ঢাকা বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৫, ২০১৮

Mountain View



সখীপুরে ডাকাত আতঙ্কঃ রাত জেগে পাহারা দিল গ্রামবাসী

Print Friendly, PDF & Email

ইসমাইল হোসেন, সখীপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধিঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে ডাকাত আতঙ্কে মাইকে মাইকে সতর্কবার্তা প্রচার করে নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন উপজেলাবাসী। শনিবার রাত সাড়ে সাতটার পর থেকে সখীপুরে স্বশস্ত্র ডাকাত দল প্রবেশের একটি খবর মুহূর্তের মধ্যে মোবাইল ও ফেসবুকের মাধ্যমে পার্শ্ববর্তী উপজেলাসহ দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক দেখা দেয়। উপজেলার সর্বত্র হইচই করে রাতব্যাপি দলবেঁধে নিজ নিজ এলাকা পাহারা দেন। এ খবরে প্রশাসনের পÿ থেকেও উপজেলার প্রবেশদ্বারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে পুলিশি তৎপরতাও বাড়ানো হয়।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে অজ্ঞাত একটি নম্বর থেকে সখীপুর থানার সরকারি নম্বরে ফোন দিয়ে জানানো হয় যে প্রাইভেট কারযোগে একদল সশ্বস্ত্র ডাকাত আপনার এলাকায় ঢুকেছে। এরা রাতে উপজেলার যেকোন স্থানে ডাকাতির ঘটনা  ঘটাবে।
এ খবরটি পুলিশ উর্ধ্বতন কর্তৃপÿকে জানিয়ে উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে পুলিশি তৎপরতা বাড়িয়ে দেন। অন্যদিকে বিভিন্ন ইউপি চেয়ারম্যানদের ফোন করে সতর্ক থাকতে বলা হলে তারা এলাকার মসজিদে মসজিদে মাইকে সতর্কবার্তা প্রচার করেন। তাছাড়া ফেসবুকেও প্রচার করা হয় নানা রকম সতর্কবার্তা। এতে উপজেলার সর্বত্র গুজব, আতঙ্ক ও ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ফেসবুক ও মোবাইলের মাধ্যমে  পার্শ্ববর্তী উপজেলাসহ দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়ে। এলাকাবাসী হইচই করে রাতব্যাপি অজানা আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটান। সারারাত ব্যাপি দেশ-বিদেশ থেকে ফোনে আপডেট জানতে চাওয়া হয়। তবে শেষ পর্যন্ত কোন অঘটন ঘটেনি।

উপজেলা ভাইস চেয়াম্যান ছবুর রেজা বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তাঁর কাছেও বিভিন্ন এলাকা থেকে ডাকাত আতঙ্কের ফোন আসলে জনসাধারণকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেই। গজারিয়া ইউপি চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান তালুকদার ও দাড়িয়াপুর ইউপি চেয়ারম্যান শাইফুল ইসলাম শামীম বলেন, থানা থেকে খবরটি পেয়ে এলাকায় মসজিদের মাইকে মাইকে সতর্ক থাকার ঘোষণা দেওয়া হয়।

সখীপুর থানার ওসি (তদন্ত) মাকছুদুল আলম বলেন, অজ্ঞাত একটি ফোন কল পেয়ে বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপÿকে জানানো হয়। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপজেলার প্রবেশদ্বারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

টাঙ্গাইলের সহকারি পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) হাফিজ আল আসাদ বলেন, খবরটি নিতান্তই গুজব ও বিভ্রান্তিমূলক ছিল। তারপরও বিষয়টি পুলিশ প্রশাসন গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছে।

ফেসবুক মন্তব্য