ঢাকা শুক্রবার, মে ২৪, ২০১৯

Mountain View



ফেইসবুকের কল্যাণে জয়পুরহাটের এক পরিবার মধুপুর থেকে ফিরিয়ে নিল অভিমানী ছেলেকে

Print Friendly, PDF & Email

এস.এম. সবুজ, মধুপুর(টাঙ্গাইল)প্রতিনিধিঃ মায়ের অনেক আশা ছেলেটি মাদ্রাসায় লেখাপড়া করে অনেক বড় আলেম হয়ে মানুষের মাঝে দ্বীনের আলো ছড়াবে। কিন্তুর মায়ের সেই আশায় বাধ সাধে ছেলেটির মাদ্রাসা শিক্ষায় অনাগ্রহ। ছেলের মাদ্রাসায় মন টিকে না। ওর মন চায় বন্ধুদের সাথে স্কুলে গিয়ে হই হুল্লোড় করা, স্কুল পালানো এদিক সেদিক ঘুরে বেড়ানো। যত বার মা তাকে বুঝিয়ে শাসন করে মাদ্রাসায় পাঠায় ততবার সে মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে আসে। এ নিয়ে মার মনে অশান্তি। ছেলেকে মারধোর, বকাঝকা আরও কতকি!

মা-বাবা আচ্ছা শাসন করে বুঝিয়ে দিয়ে এলেন হুজুরের কাছে। সেদিন সুযোগ বুঝে ঠিকানা মোবাইল নাম্বার না নিয়ে ঢাকাস্থ গার্মেন্টস কর্মি বড় ভাই এর উদ্দ্যেশ্যে বাড়ি থেকে বেরিয়ে ট্রেনে চড়ে বসে। কিন্তু বিধি বাম! ট্রেনে চড়েই তার চিন্তা হয় কোথায় যাচ্ছি, ভাই এর কাছে কিভাবে যাব। এসব ভেবে তার কান্না আসে। তার কান্নার দৃশ্য চোখে পড়ে পাঁচবিবি থেকে টাঙ্গাইল’র দিকে আসা জনৈক যাত্রীর। তার আশ্রয়ে থেকে অবশেষে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেইসবুক গ্রুপের সাহায্যে ৫দিন পর টাঙ্গাইলের মধুপুর থেকে ছেলেটিকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে।

গল্পটি জয়পুরহাট জেলার দুগাছি ইউনিয়নের নাকুরিয়া গ্রামের মো. রুহুল আমীনের পুত্র মো. মারুফ হোসেনের(১৩)। মারুফ হোসেন স্থানীয় বুজরুক বারুনিয়া দাখিল মাদ্রাসার ৭ম শ্রেণির ছাত্র।

মারুফের আশ্রয়দাতা টাঙ্গাইলের মধুপুরের মো. শামছুল আলম জানান, গত ৪ জানুয়ারি শনিবার রাতে তিনি এবং মারুফ একই ট্রেনে আসছিলেন। পাঁচবিবি থেকে টাঙ্গাইল আসার পথে শামসুল আলমের সন্দেহ হয়। মারুফকে তার ঠিকানা জিজ্ঞাসা করলে সে কিছুই গুছিয়ে বলতে পারছিলনা। পরে অভিমান করে বাড়ি ছাড়ার কথা শুনে তিনি ছেলেটিকে তার নিজের বাড়ি মধুপুর উপজেলার কুড়ালিয়ার ধলপুর গ্রামে নিয়ে আসেন। ৪ দিন বিভিন্ন ভাবে তিনি জয়পুর হাটে মারুফের অভিভাবকের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন।

তিনি আরও জানান, রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং পরিবহন অবরোধের কারনে মারুফ কে নিয়ে জয়পুরহাটে যেতে পারছিলেন না।

ইতোমধ্যে শামসুল আলমের ভাতিজা ফেইসবুক ব্যবহারকারী ইসমাইল হোসেন(সুজন) চাচার কাছ থেকে বিষয়টি জেনে সে মধুপুরের অনলাইন ভিত্তিক সামাজিক সংগঠন “আলোকিত মধুপুর ফেইসবুক গ্রুপ”র এডমিন এবং সাধারণ সম্পাদক সামিউল আলমকে অবহিত করেন। সামিউল আলম প্রথমে মারুফ কে নিয়ে তাদের গ্রুপে এবং ব্যক্তিগত ওয়ালে পোস্ট দেয়।

সামিউল আলম এর কাছ থেকে জানা যায়, শুধু গ্রুপে পোস্ট দিয়ে তার দায়িত্ব শেষ না করে অনলাইন ঘেঁটে জয়পুরহাট তথ্য কোষ, জয়পুরহাট জেলা তথ্য বাতায়ন থেকে মারুফের এলাকার চেয়ারম্যানের সাথে যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করেন। পরে দুগাছি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়াম্যান জহিরুলের সাথে যোগাযোগ করতে সক্ষম হন। চেয়ারম্যানের মাধ্যমে মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যেই মারুফের বাবার সাথে ফোনে কথা হয়। ছোট এবং অতি আদরের ছেলেকে হারিয়ে পাগলপ্রায় মা বাবার সাথে ছেলেটিকে কথা বলিয়ে দেয়ার জন্য ৮ জানুয়ারি রাতে ওই কুড়ালিয়ার ধলপুর গ্রামে যান। মারুফ এবং তার বাবা মার মোবাইলে কথা বলিয়ে দেয়া হয়।

নিখোঁজ মারুফের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে ৮জানুয়ারি রাতেই মধুপুরের উদ্দেশ্যে ছুটে আসেন মারুফের বাবা এবং মামা। পরে ৯জানুয়ারি বৃহস্পতিবার রাতে আশ্রয়দাতা শামসুল আলম, ইসমাইল হোসেন, সামিউল আলম এবং সাংবাদিকবৃন্দের উপস্থিতিতে স্থানীয় আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সরোয়ার আলম খান আবুর মাধ্যমে মারুফকে তার বাবার হাতে তুলে দেয়া হয়। এসময় একটি হৃদয় বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। মারুফের বাবা রুহুল আমিন ছেলেকে বিদ্যালয়ে পড়ানোর নিশ্চয়তা দিয়ে তাকে ফিরিয়ে নিয়ে গেলেন। টাঙ্গাইল থেকে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার ট্রেনে তারা জয়পুরহাটের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।

জয়পুরহাটের দুগাছি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৪টায় মোবাইল ফোনে তাদের বাড়ি ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ফেসবুক মন্তব্য