ঢাকা শনিবার, জুন ২৩, ২০১৮

Mountain View



সখীপুরে মাকে হত্যা, ছেলের বিরুদ্ধে মামলা

Print Friendly, PDF & Email

টাঙ্গাইলের সখীপুরে সৎপুত্রের হাতে মাকে হত্যার অভিযোগ ওঠেছে। বৃহস্পতিবার রাতে মা রেখা বেগম (৩৫) ঢাকার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। নিহত রেখা বেগম উপজেলার দাড়িয়াপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের প্রতিমাবংকী গ্রামের মীর ওসমান গণির স্ত্রী। গত ২৮ নভেম্বর রাতে জমিজমা সংক্রান্ত সৃষ্ট বিরোধে সৎ মাকে পুত্র সোহেল রানা ওরফে শাহজাহান, তার স্ত্রী, মা সাজেদা বেগম, বোন আছমা আক্তার ব্যাপক মারধর করে। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে সখীপুর ও পরে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। এ ঘটনায় ওই রাতেই বাবা মীর ওসমান গণি স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগে পুত্র সোহেল রানাকে প্রধান আসামি করে চারজনের নামে সখীপুর থানায় মামলা করেন।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মীর ওসমান গণি ও তার পূর্বের স্ত্রী সাজেদা বেগম সংসারের অস্বচ্ছলতা ঘুচাতে প্রায় ২৫/২৬ বছর আগে একই সঙ্গে মালয়েশিয়া চাকরি করতে যায়। মালয়েশিয়ায় মীর ওসমান একটি দুর্ঘটনায় পায়ে আঘাত প্রাপ্ত হয়ে পঙ্গু হয়ে যান। ওসমান দেশে ফিরলেও সাজেদা তাকে ছেড়ে অন্যত্র চলে যায়। পরে সে রেখা নামের এক নারীকে বিয়ে করে সংসার পাতেন। তাদের সে ঘরে তিন পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। মীর ওসমান গণি জানান, সোহেল তার আগের ঘরের সন্তান। তার মা সাজেদা বেগমকে বিদেশ পাঠানোর শর্তে তার নামের থাকা ৬৮ শতক জমি আমাকে দলিল করে দেন। সোহেলের দাবি ওই জমি তার মা সাজেদা তাকে ইস্তফা করে দিয়েছে। ইতোমধ্যে ওই জমি ছেলে সোহেল ইস্তফা করে দেয়ার নাম করে দখলে নিতে চেষ্টা করায় ঝগড়ার সূত্রপাত শুরু হয়। দুই সতীন, বাবা ওসমান গণি ও পুত্র সোহেল মিলে জমি নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধে ঘটনার রাতে কথাকাটাকাটিতে নিহত রেখা বেগমকে তলপেটসহ বেদম মারধর করা হয়। আহত হওয়ার দুইমাস ৫দিন পর বৃহস্পতিবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রেখা বেগম মারা যান। মীর ওসমান গণি বলেন, স্ত্রীকে সুস্থ করতে অনেক টাকা গেলেও বাঁচাতে পারলাম না। আমি একজন পঙ্গু মানুষ; রোজগার করতে পারিনা। স্ত্রীই সংসারের হাল ধরেছিল। অবুঝ তিনপুত্র সন্তান নিয়ে আমি এখন কোথায় দাঁড়াবো।

সখীপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাকছুদুল আলম বলেন, এ বিষয়ে আগেই মামলা করা আছে। হাসপাতালের সাধারণ জখমের রিপোর্ট পেয়ে ওই মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। আসামিরা জামিনে আছেন। গতকাল শুক্রবার দুপুরে লাশ টাঙ্গাইল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ওপরই মামলার পরবর্তী করনীয় নির্ধারণ করা হবে বলেও যোগ করেন থানার এ প্রধান কর্মকর্তা।

ফেসবুক মন্তব্য