ঢাকা সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০১৮

Mountain View



মধুপুর গড়ের ডাক্তার ভাই চলে গেলেন না ফেরার দেশে

Print Friendly, PDF & Email

মুহা. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল, টাঙ্গাইল : টাঙ্গাইল জেলার মধুপুরগড়ে অবস্থিত ব্যতিক্রমী চিকিৎসাকেন্দ্র কাইলাকুড়ি হেলথ কেয়ার সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক  নিউজিল্যান্ডের অধিবাসী ডা. এড্রিক বেকার(স্থানীয়দের ডাক্তার ভাই) মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে তাঁর প্রাণের কালিয়াকুড়ি হাসপাতালেই অসুস্থ্য অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। তাঁর মৃত্যুতে মধুপুরের বাঙালি-আদিবাসীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসছে।

a

টাঙ্গাইল জেলার মধুপুরগড়ে কাইলাকুড়ি হেলথ কেয়ার সেন্টারের মাধ্যমে তিনি টানা ৩২ বছর ধরে ভিনদেশী ডা. এড্রিক বেকার বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন টাঙ্গাইলের মধুপুরগড়ে।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, ১৯৬৫ সালে তিনি ডুনেডিন শহরের ওটাগো মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করে সরকারের শল্য চিকিৎসক দলের সদস্য হিসেবে যুদ্ধবিধ্বস্ত ভিয়েতনামে যান। সেখানে কাজ করার সময়ই তিনি পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জানতে পারেন। যুদ্ধকালীন এখানকার মানুষের দুর্ভোগের চিত্র দেখে তিনি ঠিক করেন সম্ভব হলে বাংলাদেশে আসবেন। অবশেষে বিগত ১৯৭৯ সালে তিনি বাংলাদেশে আসেন। বাংলাদেশে এসে মি. বেকার প্রথমে কয়েক বছর কাজ করেন মেহেরপুর মিশন হাসপাতালে, কুমুদিনী হাসপাতাল, থানারবাইদ গ্রামের একটি ক্লিনিকে। কিন্তু তার সবসময় ইচ্ছা ছিল বড় হাসপাতালে কাজ না করে প্রত্যন্ত গ্রামে গিয়ে কাজ করার। সেই চিন্তা থেকেই তিনি চলে আসেন মধুপুরগড় এলাকায়। গ্রামের দরিদ্র মানুষকে চিকিৎসাসেবা দিতেই ২০০২ সালে তিনি মধুপুরের শোলাকুড়ি ইউনিয়নের কাইলাকুড়ি গ্রামে গড়ে তুলেন পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাকেন্দ্র। সেখান থেকে প্রতিদিন গড়ে দেড় শতাধিক রোগী বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন।

চার একর জায়গার ওপর মি. বেকারের ওই চিকিৎসাকেন্দ্রে ছোট ছোট মাটির ঘরে ডায়াবেটিস বিভাগ, যক্ষ্মা বিভাগ, মা ও শিশু বিভাগ, প্রশিক্ষণ কক্ষ, মাতৃসদনসহ নানা বিভাগ রয়েছে। সব বিভাগ মিলিয়ে ৪০ জন রোগী ভর্তি করানোর ব্যবস্থা রয়েছে সেখানে। শুধু ক্লিনিকেই নয়, কোনো রোগী যদি চিকিৎসাকেন্দ্রে যেতে না পারেন, দু-একজন সহকর্মীসহ সাইকেল চালিয়ে ‘ডাক্তার ভাই’ নিজেই বেরিয়ে পড়েন চিকিৎসাসেবা দিতে।

বিগত ২০১১ সালের ৩০ ডিসেম্বর ডা. এড্রিক বেকারের ওপর একটি প্রতিবেদন তুলে ধরা হয় জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদিতে।

ফেসবুক মন্তব্য