ঢাকা শনিবার, নভেম্বর ১৭, ২০১৮

Mountain View



গোপালপুরে শ্লীলতাহানির পর প্রবাসির স্ত্রীকে একঘরে করে রাখার অভিযোগ

Print Friendly, PDF & Email

কে এম মিঠু, গোপালপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা :এক প্রবাসির স্ত্রী রোকসানা বেগম। বাড়ি গোপালপুর উপজেলার নগদাশিমলা ইউনিয়নের বাইশকাইল আটাপাড়া গ্রামে। স্বামী বাবুল হোসেন সৌদি প্রবাসি। দুই শিশু পুত্র রকিবুল আর গোলাম রাব্বিকে নিয়ে একা বাড়ি থাকেন। সকালে ছেলেরা স্কুলে গেলে খোঁজখবর নেয়ার অছিলায় নির্জন বাড়িতে হাজির হয় পড়শি আব্দুস সাত্তারের বখাটে পুত্র শাহীন। নানা ছুঁতায় বেশ কবার কুপ্রস্তাবও দেয়। রোকসানা প্রত্যাখ্যান করলে শাহীন ক্ষুব্দ হয়। গত ১২ মে শাহীন অনাহূতভাবে ঘরে ঢুকে বিছানায় অগোছালো ভাবে বিশ্রামরত রোকসানার অশোভন ছবি নেয় মোবাইলে। রোকসানা ভৎসর্ণা করলে শাহীন তাকে শিক্ষা দেয়ার হুমকি দিয়ে চলে। পরদিন রোকসানার ছবি কম্পিউটারে সুপার ইম্পোজ করে তা পর্ণোতে রুপ দেয় শাহীন। এরপর গ্রামের ছেলেবুড়ো সবার মোবাইলে ব্লুটুথের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয় ওই ছবি।

রোকসানা ও স্কুল পড়–য়া দুই সন্তান

রোকসানা ও স্কুল পড়–য়া দুই সন্তান

রোকসানার অভিযোগ, এরদুদিন পর বখাটে শাহীন বাড়িতে এসে ভয় দেখায় লালসা পূরণের সুযোগ না দিলে ওই কথিত পর্ণো ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়া হবে। প্রবাসি স্বামীর কাছে ওই ছবি পাঠিয়ে তার ঘর ভেঙ্গে দেয়া হবে। এ নিয়ে তর্কবিতর্ক হলে শাহীন ও তার দলবল গত ১৪ মে রোকসানাকে মারপিট করে। আহত রোকসানা প্রতিকার পাওয়ার আশায় গোপালপুর থানায় অভিযোগ দিতে যান। থানার দারোগা উত্তম কুমার ভাট মামলা নেয়ার আশ্বাস দিয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন। দুদিন হাসপাতালে থেকে চিকিৎসা নিয়ে থানায় গিয়ে মামলা দিতে চাইলে আওয়ামী নামধারি থানার দুই দালাল দারোগা উত্তম কুমার ভাটের যোগসাজেশে আপোষরফার নামে মামলা করা থেকে কৌশলে রোকসানাকে বিরত রাখে। এর দুদিন পর ওই চক্র লিখিত সালিশী বৈঠকের মাধ্যমে বখাটে শাহীনকে সামান্য ভৎসর্ণা করে ঘটনা ধামাচাপা দেয়। সহজসরল রোকসানা এ ঘটনা ভুলে গেলেও শাহীন গং ভুলে যায়নি।

গত ২৩ মে গভীর রাতে শাহীন তার দুই সঙ্গী একই গ্রামের মান্নানের পুত্র মমিনুর এবং হাসু মিয়ার পুত্র ময়নালের সহযোগিতায় ঘরে ঢুকে রোকসানার শ্লীলতাহানি করে। দুই শিশু পুত্রের বুদ্ধিমত্তায় রোকসানা প্রাণে রক্ষা পায়। থানার দারোগা উত্তম কুমার ভাট কর্তৃক আইনগত সেবা দেয়ার ইতিপূর্বের অভিজ্ঞতা মনে থাকায় রোকসানা এবার থানায় নয় প্রতিকার পাওয়ার আশায় গত ২৭/০৫/২০১৫ তারিখে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল আদালতে মামলা দেন। (মামলা নং-১০৯/২০১) আদালতের বিজ্ঞ হাকিম শরীফ উদ্দীন আহমেদ গত ১৪/৬/১৫ তারিখে অভিযোগের সত্যতা নিরুপনে সরেজমিন তদন্ত করে রিপোর্ট দেয়ার জন্য গোপালপুর উপজেলা সমাজসেবা অফিসারকে দায়িত্ব দেন।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাহবুবুল আলম খাসনবীশ যথাযথ নিয়মে সরেজমিন তদন্ত শেষে গত ২৫/৬/২০১৫ তারিখে বিজ্ঞ আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। ওই তদন্ত প্রতিবেদনে ঘটনার রাতে শাহীন গংদের হাতে অসহায় রোকসানার শ্লীলতাহানির নির্মম বর্ণনা দেয়া হয়। সম্প্রতি এ মামলায় জামিন পায় শাহীন গং। গত ২৫ সেপ্টেম্বর ঈদুল আজহার সময় গ্রামের কজন মাতব্বর ও ফতোয়াবাজের সহযোগিতায় চরিত্রহীন আখ্যা দিয়ে রোকসানাকে সামাজিকভাবে বয়কট বা আটক দেয়ার ঘোষনা দেয় শাহীন গং। ফলে ঈদুল আজহার সময় রোকসানাকে কোরবানি দিতে দেয়া হয়নি। এতেও শাহীনরা ক্ষান্ত হয়নি। গত ২৯ সেপ্টেম্বর রোকসানার বাড়িতে দলবল নিয়ে তারা চড়াও হয়। মামলা তুলে না নিলে স্কুল পড়–য়া দুই ছেলেকে অপহরণ এবং তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যায়। এমতাবস্থায় রোকসানা জানমালের নিরাপত্তা চেয়ে গত ৬ অক্টোবর গোপালপুর থানায় জিডি দায়ের করেন। (নং ১৮৮, তারিখ-০৬.১০.১৫)।

কিন্তু পুলিশ এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। রোকসানা গত সোমবার ১২ অক্টোবর গোপালপুর প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মিলনে দুই সন্তান ও নিজের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশ সুপারের সুদৃষ্টি কামনা করেন।

এব্যাপারে মামলার আসামী শাহীনের সাথে যোগাযোগ করলে জানায়, রোকসানার স্বভাব চরিত্র ভালো নয়। তাকে ভালোভাবে চলার জন্য হেদায়েত করায় উল্টো মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে হয়রানি করছে। রোকসানার স্বভাবচরিত্র বিচার এবং হেদায়েত করার ক্ষমতা তাকে কে দিয়েছে? এমন প্রশ্ন করলে সে জানায় গ্রামের ভালোমন্দ দেখার দায়িত্ব থেকেই সে একাজ করেছে। গোপালপুর থানার ওসি (তদন্ত) সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, ঘটনার খোঁজখবর নেয়ার জন্য গত বৃহস্পতিবার ওই গ্রামে পুলিশ পাঠানো হয়। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে আর না ঘটে সে জন্য থানা পুলিশ সতর্ক রয়েছে।

ফেসবুক মন্তব্য