ঢাকা মঙ্গলবার, নভেম্বর ২০, ২০১৮

Mountain View



মির্জাপুরে মিথ্যা অপবাদে অসহায় গৃহবধূ একঘরে, স্কুলে যেতে পারছে না দুই শিশু সন্তান

Print Friendly, PDF & Email

শাহ্ সৈকত মুন্না, মির্জাপুর(টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি : পাহাড়ি এলাকার নিবৃত পল্লীতে সমাজপতি মাতাব্বরা অসহায় এক গৃহবধূকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে দুই সন্তানসহ গত এ বছর ধরে একঘরা করে রেখেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সমাজপতিদের অন্যায় আবদার না রাখার অপরাদে টাউট মাতাব্বরা ঐ গৃহবধূর বাড়ির চারপাশে বাঁশ ও খুঁটি দিয়েবেড়া দিয়ে আটকিয়ে রেখেছে। সমাজপতিদের ভয়ে ঐ মহিলা দুই সন্তান নিয়ে বাড়ির বাহিরে বের হতে পারছেন না। এমনকি দুই শিশু সন্তান বিদ্যালয়েও যেতে পারছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ১১ নং আজগানা ইউনিয়নের আজগানা গ্রামে এ অমানবিক ঘটনাটি ঘটেছে। গতকাল বুধবার ঘটনাস্থলে সরেজমিন গিয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে।

mirzapur

জানা গেছে, আজগানা গ্রামের দুবাই প্রবাসি ফন্নু খানের স্ত্রী হাসিনা বেগম(৩০)। তিনি অভিযোগ করেন একই গ্রামের মাতাব খানের ছেলে ওমর খান (৫০), কোরবান খান (৪৫), নোয়াব খানের ছেলে ফরমান খান (৪০), সিরাজ খান (৩৫) ও সেলিনা অক্তার (২৩) সহ ১০-১২ জনের চক্র তাকে দীর্ঘ দিন ধরে নানা ধরনের অপবাদসহ অত্যাচার নির্যাতন করে আসছে। তার স্বামী ফন্নু খান প্রবাসে থাকার সুযোগ নিয়ে ঐ অসাধু চক্র হাসিনা বেগমকে মাতাব্বরদের যোগসাজসে মূল বাড়ি থেকে হুমকি দিয়ে বিতারিত করে একঘরা করে দেয়। দুই সন্তান ৫ম শ্রেণীর ছাত্রী সাদিয়া (১১) ও তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র হাসিফ (৮) কে নিয়ে ন্যায় বিচারের জন্য গত এক বছর দ্ধারে দ্ধারে ঘুরছে অসহায় হাসিনা। কিন্ত স্থানীয় আওয়ামীলীগের ওয়ার্ড কমিটির সহ সভাপতি ওমর খান, মাতাব্বর হোসেন সিকদার, আরফান আলী, মীর সবুর, ফরহাদ, আওলাদ ও আজমত আলীসহ ২০-২৫ জনের মাতাব্বর শালিস বসে হাসিনা বেগমকে একঘরা করে দেয় এবং বাড়ির চারপাশে বেড়া দেওয়ার নির্দেশ দেন বলে হাসিনা বেগম, তার অসহায় পিতা হাকিম খান ও শিশূ কন্যা সাদিয়া অভিযোগ করেন। তারা অভিযোগ করেন, গত এক বছরের মধ্যে ঐ টাউট শ্রেণীর সমাজপতি মাতাব্বরা তার বাড়ি থেকে বিদ্যুৎ লাইন বিচিছন্ন, মালামাল লুট ও পানি পান করার জন্য একটি টিউবওয়েলও উঠিয়ে নিয়ে গেছে। তার ছোট দুই শিশু সাদিয়া ও হাসিফ পার্শ্ববর্তী খুদের চালা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না।

mirzapur1

এ দিকে নিরূপায় হয়ে হাসিনা বেগম স্থানীয় ইউপি মেম্বার আবুল হোসেন ও মহিলা মেম্বারের কাছে বিচার দাবী জানালে তারা উল্টো কথা শুনিয়ে বিদায় করে দেন এবং ঐ প্রভাবশালী মহলের চাপের মুখে কোন বিচার করতে পারবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয়।

এ দিকে এই ঘটনা জানার পর গতকাল বুধবার কয়েক জন সংবাদিক আজগানা গ্রামের হাসিনা বেগম ও অভিযুক্ত ওমর খান গংদের বাড়িতে গেলে ঘটনার সত্যতা মিলে। সাংবাদিক এসেছে এই খবরে ওমর খান ও তার ভাতিজি সেলিনা আক্তারসহ বাড়ির লোকজন সাংবাদিক, পুলিশসহ প্রশাসনকে বিভিন্ন অশ্লিষ ভাষায় গালিগালাজ করে এবং দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আজগানা গ্রামের একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, তারা ভয়ে ওমর খান গংদের বিরুদ্ধে কোন কথা এমনকি প্রতিবাদ করার সাহস পায় না। নির্যাতিত এলকাবাসি অতিদ্রুত ওমর গংদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবী জানান।

অভিযুক্তদের মধ্যে মূলহোতা ওমর খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ঐ মহিলা ভালনা, তাই স্থানীয় মাতাব্বরদের নিয়ে শালিস বসে সিদ্ধান্ত নিয়ে তাকে একঘরা করে রাখা হয়েছে।

এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মাইন উদ্দিন মাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ঘটনাটি খুবই অমানবিক ও দুঃখজনক। তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন। ইতিমধ্যে একজন পুলিশ অফিসার ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাসুম আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ঘটনা জানতে পেরে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রফিক সিকদারকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েচে। এবং ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের আটক করে পুলিশে সোপর্দ করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ফেসবুক মন্তব্য