ঢাকা শনিবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৮

Mountain View



সংখ্যালঘু ও বৃক্ষ বাকপ্রতিবন্ধী

Print Friendly, PDF & Email

অধ্যাপক অমূল্য চন্দ্র বৈদ্য, অতিথি লেখক : ক’দিন আগেই আমরা দেখলাম ঢাকা অবরোধের নামে হেফাজতে ইসলাম নামের একটি দল নিমিষে শত শত গাছ কেটে রাস্তা অবরোধ করেছে। এর মধ্যে শত বছরের পুরানো গাছও রয়েছে। এ সব গাছ শুধু সৌন্দর্য বর্ধন বা ইতিহাস ঐতিহ্যের ধারকই ছিল না, এরা রক্ষা করত প্রাকৃতিক ভারসাম্য। বৃক্ষ আমাদের পরম বন্ধু। এরা আমাদের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসাসহ নির্মল পরিবেশের জোগান দেয়। এদের রক্ষণাবেক্ষণ করা প্রতিটি মানুষের কর্তব্য ও দ্বায়িত্ব। নির্বিচারে যারা গাছ কেটে রাস্তা অবরোধ করছে তারা প্রকৃতি ও পরিবেশ নষ্টকারী।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধের ইসুতে যারা সারা দেশে হাজার হাজার গাছ কেটে রাস্তাঘাট অবরোধ করছে তারা জঘন্য অপরাধী। একবার প্রকৃতি পরিবেশ নষ্ট হলে তা পুনরুদ্ধার করা যায় না। মানুষের সাথে শত্র“তা থাকলেও গাছের সাথে কারো শত্র“তা থাকাতে পারে না। আমাদের শ্বাস প্রশাসের জন্য যে অক্সিজেন নিই তা আসে এ গাছ থেকেই। এরা সবাইকে অক্সিজেন দেয়; কে শত্রুকে মিত্র না ভেবে। আমরা ৭১’ মুক্তিযুদ্ধ করে ত্রিশ লক্ষ শহীদের বিনিময়ে এই দেশ স্বাধীন করেছি। দিতে হয়েছে অনেক মা বোনকে দেশের মুক্তির জন্য ইজ্জত। পাক হানাদার ও তাদের দোসরা এদেশটাকে জ্বালিয়ে পুরিয়ে ছারখার করেছিল। আজ তাদেরই প্রেতাত্বারা গাছ কেটে দেশটাকে মরুভূমিতে পরিনত করতে চায়। আমাদের মাতৃভূমি যেন বসবাসের উপযোগী না থাকে সেজন্য তারা বৃক্ষ নিধন অভিযানে নেমেছে। ইতোমধ্যে এরা নিধন করেছে কয়েক লক্ষ গাছ। এ ধরনের অপকর্মকে প্রতিহত করা আমাদের সকলের দ্বায়িত্ব।

প্রতিটি দেশের মোট আয়তনের ২৫% বনাঞ্চল থাকা প্রয়োজন কিন্তু আমাদের আছে মাত্র ৮%। এদেশের মানুষের মধ্যে যেখানে সামাজিক বনায়নের আন্দোলন করা প্রয়োজন সেখানে, একাত্তরের পরাজিত শত্র“রা পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষ নিধন করছে। পরিবেশবাদীদের এ ঘটনার তীব্র নিন্দা করা ও বৃক্ষ নিধন বন্ধে গণসচেতনতা সৃস্টি করা একান্ত প্রয়োজন।

৭১ সালে তাদের প্রানের পাকিস্থানকে তারা রক্ষা করতে পারে নি, এ দেশে বাস করলেও তাদের মন থাকে পাকিস্থানে। তাই এ ধরনের সহিংসতা করে তার বদলা নিতে চায়। মা বোনদের যারা পাকিস্থানীদের হাতে তুলে দিতে মায়া মমতা করে নি, তাদেরতো গাছের জন্য দরদ থাকার কথা নয়। বৃক্ষ নিধনে যারা জড়িত, ফুটেজ দেখে দেখে বিনা অনুমতিতে গাছ কাটার আইনে তাদের সবাইকে শাস্তি দেয়া অত্যন্ত জরুরী। আমাদের জানা দরকার উদ্ভিদ ও প্রানী পরস্পর নির্ভশীল। গাছ না থাকলে প্রকৃতিক দুর্যোগ বাড়বে। সিডর, আইলা, টর্নেডোর মত প্রকৃতিক দুর্যোগ লেগেই থাকবে। গাছ না থাকলে খরা জনিত সমস্যা দেখা দিবে। তাই জাতি ধর্ম বর্ন নির্বিশেষে সকলেরই গাছের হেফাজত করা উচিত।

৭১ সালে সংখ্যালঘুরা ছিল পাকহনাদার ও তাদের দোসরদের শত্রু। বর্তমান সময়ে এর সাথে যুক্ত হয়েছে বৃক্ষ। উভয়ই বাক প্রতিবন্ধী। এদের উপর অত্যাচার হলেও এরা প্রতিবাদ প্রতিরোধ করে না। কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় ও কার্যকরের দিন থেকে বহু হিন্দুদের বাড়ি ঘর জালিয়ে দেয়া হয়েছে। তাদের উপর শারীরিক এবং মানষিক নির্যাতন করা হয়েছে। প্রশাসন নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে। কোন কিছু নিয়ে আন্দোলন হলেই জামাত-শিবির প্রথমেই হিন্দুদের উপর বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন শুরু করে। সর্বশেষ দশম সংসদ নির্বাচনের দিন থেকে হিন্দুদের উপর নরপশুরা অবর্ননীয় অত্যাচার করছে। প্রশাসন নানা অজুহাত দেখিয়ে দায় এড়াতে চাচ্ছে কিন্তু একের পর এক এধরনের ঘটনা ঘটেই যাচ্ছে। বাধ্য হয়ে হিন্দুরা ব্যাপক হারে ভারতে চলে যাচ্ছে। সরকার অসাম্প্রদায়িক ও মুক্তিযুদ্ধের কথা বললেও এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নিচ্ছে না। হিন্দুদের সংখ্যা কমে ৫%-৭% দাড়িয়েছে। এভাবে নির্যাতন চলতে থাকলে এদেশ হিন্দু শুন্য হয়ে যাবে। অতএব এখনিই সকল দলমত নির্বিশেষে ঐক্যমতে পৌঁছে নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া।

লেখক : বিভাগীয় প্রধান,উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগ; গোপালপুর কলেজ, টাঙ্গাইল।

ফেসবুক মন্তব্য