ঢাকা বুধবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৮

Mountain View



রূপা হত্যা মামলার রায় ১২ ফেব্রুয়ারি

Print Friendly, PDF & Email

মধুপুরে আলোচিত চলন্ত বাসে কলেজ ছাত্রী জাকিয়া সুলতানা রূপাকে গণধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামি ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের আইনী যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে।

সোমবার(৫ জানুয়ারি) সকাল থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত আইনী যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন আসামি ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা। এর আগে সকাল ১১টায় টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এবং অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক আবুল মনসুর মিয়া রূপাকে গণধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু করেন।

মামলার আসামিদের উপস্থিতিতে এই বিচারিক কার্যক্রম চলে। আসামি ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীগদের আইনী যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে এ মামলার রায়ের দিন আগামি ১২ ফেব্রুয়ারি ধার্য করেন আদালতে বিচারক আবুল মনসুর মিয়া।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট একেএম নাছিমুল আক্তার। রাষ্ট্রপক্ষে সহায়তা করেন, মানবাধিকার কমিশনের আইনজীবী এস আকবর খান, মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট এমএ করিম মিয়া ও মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার টাঙ্গাইল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান আজাদ।

আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন, অ্যাডভোকেট শামীম চৌধুরী দয়াল ও অ্যাডভোকেট দেলুয়ার হোসেন।

টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি একেএম নাছিমুল আক্তার জানান, সোমবার সকাল থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত আইনী যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন আসামি ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা।

মামলার আসামিদের উপস্থিতিতে এই বিচারিক কার্যক্রম চলে। আসামি ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীগদের আইনী যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে এ মামলার রায়ের দিন আগামি ১২ ফেব্রুয়ারি ধার্য করেন আদালতে বিচারক আবুল মনসুর মিয়া।

বিশেষ পিপি আরো জানান, সাক্ষ্য প্রমাণে রাষ্ট্রপক্ষ এই মামলা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড দাবি করেন।

অপরদিকে, আসামি পক্ষের আইনজীবীদ্বয় দাবি করেন, মামলায় অনেক ত্রুটি রয়েছে, তারা আদালতে তা উপস্থাপন করেছেন। আসামিরা নির্দোষ, তাই তারা বেকসুর খালাস দাবি করেন।

আদালতের পরিদর্শক মো. আনোয়ারুল ইসলাম জানান, এই মামলাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। অজ্ঞাতনামা মহিলার মরদেহ হিসেবে পুলিশ বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেন।

পরে পত্র-পত্রিকার খবর দেখে নিহতের ভাই হাফিজুর রহমান মধুপুর থানায় তার বোনের ছবি দেখে সনাক্ত করেন। পুলিশ ছোঁয়া পরিবহনের গাড়িটি জব্দ করে এবং আসামিদের গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠায়।

আসামিরা সেচ্ছায় আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি প্রদান করেন। পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাইয়ুম খান সিদ্দিকী মামলার তদন্ত শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে।

৩২ জনকে এই মামলায় সাক্ষী করা হয়। গত ৩ জানুয়ারি বাদির সাক্ষ্য গ্রহনের মধ্যদিয়ে সাক্ষী শুরু হয়। পরবর্তীতে এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, চিকিৎসক, ১৬৪ ধারার জবানবন্দি গ্রহনকারী চার জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, সুরতহাল রিপোর্ট ও জব্দ তালিকা সর্বমোট ২৭জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষী প্রদান করেন। আসামি পক্ষের আইনজীবীরা তাদের জেরা করেন।

উল্লেখ্য, গত ২৫ আগস্ট বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে রূপাকে চলন্ত বাসে ধর্ষণ করে পরিবহন শ্রমিকরা। বাসেই তাকে হত্যার পর মধুপুর উপজেলায় পঁচিশ মাইল এলাকায় বনের মধ্যে রূপার মরদেহ ফেলে রেখে যায়।

এলাকাবাসীর কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ওই রাতেই অজ্ঞাত পরিচয় মহিলা হিসেবে তার মরদেহ উদ্ধার করে। পরদিন ময়নাতদন্ত শেষে রূপার মরদেহ বেওয়ারিশ হিসেবে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

পত্র-পত্রিকায় ছবি দেখে মরদেহ সনাক্ত করার পর রূপার মরদেহ তার ভাই হাফিজুর রহমানের কাছে দেয়া হয়। পরে সিরাজগঞ্জের আসানসোলে নিজ গ্রামে তার মরদেহ দাফন করা হয়।

এ ঘটনায় পুলিশ ময়মনসিংহ-বগুড়া সড়কের ছোঁয়া পরিবহনের হেলপার শামীম, আকরাম ও জাহাঙ্গীর এবং চালক হাবিবুর ও সুপারভাইজার সফর আলীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

ফেসবুক মন্তব্য