ঢাকা রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৮

Mountain View



উৎসবমূখর পরিবেশে টাঙ্গাইলের লৌহজং নদী দখলমুক্ত অভিযান শুরু

Print Friendly, PDF & Email

ডেস্ক রিপোর্ট: টাঙ্গাইল পৌর এলাকাসহ সদর উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ৭৬ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বয়ে যাওয়া লৌহজং নদীর দুই পাড়ে অবৈধ স্থাপনা দখলমুক্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে পৌর এলাকার মধ্যবর্তী স্থান ও নদীর পশ্চিম প্রান্তরের বেড়াডোমা এবং কাগমারার নদীর দখলকৃত স্থানের স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু করছে জেলা প্রশাসন।

ইতোমধ্যেই অবৈধ দখলদারদের সকল স্থাপনা সরিয়ে নিতে নানাধরনের সচেতনতামূলক প্রচার প্রচারণাসহ করা হয় মাংকিং। এর পাশাপাশি প্রশাসনের পক্ষ থেকে দখলকৃতস্থানে পরিমাপ করে লাল নিশান লাগিয়ে দেয়া হয়েছে। ফলে দখলদারদের কেউ কেউ তাদের অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেয়, অবশিষ্টগুলো উচ্ছেদ করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ৭৬ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বয়ে যাওয়া লৌহজং নদীর প্রসস্ত ছিল ৩শ ফুট। সেটা দখল হয়ে কোন স্থানে রয়েছে ৫০ থেকে ৮০ ফুট।

[metaslider id=11379]

উদ্ধার অভিযান উদ্বোধনের আগে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য মনোয়ারা বেগম, টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মাহবুব হোসেন, পুলিশ সুপার মাহবুব আলম, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আশরাউজ্জামান স্মৃতি, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কামান্ডার জহিরুল হক ডিপটি প্রমুখ।

এ সময় কাদের সিদ্দিকী বলেন, আমি এ উদ্ধার অভিযানের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করছি। নদীকে দখল করা রাখা মানে পরিবেশকে হত্যা করার সামিল। নদীর দু’পাড় দিয়ে যারা স্থাপনা তৈরি করেছেন এটি অবৈধ।

টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মাহবুব হোসেন বলেন, মঙ্গলবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে লৌহজং নদীর দুপাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা হয়েছে। জোরপূর্বক কারও স্থাপনা ভাঙ্গার আগে আপনারা তা নিজ দায়িত্বে সরিয়ে নিন।

তিনি বলেন, কেউ যদি একেবারেই ক্ষতিগ্রস্ত হন তাদেরকে আর্থিকভাবে সহায়তা করা হবে। উচ্ছেদের পরে ওই স্থানগুলোতে পুনরায় কেউ যাতে আসতে না পারে তাও দেখা হবে। নদীর দুপাশ দিয়ে চলাচলের জন্য রাস্তা নির্মাণ করা হবে।

টাঙ্গাইলে লৌহজং নদীর দু’পাড়ের অবৈধ স্থাপনা অপসারণের কাজে বরিশাল থেকে ৫০ জনের বেশি স্বেচ্ছাসেবক, জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন সংগঠনের কর্মীরা অংশগ্রহণ করছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই নদীর দুই পারে দখলদাররা নদী ভরাট করে কাঁচাপাকা ঘরবাড়ি ও মার্কেট নির্মাণ করে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। এর ফলে নদী হারিয়ে ফেলেছে তার প্রকৃত রূপ। দিন যতই যাচ্ছে দখলদারদের দৌড়াত্ম ততই বেড়েই চলেছে। আবার কোন কোন প্রভাবশালী নদীর উপরে বড় বড় ইমারত তৈরি করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে এই নদী রক্ষার আন্দোলন চললেও এটি উদ্ধারে কোন কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মো. মাহবুব হোসেন জানান, লৌহজং নদীর অবৈধ দখলমুক্ত অভিযান শুরু হয়েছে। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। উচ্ছেদ অভিযানে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন সংগঠনের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল। এই কর্মসূচিতে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার অন্তত ৫ থেকে ৭ হাজার মানুষ টুকরি কোদাল নিয়ে অবৈধ দখলমুক্ত করে নদী খননের জন্য স্বেচ্ছায় কাজে অংশ গ্রহণ করেন।

এ দখলমুক্ত কাজ শেষ হলে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নদী খনন, নদীর দুই পাড় ঘেষে সাধারণ মানুষের চলাচলে সড়ক নির্মাণসহ বিভিন্ন ধরনের বৃক্ষরোপনের কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলেও জানান জেলা প্রশাসক।

ফেসবুক মন্তব্য