ঢাকা মঙ্গলবার, নভেম্বর ২০, ২০১৮

Mountain View



মাস্টার্স পাস করলেন রানা প্লাজায় গুরুতর আহত টাঙ্গাইলের সাদ্দাম

Print Friendly, PDF & Email

ডেস্ক রিপোর্ট : সাদ্দাম হোসেনছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার ইচ্ছাটা ছিল সাদ্দাম হোসেনের (২৮)। কিন্তু বারবারই অর্থাভাব বাধা হয়ে দাঁড়ায়। শেষ ধাপে স্নাতক (সম্মান) পরীক্ষার পরই চাকরি নিতে হয়। কিন্তু বিধি বাম। চাকরি পাওয়ার এক মাস না পেরোতেই ঘটে রানা প্লাজা ধস। আর এতেই কবজির নিচ থেকে ডান হাত হারান সাদ্দাম। কিন্তু হারাননি মনোবল। এক হাত নিয়ে পরীক্ষা দিয়েই অর্থনীতি বিভাগ থেকে দ্বিতীয় শ্রেণীতে স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) পাস করেছেন সাদ্দাম।

গতসোমবারই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০৯-২০১০ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্স পরীক্ষার ফল বের হয়। ফল পেয়ে অনেক খুশি সাদ্দাম। আবার একটু দুঃখবোধও আছে। ২৮১ পেয়েছেন, আর ১৯টি নম্বর (৩০০) পেলে প্রথম বিভাগ পেতেন।

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বাড়ি সাদ্দামের। উচ্চমাধ্যমিক পাস করে টঙ্গী সরকারি কলেজে অর্থনীতি বিভাগে ভর্তি হন। স্নাতক শেষ করে একই কলেজে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তরে ভর্তি হন। এর মাঝেই গত বছরের ১ এপ্রিল থেকে মাসিক ১০ হাজার টাকা বেতনে বিভিন্ন পণ্যের ডিলার সরকার অ্যান্ড ব্রাদার্সে বিক্রয়কর্মীর চাকরি পেয়ে যান। সাভারের রানা প্লাজার পাশে তিনতলা ভবনে ছিল অফিস। গত ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা ধসে পড়লে তিনতলা এই ভবনটিও গুঁড়িয়ে যায়। সাদ্দাম চাপা পড়েন তার নিচে।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সাদ্দাম বলেন, তাঁর দুই পা ও ডান হাত কংক্রিটের মধ্যে আটকে যায়। তিনি নিজে বাঁ পা মুক্ত করেন, উদ্ধারকর্মীরা ডান পা বের করে আনেন। কিন্তু তাঁকে উদ্ধারের জন্য যখন টানাটানি করা হচ্ছিল তখন তিনি দেখেন, ডান হাতটাও আটকে আছে। পরে হাসপাতালে এসে সেই হাতটা কেটে বাদ দেন চিকিৎসকেরা। মাথাতেও আঘাত লেগেছিল। সেখানে ৩২টি সেলাই দিতে হয়েছে।

সাদ্দাম বলেন, উদ্ধার পাওয়ার পর সারা শরীরে প্রচণ্ড যন্ত্রণার পরও বেঁচে থাকাটাকে ভাগ্য মনে করছিলেন। কিন্তু জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) অস্ত্রোপচারের পর যখন প্রথমবারের মতো দেখলেন ডান হাতটা নেই তখন আর নিজেকে ঠিক রাখতে পারছিলেন না। একেবারেই ভেঙে পড়েছিলেন। এদিকে সামনে মাস্টার্স পরীক্ষা। ভর্তি ছিলেন সাভারের পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পুনর্বাসন কেন্দ্রে (সিআরপি)। সেখান থেকেই সবার উৎসাহে মাস্টার্স পরীক্ষা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। হাসপাতাল থেকেই চালিয়ে যান পড়াশোনা। ২৩ জুন থেকে শুরু হয় পরীক্ষা। কেন্দ্র ছিল গাজীপুর চৌরাস্তায় ভাওয়াল বদরে আলম কলেজে। প্রথম দুই দিন সিআরপি থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে, তার পরের তিন দিন নিজের ব্যবস্থাপনায় গাড়ি ভাড়া করে গিয়ে পাঁচ বিষয়ের পরীক্ষা দেন। পরীক্ষার হলে তাঁর হয়ে লেখার জন্য একজনকে নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি।

সাদ্দাম জানান, প্রধানমন্ত্রী তাঁকে ১০ লাখ টাকা দিয়েছেন। সিআরপি থেকে ছাড়া পেয়ে কিছুদিন গ্রামের বাড়িতে ছিলেন। এখন আবার সাভারে থাকছেন। এখনো তাঁকে থেরাপি নিতে হচ্ছে।

সৌজন্যে : বেঙ্গলিনিউজ২৪.কম

ফেসবুক মন্তব্য