুগে সহস্রাধিক দুর্ঘটনায় নিহত দুই হাজার

Print Friendly, PDF & Email

মো. রবিউল ইসলাম, ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ বঙ্গবন্ধু সেতু দেশের উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের যোগাযোগের ক্ষেত্রে মঙ্গল বয়ে আনলেও উভয়প্রান্তের প্রায় ৩২ কিলোমিটার দীর্ঘ সংযোগ সড়কটি যেন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। এই সড়কে দুর্ঘটনা যেন এখন মামুলি ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাসের প্রায় ২০ দিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনা লেগেই থাকে। বঙ্গবন্ধু সেতু চালু হওয়ার পর গত ১৭ বছরে এই সড়কে অন্তত সহস্রাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রায় দুই হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। এছাড়া পঙ্গু হয়েছে হাজারো মানুষ। বর্তমানে দুর্ঘটনার হার আশংকাজনক হারে বাড়লেও তা রোধে কার্যকর কোন উদ্যোগ নেই। প্রাথমিক ভাবে নেশাগ্রস্ত চালকদের অনিয়ন্ত্রিত আর বেপরোয়া গতি, অতিরিক্ত যাত্রী বহন এবং দুর্বল ট্রাফিক সিগন্যাল পদ্ধতি এসব দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও জনগুরুত্বপূর্ণ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে না।

jamuna setu

এদিকে দেশের উত্তর, দক্ষিণ এবং পশ্চিমাঞ্চলের ২২ জেলার মানুষের যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কটির মাঝখানে ডিভাইডার দিয়ে ৪ লেনে উন্নীতের পাশাপাশি মানুষের পারাপারের জন্য ওভারব্রিজ নির্মাণ করা হলে দুর্ঘটনা অনেকটাই কমে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা যায়, খরস্রোতা যমুনা নদীর উপর নির্মিত দেশের অন্যতম প্রধান স্থাপনা বঙ্গবন্ধু সেতুর দু’পাড়ের ৩২ কি.মি সংযোগ সড়ক ১৯৯৮ সালের ২৩ জুন চালু করা হয়। এই সংযোগ সড়কের পূর্বপ্রান্তে টাঙ্গাইল জেলার ভুঞাপুর ও কালিহাতি উপজেলা এবং পশ্চিমপ্রান্ত সিরাজগঞ্জ জেলার অন্তর্ভুক্ত হাটিকুমরুল এলাকা। দেশের অন্যতম ব্যস্ত এই সড়ক দিয়ে উত্তরবঙ্গের ১৬টি জেলা ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ৬টি জেলার ১০ থেকে ১২ হাজার যানবাহন প্রতিদিন চলাচল করে। গাড়ির বেপরোয়া গতি, ওভারটেকিং ও ট্রাফিক আইন না মানার কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে নানা ধরণের দুর্ঘটনা। আর এসব দুর্ঘটনায় প্রাণ দিতে হচ্ছে অহরহ মানুষের। গত ২৩ এবং ২৪ মে সিরাজগঞ্জের কোনাবাড়িতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ১৩ জন। এর আগে ২০০০ সালের এপ্রিল মাসে সিরাজগঞ্জের কড্ডায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছিলো ৫৮ যাত্রী। যা দেশের মধ্যে এযাবত্ কালের সবচেয়ে বড় সড়ক দুর্ঘটনা।

বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানা সূত্র জানায়, সড়ক দুর্ঘটনায় মাসে গড়ে এই মহাসড়কে ৩ জন করে মারা যাচ্ছেন। সে অনুপাতে বিগত ১৭ বছরে দুর্ঘটনায় প্রায় ৫ শতাধিক লোক নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ৪ হাজারেও বেশি মানুষ। এপর্যন্ত থানায় মামলা রেকর্ড হয়েছে ৯৫টিরও বেশি। এছাড়া পশ্চিম থানা সূত্র জানায়, এ পর্যন্ত সড়কটির পশ্চিম অংশে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ শতাধিক লোক মারা গেছে। তবে সিরাজগঞ্জ ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট রাকিবুর রহমান ও মানবাধিকার কর্মী এডভোকেট শহিদুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে সড়কে যে গাড়ির চাপ তা অতীতের চেয়ে কয়েক গুণ বেড়েছে। সে তুলনায় রাস্তার প্রশস্ততা বাড়েনি। যে কারণে দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত প্রায় ২ হাজারের মত মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। তারা বলেন, মৃত্যুহার কমাতে সেতুর পূর্ব ও পশ্চিম মহাসড়ক চার লেন করা প্রয়োজন।

বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আখেরুজ্জামান বলেন, মহাসড়কে ডাইভারশন না থাকা, চালকদের দ্রুত্বগতিতে গাড়ি চালানো, ওভারটেকিং, সবার আগে গিয়ে টোল দিয়ে সেতু পার হওয়ার প্রতিযোগিতা এবং রাস্তা ফাঁকা থাকায় দুর্ঘটনা বেশি ঘটে থাকে। তবে এখন মহাসড়কে সিএনজি চালিত অটোরিক্সা ও তিন চাকা বিশিষ্ট পরিবহন বন্ধ থাকায় দুর্ঘটনার সংখ্যা অনেকাংশে কমে গেছে বলে জানান তিনি। বঙ্গবন্ধু সেতু রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনাকারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রধান প্রকৌশলী মোজাম্মেল হক বলেন, এই মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীত করার জন্য বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণের সময়ই জমি অধিগ্রহণ করা রয়েছে। এখন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এডিবির কাছে অর্থ সহায়তা পাওয়া গেলে চার লেনের নির্মাণ কাজ শুরু হবে।

ফেসবুক মন্তব্য