ঢাকা বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৫, ২০১৮

Mountain View



ভারতীয় গরু আমদানিতে দেশীয় গুরু ব্যবসায়ীরা বিপাকে

Print Friendly, PDF & Email

Miezapur pic 17-09-2015শাহ্ সৈকত মুন্না, মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধিঃ  মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের দেওহাটা পশুর হাটে প্রচুর পরিমাণে ভারতীয় গরু আসতে শুরু করেছে। দেশি গরুর পাশাপাশি ভারতীয় গরু আমদানি করায় ভারতীয় গরুতে ভরছে হাট। আর এ কারনে দেশীয় গরু ব্যবসায়ীরা বিপাকে পরেছেন। সাপ্তাহিক পশুর হাট বসে মঙ্গলবার বিকালে ওই হাটে সরেজমিনের গিয়ে প্রচুর সংখ্যক দেশীয় গরুর পাশাপাশি ভারতীয় গরুর আমদানি লক্ষ করা গেছে।

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক থেকে আধা কিলোমিটার দক্ষিণে মীর দেওহাটা গ্রামের ভেতরে অবস্থিত এই হাটে যাতায়াত ব্যবস্থার তেমন সুযোগ সুবিধা না থাকলেও ব্যাপক হারে কোরবানির পশু আমদানী হচ্ছে। হাটটিতে সর্বোচ্চ পৌনে লাখ থেকে সর্বনিন্ম ২৫ হাজার টাকায় গরু বিক্রি হতে দেখা গেছে। তবে কেনা বেচা এখনও তেমন জমে উঠেনি বলে গরু ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।

দেওহাটা পশুর হাট ইজারা কমিটির অন্যতম সদস্য মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন  এই হাটে লক্ষাধিক কোরবানির পশু আমদানি এবার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।  সিরাজগঞ্জ থেকে গরুর ব্যবসায়ী জাফর মিয়া জানান, ভারত থেকে গরু আনতে কোনো অসুবিধা হচ্ছে না।

তিনি একাই ২৮টির মতো ভারতীয় গরু নিয়ে হাটে এসেছেন। যশোর জেলার বেনাপোল থানার নাভারনের রাজ্জাক সিকদার জানান, তারা প্রায় শতাধিক গরু নিয়ে হাটে এসেছেন। পথে ভারত থেকে গরু আসতে কোন বড় ধরনের বাধা আছে কি না জানতে চাওয়া হলে তারা জানান, অন্যান্য বছরের মতো একই পথে এবারও প্রচুর গরু আসতেছে।

অন্যদিকে ভারতীয় গরুর দাপটে দেশীয় গরুর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বিপাকেই আছেন বলে কয়েক জনের সাথে হাটে আলাপ হয়। তেমনি একজন লতিফপুর ইউনিয়নের যোগীর কোফা গ্রামের  সিদ্দিক দেওয়ান বলেন আমার একটি ষাড়ের পিছনে এক বছরে প্রায় চল্লিশ হাজার টাকা খরচ হয়েছে মনে হয় যে টাকা বিক্রি করতে পারতাম তা আর সম্ভব হবে না ভারতীয় গরুর কারনে দেশী গরুর দাম কমে যাবে। ঈদ যতই ঘনিয়ে আসবে বেঁচা কিনা বারবে বলে গরুর বেপারীদের দারনা।

তবে আমদানির তুলনায় বেচাকেনা তেমন জমে উঠেনি বলে তারা জানান। গরু নিয়ে আসতে মহাসড়কে কোন চাঁদাবাজি আছে কিনা তা জানতে চাওয়া হলে তারা জানান, শেরপুরের আগ পর্যন্ত প্রতি স্টেশনে গাড়ি প্রতি দুইশত টাকা করে চাঁদা দিতে হয়েছে।

শেরপুর-জামালপুরের  পর  টাঙ্গাইলের মির্জাপুর পর্যন্ত আসতে মহাসড়কের কোথাও চাঁদা দিতে হয়নি। মির্জাপুর উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. শামসুর রহমান জানিয়েছেন। ব্যবসায়ীরা যাতে কোরবানির পশু মোটা তাজা করণসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার করতে না পারে তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে ।

ফেসবুক মন্তব্য