ঢাকা শুক্রবার, মে ২৪, ২০১৯

Mountain View



মন্ত্রীত্ব হারালেন ড.আব্দুর রাজ্জাক, গোয়েন্দা রিপোর্টই কাল হলো

Print Friendly, PDF & Email

ফাইল ফটো

আবীর দে, স্টাফ রিপোর্টার : নতুন সরকারের মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়েছেন আলোচিত-সমালোচিত ও প্রভাবশালী বেশ কয়েকজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী। যাদের অনেকেই মহাজোট সরকারের মন্ত্রিসভায় এবং দলে দাপুটে নেতা হিসেবেই খ্যাত ছিলেন। নতুন মন্ত্রিসভায় বাদ পড়াদের অনেকের বিরুদ্ধে বিগত পাঁচ বছরে অঢেল সম্পত্তির মালিক বনে যাওয়া, অতিকথনে সরকারকে বেকায়দায় ফেলা, অদক্ষতা, মন্ত্রী হওয়ার পরে তৃণমূল নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে ঢাকায় বসে এলাকার সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করাসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফ বলেছেন, গত সরকারে যারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেননি প্রধানমন্ত্রী তাদেরকে এই মন্ত্রিসভা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন।

বিতর্কিতরা এই মন্ত্রিসভায় নেই জানিয়ে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নির্বাচনের পর সবারই দৃষ্টি ছিল মন্ত্রিসভা কেমন হবে। আমার মনে হয় মোটামুটি ক্লিন মন্ত্রিসভা হয়েছে। টেম্পটেডরা (বিতর্কিত) নেই বললেই চলে।

আর দশম সংসদের সরকারের ক্লিন মন্ত্রীসভা থেকে বাদ পড়লেন ক্লিন ইমেজের ড. আব্দুর রাজ্জাকও । তিনি নবম জাতীয় সংসদে সরকারের খাদ্যমন্ত্রী থাকলেও দশম সংসদে মন্ত্রীত্ব পাননি তিনি।

পুনরায় মন্ত্রীত্ব না পাওয়া এলাকার নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।  কিন্তু গত কয়েক বছরের খাদ্যে নিয়োগে দুর্নীতির গোয়েন্দা রিপোর্টই কাল হলো তাঁর। মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ বাণিজ্যের সঙ্গে খাদ্যমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাকের সম্পৃক্ততার প্রমাণ তুলে ধরা হয় গোয়েন্দা রিপোর্টে। তাঁর সময়ে খাদ্য অধিদপ্তরে যত নিয়োগ হয়েছে, সব কটিতেই দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।

এ ছাড়া খাদ্য অধিদপ্তরে একটি সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে। ওই সিন্ডিকেট টেন্ডারসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করতেন তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে আরো একটি অভিযোগ তুলেছেন তাঁর সহকর্মী মন্ত্রীরা। সাপ্তাহিক মন্ত্রিসভা বৈঠক শেষে মন্ত্রি পরিষদসচিব মন্ত্রিসভা বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্ত ব্রিফ করতেন। পাশাপাশি রাজ্জাকও সাংবাদিকদের ব্রিফ করেছেন নিয়মিত।

তবে দলের এক প্রভাবশালী নেত্রীর বিরোধিতার কারণেই তার কপাল পুড়ছে বলেও গুঞ্জন রয়েছে।

উল্লেখ্য, ড. আব্দুর রাজ্জাক দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-১ আসন থেকে আওয়ামীলীগের মনোনীতি প্রার্থী হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তিনি নবম সংসদে সরকারের খাদ্রমন্ত্রী হিসেবে নিযোজিত ছিলেন।

ফেসবুক মন্তব্য