ঢাকা মঙ্গলবার, নভেম্বর ১৩, ২০১৮

Mountain View



ভূঞাপুরে আবারও বাল্য বিয়ের চেষ্টা, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে রক্ষা পেলো সুমাইয়া

Print Friendly, PDF & Email

ফুয়াদ হাসান রঞ্জু, ভূঞাপুর থেকে: ভূঞাপুরে সপ্তাহ না পেরুতেই আবার বাল্য বিয়ের কবল হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে মাটিকাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী সুমাইয়া ইসলাম। সুমাইয়া উপজেলার মাটিকাটা গ্রামের হতদরিদ্র সোনা মিয়ার মেয়ে।

child marraige

গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিতব্য সুমাইয়ার বাল্য বিয়ে বন্ধ করেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা দেওয়ান খায়রুন নাহার। ভূঞাপুরে দিনদিন বাল্য বিয়ের প্রকৌপ বাড়লেও বাল্য বিয়ে দিতে উৎসাহ দানকারী কাজীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করতে পারছে স্থানীয় প্রশাসন।

জানা যায়, উপজেলার মাটিকাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী সুমাইয়া ইসলামের বাবা হতদরিদ্র সোনা মিয়া বৃহস্পতিবার বিয়ের দিন ধার্য্য করেন। সুমাইয়ার বিয়ে উপলক্ষে কেটাকাটাসহ সকল আয়োজন সম্পন্ন করা হয়। বিয়েতে আত্মীয়স্বজনরাও যথারীতি বিয়ে বাড়িতে উপস্থিত। কিন্তু বিয়েতে সুমাইয়ার মত না থাকলেও হতদরিদ্র বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে না বলার সাহস পায়নি। শিশু সুমাইয়ার বাল্য বিয়ে হচ্ছে এমন সংবাদে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা দেওয়ান খায়রুন নাহার বিয়ে বন্ধ করতে তার বাবা নিষেধ করে বাল্য বিয়ের কুফল সম্পর্কে সুমাইয়ার বাবাকে অবহিত করেন। পরে সোনা মিয়া মেয়েকে বাল্য বিয়ে না দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এদিকে অসাধু অর্থের লোভে বিয়ে পড়ানো কাজীদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোন প্রদক্ষেপ ও স্থানীয় প্রশাসনের কোন নজরদারি না থাকায় দিনদিন উপজেলাতে বাল্য বিয়ে বেড়ে যাচ্ছে।

সুমাইয়ার বাবা সোনা মিয়া জানান, নুন আনতে পান্তা ফুরায় আমাদের। মেয়েকে পড়ালেখা করানোর ক্ষমতা আমাদের নেই। গরীব অসহায় মানুষ হিসেবে কোন সুযোগ-সুবিধা আমরা পাই না। অথচ যারা বিত্তবান তারাই রিলিভ-টিলিভ পায়। আমার মেয়েও স্কুল থেকে কোন উপবৃত্তি পায় না। তাহলে আমরা গরীব মানুষ কিভাবে সন্তানদের লেখাপড়া করাবো।

মাটিকাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম জানান, সুমাইয়ার পড়ালেখার খরচ হিসেবে এস.এস.সি পর্যন্ত পরীক্ষার কোন ফিস তার কাছ থেকে নেয়া হবে না। বিনামূল্যে সে বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করতে পারবে। ব্যক্তিগত ভাবে তাকে সাহায্য সহযোগিতা করা হবে।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা দেওয়ান খায়রুন নাহার বলেন, মাটিকাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী সুমাইয়ার বৃহস্পতিবার বাল্য বিয়ের হওয়ার কথা ছিল। খবর পেয়ে মেয়ে বাবা-মা এবং মেয়েকে তলব করে বাল্য বিয়ে বন্ধ করতে বলি। বাল্য বিয়ে যাতে না দেয়া হয় সে ব্যাপারে মেয়ের বাবা প্রুতিশ্রুতি দেন এবং ক্ষমা চান।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল আওয়াল বলেন, শিক্ষাজ্ঞান ও অজ্ঞতার কারণে বাল্য বিয়ে দিকে ধাবিত হচ্ছে তারা। খুব শীগ্রই বাল্য বিয়ে রোধে উপজেলার কাজী, জনপ্রতিনিধি ও গন্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে আলোচনা করে হবে। এবং কাজীদের বিরুদ্ধে বাল্য বিয়ে দেয়ার অপরাধে শাস্তি প্রদান করা হবে।

ফেসবুক মন্তব্য