ঢাকা রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৮

Mountain View



টাঙ্গাইলে পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই পরিবহন ধর্মঘট, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

Print Friendly, PDF & Email

বিশেষ সংবাদদাতা, টাঙ্গাইল : সড়ক পরিবহন আইন-২০১৭ এর খসড়া মন্ত্রী সভায় অনুমোদন হওয়াসহ আইনের অস্পষ্টতা থাকার অভিযোগে টাঙ্গাইল তারাকান্দি সড়কসহ জেলার কয়েকটি আঞ্চলিক সড়কে পরিবহন ধর্মঘট চলছে।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে জেলার অধিকাংশ যানচলাচল বন্ধ রয়েছে। চরম ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ যাত্রীরা।
টাঙ্গাইল জেলা বাস-কোচ-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মীর লুৎফর রহমান লালজু বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘পরিবহন শ্রমিকদের ব্যক্তি উদ্যোগে জেলার ৮০ শতাংশ যানচলাচল বন্ধ রয়েছে। এর সঙ্গে শ্রমিক ইউনিয়নের কোন সমর্থন নেই। পরিবহন শ্রমিকরা নিজেরাই এ ধর্মঘট করেছে।

‘সরেজমিনে টাঙ্গাইল নতুন বাস টার্মিনালে দেখা গেছে সাধারণ যাত্রীদের চরম দূর্ভোগ। এ সময় কথা হয় ঢাকাগামী যাত্রী মজিদ মিয়ার সাথে তিনি বলেন আকস্মিক বাস বন্ধ থাকায় প্রয়োজন স্বত্তেও তার ঢাকা যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। যদিও ঢাকা যাবে বলে কয়েকটি বাসের শ্রমিকরা যাত্রী ঢাকছে কিন্তু ভাড়াও চাচ্ছে ডাবল।

ঢাকাগামী যাত্রী রোজিনা বলেন, হঠাৎ বাস চলাচল বন্ধ হওয়ায় তিনি ঢাকা যাওয়া বাদ দিয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন।

এ প্রসঙ্গে বাস চালক লিয়াকত জানান, সড়ক পরিবহন আইন-২০১৭ করা হয়েছে। কিন্তু সে আইনের অধিকাংশই চালকদের বিরুদ্ধে। নিজের জীবনের মায়া কার না আছে আর কোন চালকই ইচ্ছে করে সড়ক দূর্ঘটনা ঘটায় না। কিন্তু দেশের আইনই যেহেতু তাদের বিরুদ্ধে এ অবস্থায় কিভাবে গাড়ি চালাবেন তারা। তাই তিনিসহ প্রতিটি চালকই গাড়ি চালানো বন্ধ রেখেছে।

এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল জেলা বাস-কোচ-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক মীর লুৎফর রহমান লালজু বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, এটি পরিবহন ধর্মঘট নয়, আর এর সাথে শ্রমিক ইউনিয়নের কোন সমর্থন নেই। পরিবহন চালক ও শ্রমিকরা গাড়ী চালানোর বন্ধ করে নিজেরাই এ ধর্মঘট করছে।

আইনের কয়েকটি ধারায় অস্পষ্টা রয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, যারা দীর্ঘ দিন যাবৎ এ সেক্টরে কর্মরত আছে তাদের অনেকেই পড়া-লেখা জানে না। নতুন আইন অনুযায়ী অস্টম শ্রেণী পাশ না হলে তাকে ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়া হবে না। লাইসেন্স প্রদানের বিষয়টি সহ বেশ কয়েকটি ধারা নিয়ে পরিবহন শ্রমিকদের মাঝে ভীতি ও আতঙ্কের সৃষ্টি হওয়ায় তারা যানবাহন চালানো বন্ধ করে দিয়েছে।

আগামী ৬ এপ্রিল এ বিষয়ে শ্রমিক ইউনিয়ন ও ফেডারেশনের সভা রয়েছে। এ আইনের কয়েকটি ধারা পূনঃবিবেচনা করে সংশোধনের দাবি জানান তিনি।

ফেসবুক মন্তব্য