ঢাকা শুক্রবার, মে ২৪, ২০১৯

Mountain View



৪র্থ জাতীয় হাওর উৎসব সমাপ্ত

Print Friendly, PDF & Email
নিজস্ব সংবাদদাতা: পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন পবা আয়োজনে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড এবং জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের সহযোগিতায় সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর দুই দিনব্যাপী ৪র্থ হাওর উৎসব অক্টোবর (শনিবার) শেষ হয় হাওরের ইতিহাসঐতিহ্য, ক্রীড়াসংস্কৃতি, জীববৈচিত্র্য প্রকৃতিকে তুলে ধরা এবং হাওরের সমস্যা সম্ভাবনাকে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনায় নিয়েআসাই মূলত উৎসব আয়োজনের মূল লক্ষ ছিল
জগন্নাথপুর আবদুস সামাদ আজাদ অডিটরিয়ামে ৪র্থ জাতীয় হাওরউৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণাকরেন সুনামগঞ্জ আসনের সাংসদ জনাবএম মান্নান

উৎসবে উপস্থিত ছিলেনপবার চেয়ারম্যান আবু নাসের খান, সাধারণ সম্পাদক কামাল পাশাচৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো: আবদুস সোবহান, সম্পাদক . হালিম দাদ খান, জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের কর্মকর্তা মো: রুহুল আমিন

উৎসবের প্রথমদিন (৪ অক্টোবর) সকালে সাঁতার প্রতিযোগিতা, উপস্থিত হাওরউন্নয়ন বিতর্ক শেষেদুপুরে নলজুর নদীতেনৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় সন্ধ্যায় স্থানীয় শিল্পীদের সাংস্কৃতিক নানাপরিবেশনার সাথে কুদ্দুস বয়াতি তার দলের মনোজ্ঞ সংগীতানুষ্ঠান অনেকরাত পর্যন্ত চলতেথাকে মহিলাদের পিঠা প্রদর্শনী, বালিশ খেলা মোমবাতি প্রতিযোগিতার মধ্যদিয়ে দ্বিতীয় দিনেরউৎসব শুরু হয় দুপুরে কাবাড়ি, মহিলাক্যারম প্রতিযোগিতা শেষে ভবের বাজার মাঠেহাজার হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে ফুটবল খেলাশুরু হয় প্রতিদিনকার উৎসব আয়োজন উপভোগকরতে জেলার পার্শ্ববতী হাওর এলাকা থেকেহাজার হাজার মানুষএতে যোগদান করে
পবার চেয়ারম্যান আবু নাসের খান বলেন, তথাকথিত উন্নয়ন নয় একটি দীর্ঘমেয়াদী সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে হাওর অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য, প্রকৃতি অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে হবে
সাধারণ সম্পাদক কামাল পাশা চৌধুরী হাওর এলাকার উন্নয়নে বেশ কিছু প্রস্তাব তুলে ধরে বলেন, মূল জনগোষ্ঠীর এক বিরাট অংশের বাস হাওরাঞ্চলে তাদের উন্নয়ন বঞ্চিত রেখে কোনভাবেই দেশের উন্নয়ন সম্ভবনয় হাওর এলাকার উন্নয়নে এখনি যথাযথপদক্ষেপ গ্রহণ করতেহবে
প্রসঙ্গত, উৎসবের মধ্য দিয়ে জানানো হয়বর্তমানে হাওরের প্রকৃতি নানা সমস্যায় জরাজীর্ণ অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠা বাঁধ রাস্তাঘাট নির্মাণের ফলে শুকিয়ে গেছে বেশিরভাগ নদী, খাল জলাশয় অনেক বড় বড় বিল বর্তমানে রূপ নিয়েছে ধান ক্ষেতে জ্বালানি বিলেকাঠা দেওয়ার জন্যকেটে উজাড় করে ফেলা হয়েছে হিজলবন বর্তমানে ক্ষরোতির বন, চিতঙ্গল বা দিল্লীর আখড়া ছাড়া সমগ্রহাওরে হিজল বন চোখেই পড়ে না
উল্লেখ্য, সরকারের পক্ষ থেকে জলমহাল লিজ ছাড়াও ব্যাপকভাবে খাস কালেকশনের নামে হাওর ধ্বংস করা হচ্ছে ডোবানালাপাম্প দিয়ে শুকিয়ে অপরিনামদর্শীর মত মাছ আহরণ করার ফলে ধ্বংস হচ্ছে জীববৈচিত্র্য ভয়ংকরভাবে কমে যাচ্ছে মাছেরযোগান মহাশোল, নানিদ, শিলোনসহ অনেক প্রজাতির মাছ বিলুপ্তির পথে এমনকি বড় রুই, কাতলাচিতলও এখন দুর্লভ চলমান নদীগুলোতে কাঠা দিয়ে প্রতিহত করা হচ্ছে স্বাভাবিক স্রোত ফলে পলি জমে ভরে যাচ্ছে নদীগুলো এর ফলে বর্ষার প্রথম জোয়ারের পানি ধারণ করতেপারছে না নদীগুলো দেখা দিচ্ছে অকালপ্লাবন ফসলহানি এছাড়াও হাওরের মানুষের জীবনযাত্রা সংস্কৃতি থেকেও অনেক মৌলিকউপাদান হারিয়ে যাচ্ছে 

ফেসবুক মন্তব্য