ঢাকা মঙ্গলবার, নভেম্বর ২০, ২০১৮

Mountain View



ঘাটাইলে চলছে লেবুর আধিপত্য, হয়রানী নির্যাতনের শিকার আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ

Print Friendly, PDF & Email

নিজস্ব প্রতিনিধি : “জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের সৈনিক বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত শামসুর রহমান খানের হাত ধরে আওয়ামীলীগের রাজনীতি শুরু করেছিলাম ঘাটাইলের মাটিতে। যুগ যুগ ধরে সুনামের সাথে রাজনীতি করে আসছি। কখনো কারো থেকে অপমানিত হওয়া তো দুরের কথা অসম্মানিত হইনি। কিন্তু বর্তমানে আওয়ামীলীগের কাছেই নির্যাতনের স্বীকার হচ্ছি। ঘাটাইলের আওয়ামীলীগের রাজনীতি বলতে কিছু নেই, যা চলছে তা শহীদুল ইসলাম লেবুর সন্ত্রাসী কর্মকান্ড। তার নেতৃত্বে আমার দোকানে হামলা করা হয়েছে, আমার লোকজনকে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে, আমাকে হুমকি দেয়া হয়েছে। এটা একজন আওয়ামীলীগ কর্মী হিসেবে মেনে নিতে পারছি না”- এভাবেই আক্ষেপ করে কথাগুলো বলছিলেন ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক বর্তমান সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক এস্কান্দার হক।

11823051_1644250892484917_4314161131434156251_o

ভাংচুর করা হয়েছে আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা ব্যানার

গত ২৯ আগস্ট হামলা করা হয় সাড়রদীঘি এলাকায় এমপি রানা সমর্থিত প্রবীণ আওয়ামীলীগ নেতা এস্কান্দর হকের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে। দোকানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়। পিটিয়ে আহত করা হয় দোকানের দুজন কর্মচারীকে। পরে তাদের গুরুতর আহত অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। এ বিষয়ে এস্কান্দর হক শহীদুল ইসলাম লেবুকে অভিযুক্ত করে বলেন, লেবু উপজেলা পরিষদ নির্বাচনসহ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হেরে গিয়ে আওয়ামীলীগ থেকে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। স্থানীয় সাংসদ আমানুর রহমান খান রানার জনপ্রিয়তা তার সহ্য হচ্ছে না। তাই এমপি রানার অনুপস্থিতিতে ক্ষমতা দখলের লোভে আওয়ামীলীগ সমর্থকদের উপরই হামলা-মামলা করে নির্যাতন চালাচ্ছে।।

জানা যায়, টাঙ্গাইলে মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন থাকায় ঘাটাইলের স্থানীয় সাংসদ আমানুর রহমান খান রানা দীর্ঘদিন এলাকায় আসেন নি। তাঁর অনুপস্থিতে ঘাটাইলে আধিপত্য বিস্তার করার লক্ষ্যে আওয়ামীলীগ নেতা লেবু এমপি রানা সমর্থকদের উপর নানা ভাবে নির্যাতন করে যাচ্ছে। এমপি সমর্থক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আরিফ হোসেনের অফিস কক্ষ, ছাত্রলীগের কার্যালয় ভাংচুরসহ উপজেলা চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম সামুকে প্রাণনাশের হুমকিও প্রদান করেন তিনি। এ ব্যাপারে নজরুল ইসলাম সামু টাঙ্গাইলে আমলী আদালতে দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলাও দায়ের করেন।

উপজেলা ছাত্রলীগের কার্যালয়ে ভাংচুর করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবি

“উপজেলা ছাত্রলীগের কার্যালয়ে ভাংচুর করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবি”

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক স্থানীয় আওয়ামলীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী অভিযোগ করে বলেন, ঘাটাইলে আওয়ামীলীগের বড় শত্রু এখন আওয়ামীলীগ। শহীদুল ইসলাম লেবুর অত্যাচারে ভালো নেই স্থানীয় আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা। উপজেলা আওয়ামীলীগের এই নেতা স্থানীয় সাংসদ রানার অনুপস্থিতে ঘাটাইলে তার ত্রাসের রাজত্ব কায়েমে মরিয়া হয়ে উঠেছে। দলীয় কর্মকান্ডের নামে তার নেতৃত্বে ঘাটাইলে চলছে সন্ত্রাসী কার্যক্রম। এমপি রানা সমর্থক আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দের উপর নির্যাতন, হামলা মামলার মাধ্যমে কোনঠাসা করে রেখেছে।

তারা জানায়, গত ২৯ জুলাই ফারুক হত্যার বিচার দাবীতে প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে লেবু। প্রতিবাদ সমাবেশ থেকেই আধা-জল খেয়ে মাঠে নামে লেবু। ঐদিনই ভাংচুর করা হয় বঙ্গবন্ধুর ছবি সম্বলিত ঘাটাইলের আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দের শুভেচ্ছা ব্যানার, বিলবোর্ড। এমপি রানা সমর্থকদের বিরুদ্ধে স্লোগান দেয়াসহ ভয়ভীতি দেখানো হয় বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের।

ফারুক হত্যার বিচার দাবীতে প্রতিবাদ সভার আয়োজনে লেবু ঘাটাইলের রানা সমর্থিত ব্যবসায়ীদের থেকে মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায় করেছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

সরেজমিনে গিয়ে আরও জানা যায়, ৩০ জুলাই সন্ধানপুর ইউনিয়নের যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক গিয়াস বাবুকে টিলাবাজার নামক এলাকায় আক্রমণ করে লেবুর বাহিনী। গুরুতর আহত অবস্থায় বাবুকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়। ঐদিন সন্ধ্যায়, ঘাটাইলে আতঙ্ক সৃষ্টির লক্ষ্যে মোটরসাইকেল মিছিল করে এমপি রানার বিরুদ্ধে ঝাজালো স্লোগান দিতে থাকে। পরে পৌরসভা এলাকায় অবস্থিত ৩ নং জামুরিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আ’লীগ নেতা শহীদুল ইসলাম খান হেস্টিংস এর কার্যালয়ে হামলায় চালায় লেবু সমর্থিত কর্মীরা। ১লা আগস্ট, লেবু ক্যাডাররা হামলা চালায় ঘাটাইল উপজেলা ছাত্রলীগের অফিসে। শোকের মাসে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবিসহ অফিসের আসভাবপত্র ভাংচুর করে।

11796404_860438680716325_8567838146325271668_n

হামলার শিকার ছাত্রলীগের নেতা আবু হানিফ

এসময় অফিসে থাকা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আবু হানিফ, তাপস ও তুহিনের উপর হামলা করে। আবু হানিফ এতে গুরুতর আহত হয়। ৩ আগস্ট, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আরিফ হোসেনের অফিস ভাংচুর করে। এসময় উপজেলা চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতে তাকে উপজেলা পরিষদে প্রবেশ না করতে হুমকি দেয়া হয়। ৪ আগস্ট, উপজেলা চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান থানায় মামলা করতে গেলে অপারগতা প্রকাশ করে ওসি। ৫ আগস্ট, বঙ্গবন্ধুর ও শেখ হাসিনার ছবি ভাঙচুরের প্রতিবাদে ঘাটাইলে প্রতিবাদ সমাবেশ ডাকলে পুলিশ ঘাটাইল অভিমুখি সকল রাস্তায় বেরিকেড দিয়ে এমপি সমর্থিত নেতাকর্মীদের ঘাটাইলে ঢুকতে বাধা দেয়। সর্বশেষ লেবুর নেতৃত্বে হামলা করা হয় সাড়রদীঘিতে ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক যুব ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক, এমপি রানা সমর্থিত প্রবীণ আওয়ামীলীগ নেতা ইস্কান্দর হকের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে।

৩ নং জামুরিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক, সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য আ’লীগ নেতা শহীদুল ইসলাম খান হেস্টিংস এর কার্যালয়ে হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে, তিনি জানান ঐদিন ১৫-২০ টি মোটর সাইকেল নিয়ে লেবু সমর্থক কর্মীরা মিছিল করে। এসময় এমপি রানা ও আমার বিরুদ্ধে অকথ্য ভাষায় স্লোগান দেয় এবং আমার অফিসে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।

তিনি আরও জানান, ঘাটাইলে শহীদুল ইসলাম লেবু তার সন্ত্রাসের রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। বিএনপি-জামায়াত শিবিরের সাথে আতাত করে তিনি আওয়ামীলীগের উপরই নির্যাতন করছে এতে এমপি রানা, আওয়ামীলীগ ও প্রধানমন্ত্রীর ভাবমুর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুন্ন হচ্ছে। ঘাটাইলে এমপি রানার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে লেবু বিএনপি জামায়াত শিবিরের কর্তৃত্ব ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। তিনি আফসোস করে বলেন, গাড়ীতে পেট্রোল বোমা হামলা করা চার্জশিটভূক্ত আসামীদের ব্যানার ফেস্টুনে সয়লাভ হয়ে গেছে ঘাটাইল অথচ ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের ব্যানার ফেস্টুন ভাংচুর করে উপড়ে ফেলেছে লেবুর বাহিনী। এটা সত্যিই লজ্জার ও দুঃখের।

ঘাটাইলের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে কথা হয় উপজেলা চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান সামুর সাথে। তিনি বলেন, ঘাটাইলে এখন সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চলছে। একটি সন্ত্রাসী বাহিনী ঘাটাইলে অতীতে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। তাদের পতন ঘটাতেই ঘাটাইলের মানুষ ভালোবেসে আমানুর রহমান খানকে সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত করেছে। কিন্তু এমপি রানা বর্তমানে অন্তরালে থাকায় আবারও মরিয়া হয়ে উঠেছে তারা। শহীদুল ইসলাম লেবু তার আসল রুপে ফিরে এসেছে। আমাদের কিছুই করার নেই। হামলার শিকার হচ্ছি, আইনি সহযোগিতা পাচ্ছি না। থানা পুলিশও আজকাল লেবুর বাহিনীর কর্মী।

এসব বিষয়ে আওয়ামীলীগ নেতা শহীদুল ইসলাম লেবুর সাথের মুঠোফোনে কথা বললে, তিনি নিজেকে ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামীলীগের আহ্বায়ক দাবী করে বলেন, ঘাটাইলে আমার কর্মীরা কোনো ভাংচুর বা হামলার ঘটনা ঘটায়নি। আগস্ট জুড়ে আমার কর্মীরা জাতীয় শোক দিবসসহ মাসজুড়ে দলীয় কর্মকান্ড পালন করেছে। যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনা। এর দায়ভার আমার না। উপজেলা পরিষদ ভাংচুরের ঘটনায় উপজেলা চেয়ারম্যান যে মামলা দায়ের করেছিলেন, তা স¤পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

আওয়ামীলীগ নেতা এস্কান্দর হকের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এস্কান্দর আওয়ামীলীগের কোনো নেতা না। তিনি এমপি রানার নিজস্ব লোক।

ফেসবুক মন্তব্য