ঢাকা রবিবার, নভেম্বর ১৮, ২০১৮

Mountain View



পরকাল বলে কিছু নেই : হকিং

Print Friendly, PDF & Email
ডেস্ক রিপোর্ট: মানুষের মৃত্যু পরবর্তী জগতের বিশ্বাসকে স্রেফ রূপকথা বলে উড়িয়ে দিলেন বিশ্বখ্যাত ব্রিটিশ তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং। তাঁর ভাষ্য মতে, পরকাল বলে কিছু নেই। এ ধারণা থেকেই নিজের পক্ষাঘাতগ্রস্ত শরীরের সঙ্গে জীবনভর লড়াই করে গেছেন তিনি। 

বিশ্বখ্যাত ব্রিটিশ তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং
গত বৃহস্পতিবার রাতে ইংল্যান্ডের ক্যামব্রিজে ‘হকিং’ নামের একটি প্রামাণ্যচিত্রের উদ্বোধনী প্রদর্শনীতে উপস্থিত দর্শকদের উদ্দেশে এসব কথা বলেন হকিং (৭১)।
প্রামাণ্যচিত্রটির চিত্রনাট্য হকিংয়ের নিজের লেখা এবং এর ধারা বর্ণনাও তিনি নিজেই দিয়েছেন। এতে তিনি জানিয়েছেন, মৃত্যুকে ভয় পান না তিনি। প্রদর্শনী শেষে উপস্থিত দর্শকদের তিনি বলেন, অন্ধকারকে ভয় পায়- এমন মানুষদের বানানো রূপকথা হলো পরকাল।
হকিং বলেন, ‘আমি মনে করি, মস্তিষ্ক কম্পিউটারের মতোই মনের একটি প্রোগ্রাম, তাই তাত্তি্বকভাবে কম্পিউটারে মস্তিষ্কের প্রতিলিপি তৈরি করা সম্ভব, আর এভাবে মৃত্যুর পরও একটি জীবনকে ধরে রাখা যায়। তবে এখন পর্যন্ত সেটি আমাদের আয়ুষ্কাল ও সামর্থ্যের বাইরে আছে।’
২০১১ সালের মাঝামাঝিও একবার পরকালকে রূপকথা বলে আখ্যায়িত করেছিলেন হকিং। সম্প্রতি গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তিদের ‘স্বেচ্ছামৃত্যু’র পক্ষেও সমর্থন দিয়েছেন তিনি।
২১ বছর বয়স থেকে দুরারোগ্য মোটর নিউরন রোগে ভুগছেন হকিং। সে সময় তাঁকে জানানো হয়েছিল, আর মাত্র দুই কি তিন বছর বাঁচবেন তিনি। কিন্তু সব ভবিষ্যদ্বাণী ভুল প্রমাণ করে এখনো তিনি বেঁচে আছেন। এ বিষয়ে দর্শকদের বলেন, ‘সারা জীবন অকাল মৃত্যুর হুমকির মধ্যে আমি জীবনযাপন করেছি, তাই সময় নষ্ট করাকে আমি ঘৃণা করি।’
পক্ষাঘাতগ্রস্ত শরীর নিয়ে বিশ্বখ্যাত এই বিজ্ঞানীর জীবন কাটে হুইল চেয়ারে। কথাও বলতে পারেন না। মুখের পেশির নড়াচড়ার মাধ্যমে কম্পিউটারে তৈরি করা স্বরে কথা বলেন। একটি চোখের অর্থপূর্ণ নড়াচড়া সেই কথাকে তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে। সূত্র : রয়টার্স

ফেসবুক মন্তব্য