ঢাকা মঙ্গলবার, নভেম্বর ২০, ২০১৮

Mountain View



আগামীকাল ভাগ্য নির্ধারণ॥ কে পাচ্ছেন আওয়ামী লীগের টিকিট?

Print Friendly, PDF & Email

মুহা. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি : বহুল আলোচিত টাঙ্গাইল-৪(কালিহাতী) সংসদীয় আসনে উপ-নির্বাচনে দলীয় ১৯ প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারনের দিন আজ(৬ অক্টোবর)। গণভবনে আজ ৬ অক্টোবর সন্ধ্যা সাতটায় আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হবে এবং মনোনয়ন প্রত্যাশী ১৯ প্রার্থীর সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানের পর দলের প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে।

Tangail-4(kalihati)-election photo

এর আগে গণভবনে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে দলের পার্লামেন্টারি বোর্ডের সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক টাঙ্গাইল-৪(কালিহাতী) আসনের উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ১ ও ২ অক্টোবর আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডিস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে ২৫ হাজার টাকা জমা দিয়ে ১৯ জন প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেন এবং ৩ অক্টোবর মনোনয়নের আবেদনপত্র একই কার্যালয়ে জমা দেন।

দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে জমা দেয়া প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা টাঙ্গাইল মুক্তিবাহিনীর অন্যতম সংগঠক ও কাদেরীয়া বাহিনীর বেসামরিক প্রধান আনোয়ার উল আলম শহীদ, কালিহাতী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি ব্যবসায়ী আবুল কাশেম আহমেদ, কালিহাতী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোজহারুল ইসলাম তালুকদার (ঠান্ডু), বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক ও কালিহাতী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ হাসান ইমাম খান সোহেল হাজারী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক এবং এফবিসিসিআই ও জনতা ব্যাংকের পরিচালক আবু নাসের, টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী যুবলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক আলহাজ আনোয়ার হোসেন মোল্লা, জেলা যুব মহিলা আওয়ামীলীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সাবিনা ইয়াসমিন, আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক জাফরুর শাহরিয়ার জুয়েল, কালিহাতী পৌর মেয়র ও উপজেলা সাধারণ সম্পাদক আনসার আলী, কালিহাতী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শ্রমিক নেতা অ্যাডভোকেট মহসিন সিকদার, বাংলাদেশ আওয়ামী সাস্কৃতিক ফোরামের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা লায়ন মো. নজরুল ইসলাম প্রমুখ। প্রার্থীত ১৯ জনের মধ্যে কে পাচ্ছেন আওয়ামীলীগের টিকিট এ নিয়ে নির্বাচনী এলাকায় চলছে ব্যাপক গুঞ্জন, চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

সরেজমিনে গত ৪ ও ৫ অক্টোবর কালিহাতী উপজেলার দুটি পৌরসভা ও ১৩ টি ইউনিয়নের বিভিন্ন ক্যাটাগরি ও বয়সের নেতা-কর্মীদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, আসন্ন উপ-নির্বাচনকে ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে একদিকে উৎফুল্লতা অন্যদিকে লতিফ সিদ্দিকীর অনুপস্থিতির ক্ষত লক্ষ্য করা গেছে। লতিফ সিদ্দিকীর অনুপস্থিতিতে কার্যত ত্রি-ধারায় বিভক্ত আ’লীগ নেতাকর্মীদের সংগঠিত রাখতে তিন গ্রুপের নেতৃত্ব মোজহারুল ইসলাম তালুকদার, আলহাজ হাসান ইমাম খান সোহেল হাজারি ও আবু নাসেরের বাইরে যোগ্যতর প্রার্থীকে দলীয় মনোনয়নের পক্ষে অধিকসংখ্যক নেতাকর্মীরা মতামত ব্যক্ত করেন। এ তিন নেতার যে কাউকে মনোনয়ন দেয়া হলে দলীয় বিশৃঙ্খলা-হানাহানির সমুহ সম্ভাবনা রয়েছে বলে দাবি তাদের। তারপরও তাদের নেতা লতিফ সিদ্দিকীর নির্দেশনা অনুযায়ী দলীয় প্রার্থীর পক্ষে নেতাকর্মীরা যার যার অবস্থান থেকে কাজ করবেন বলে জানান তারা।

উপজেলা ও জেলার রাজনৈতিক বোদ্ধারা জানান, দলীয় মনোনয়ন দৌঁড়ে টাঙ্গাইল মুক্তিবাহিনীর অন্যতম সংগঠক ও কাদেরীয়া বাহিনীর বেসামরিক প্রধান আনোয়ার উল আলম শহীদ, কালিহাতী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি ব্যবসায়ী আবুল কাশেম আহমেদ, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক ও কালিহাতী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ হাসান ইমাম খান সোহেল হাজারি অন্যদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন বলে শোনা যাচ্ছে। নির্বাচনের মাঠেও তাদের অবস্থান মজবুত। তারা মনে করেন, কৃষক শ্রমিক জনতালীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর মতো হেভিওয়েট প্রার্থীর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয় ছিনিয়ে আনা অত্যন্ত কঠিন। তাঁর বাড়িও কালিহাতী উপজেলায়। যদিও আসনটি মহান মুক্তিযুদ্ধের দুই দিকপাল লতিফ সিদ্দিকী ও শাজাহান সিরাজকে ঘিরে আবর্তিত, শাজাহান সিরাজ অসুস্থতার কারণে রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় আর লতিফ সিদ্দিকী হজ নিয়ে বক্তব্য দিয়ে আওয়ামীলীগ থেকে ছিটকে পড়ে প্রবাসে। লতিফ সিদ্দিকীর সাথে তার অনুজ কাদের সিদ্দিকীর রাজনৈতিক মতবিরোধও রয়েছে। তাঁর অনুপস্থিতির সুযোগে বঙ্গবীর বড় ভাইয়ের কর্মী-সমর্থকদের দলে টানতে নানা কৌশল অবলম্বন করছেন। সভা-সমাবেশে তার বহিঃপ্রকাশও ঘটছে। দলীয় মনোননয়ন না পেলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে হাসান ইমাম খান সোহেল হাজারি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন বলে নির্বাচনী মাঠে প্রচারণা আছে। সে কারণে টাঙ্গাইল-৪(কালিহাতী) আসনে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করতে আওয়ামীলীগ দূরদর্শীতার পরিচয় দেবে বলেই তাদের বিশ্বাস।

এদিকে, দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নির্বাচনী মাঠে যতোখানি না সময় ব্যয় করছেন তারচেয়ে বেশি সময় ব্যয় করছেন আওয়ামী লীগের টিকিট পেতে। বিগত ৫ জানুয়ারি সহ অনুষ্ঠিত কয়েকটি নির্বাচনে জনমনে প্রশ্ন থাকায় প্রার্থী এবং সাধারণ মানুষ মনে করছেন আওয়ামী লীগের টিকিট মানেই এমপি।

দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততোই বাড়ছে নির্বাচনী আমেজ। এ পর্যন্ত এ আসনে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ও একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী নিজেদের প্রার্থীতা ঘোষণা করলেও বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ অন্য কোন রাজনৈতিক দল নিজেদের কোন প্রার্থীতা ঘোষণা করেনি।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ১০ নভেম্বর টাঙ্গাইল-৪ আসনের উপ-নির্বাচনের ভোট গ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে। সে লক্ষে নির্বাচনে প্রার্থী হতে আগ্রহীরা ১১ অক্টোবর পর্যন্ত মনোনয়নপত্র দাখিলের সুযোগ পাবেন। ১৩ অক্টোবর হবে যাচাই-বাছাই। ২১ অক্টোবর পর্যন্ত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা যাবে।

এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৭৭ হাজার ৮২০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৩৬ হাজার ৩৪৭, মহিলা ভোটার ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৭৩ জন। ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১০৭টি।

প্রকাশ, টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। হজ নিয়ে মন্তব্যের কারণে ছিটকে পড়েন আওয়ামী লীগের রাজনীতি থেকে। এরপর ১ সেপ্টেম্বর সংসদে আবেগময় ও ঐতিহাসিক এক বক্তৃতা দিয়ে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী। এর দুই দিনের মাথায় স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ওই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে আসনটি শূন্য ঘোষণা করেন। সেই শূন্য আসনের উপ-নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে অন্য প্রার্থীদের পাশাপাশি সরকার দলীয় প্রার্থীদের তোড়জোড় আর পদচারনায় মুখরিত হয়ে উঠেছে নির্বাচনী এলাকা।

ফেসবুক মন্তব্য