ঢাকা শুক্রবার, মে ২৪, ২০১৯

Mountain View



শীতে শ্বাসকষ্টের কারণ ও করণীয়

Print Friendly, PDF & Email

কৃষিবিদ মো. হামিদুল ইসলাম : একটু ভেবে বলুন তো- বাতাসে ভেসে বেড়ানো সবচেয়ে বড় ধুলিকণার পরিমাপ কতটুকু! ভাবতে কষ্ট হচ্ছে এই তো । আচ্ছা বলছি। আপনার মাথার একটি চুলের ৫ থেকে ৭ গুন ছোট হচ্ছে একটি বড় ধুলিকণার পরিমাপ। যাকে বলা হয় পিএম ১০ ( পার্টিকুলেট ম্যাটার ১০ )। আর ছোট কণার ( ফাইন পার্টিকেল ) এর পরিমাপ ২.৫ মাইক্রণ বা পিএম ২.৫ যা ধোঁয়াতে পাওয়া যায়।

aaa

ইউএস ইপিএ ( ইউনাইটেড স্টেটস এনভায়রণমেন্টাল প্রোটেকশন এজেন্সি )’র ১৪ ডিসেম্বর ২০১২ সালের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া ও আরিজোনায় কৃষি কাজের ফলে উৎপন্ন ধুলায় এই পিএম ১০ দূষণের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি । এই সমস্ত কণা শ্বাসের মাধ্যমে সহজেই ফুসফুসের গভীরে পৌঁছে এবং সামান্য পরিমাণে রক্তেও ( ব্রাডস্ট্রীমে ) প্রবেশ করে। ফলে হৃৎপিন্ড ও ফুসফুসের রোগসহ অকালমৃত্যু হতে পারে। শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায় কয়েকগুন। অ্যাজমা, অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন, হার্ট অ্যাটাক, কফ্ এবং ফুসফুসের কর্মক্ষমতা হ্রাস পায়। অষ্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস ইউনিভার্সিটির প্রফেসর বার্নার্ড স্টুয়ার্ট বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার( ডব্লিউএইচও ’র ) এক প্রতিবেদনে বলেন, ‘প্রতিরোধযোগ্য ক্যান্সারের মূল কারণের মধ্যে বায়ুদূষণ অন্যতম’।

আর এই বায়ুদূষণের মাত্রা সবচেয়ে বেশি বেড়ে যায়- শীতকালে। কারণ, শীতের এই সময় প্রায় ১২০ দিন শুষ্ক থাকে। এই শুষ্ক আবহাওয়ায় যানবাহন চলাচলের ফলে কিংবা হালকা বাতাসের মাধ্যমে সহজেই ধুলিকণা একস্থান হতে অন্যস্থানে যায়। কৃষি কাজের ফলেও এই সময় প্রচুর ধুলার সৃষ্টি হয়। বড় বড় কনস্ট্রাকশনের কাজ , রাস্তা তৈরির কাজ, ইটের ভাটায় ইট তৈরির কাজ কিংবা ইট ভাঙ্গার কাজ এই শীতকালেই বেশি হয়। সারাদেশের প্রায় ১০ হাজার ইটভাটা এবং এর কয়েকগুন রাইস মিল আছে যা হতে উৎপন্ন ধোঁয়া শীতকালে বাতাসে মিশে বাতাসকে তীব্রভাবে দূষিত করে। আর এই দূষিত বাতাস গ্রহণের ফলে শ্বাসকষ্ট অনেকাংশে বেড়ে যায়। বিশেষ করে অ্যাজমা এবং সিওপিডি ( ক্রনিক অবষ্ট্রাকটিভ পালমোনারী ডিজিজ ) রোগীদের শ্বাসকষ্টের মাত্রা তীব্র থেকে আরও তীব্রতর হয়। শ্বাসকষ্টের আরেকটি অন্যতম কারণ হল- পুষ্পরেণু বা পোলেন গ্রেইন। যা শীতকালে শুষ্ক বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। দূঃখজনক এই যে, আমাদের দেশে আশির দশকে দাতা সংস্থাদের চাপিয়ে দেওয়া অ্যাকাশিয়ার রোড সাইড প্লান্টেশনের মাধ্যমে অ্যাফরেষ্টেশনের ( স্ট্রীপ ফরেষ্টের ) ফলে বাতাসে পরাগরেণু ছড়িয়ে বাতাসকে করছে দূষিত। এ সমস্ত পরাগরেণু হালকা এবং খসখসে হওয়ায় তা সহজেই বাতাসের মাধ্যমে দূর-দূরান্তে ছড়িয়ে পড়ে। তাছাড়া বিভিন্ন ধরণের অ্যালার্জেন যেমন- ঘরের আসবাবপত্র, পুরনো ফাইল ও বইপুস্তকে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ধুলা, রান্না ঘরের ধোঁয়া ও ঝুল, ঘরের চুনকাম, মাইটস ( অর্থোপড ইনসেক্ট ) এর মল, রাস্তার ধুলাবালি ও ধোঁয়া ইত্যাদি অ্যালার্জিক বিক্রিয়া করে- যা তীব্র শ্বাসকষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই আসুন, আমরা ধুলাবালি এড়িয়ে চলি- শ্বাসকষ্ট কমিয়ে ফেলি।

জেনে রাখিঃ
ধুলাবালি ও ধোঁয়া থেকে রক্ষার জন্য মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। মাস্ক যথাসম্ভব নাকে ও মুখে ভালোভাবে সেঁটে দিতে হবে যেন কোন ফাঁক না থাকে। একজনের ব্যবহৃত মাস্ক কোন অবস্থাতেই অন্যজনে ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে। কানের ফিতা (ইয়ার লুপ) যেন টাইট না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। মাস্ক সব সময় পরিস্কার (ওয়ান টাইম ছাড়া) রাখতে হবে। আইওয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির এক্সটেনশন সেফটি স্পেশালিষ্ট চালর্স ভি. স্কুয়াব এর মতে- এক পর্দার চেয়ে দ্বিপর্দা (বাই লেয়ার) মাস্ক বা ডুরাবল রেসপিরেটর ভাল। কারণ ইহা পানিতে পরিস্কার এবং সংরক্ষণ করা সহজ।

ফেসবুক মন্তব্য