ঢাকা রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৮

Mountain View



রাজার ছেলে সম্রাট!

Print Friendly, PDF & Email

বিনোদন ডেস্ক : সবাই তাকে সম্রাট নামে চেনেন। তিনি কোনো রাজ্যের সম্রাট নন। পুরো নাম সম্রাট হোসাইন। অভিনয় তাঁর রক্তে মিশে আছে। বাবা চিত্রনায়ক নায়করাজ রাজ্জাক আর বড় ভাই চিত্রনায়ক বাপ্পারাজের উৎসাহে অভিনয় শুরু করেন। বর্তমানে তিনিও একজন জনপ্রিয় চিত্রনায়ক। অ্যাকশন কিংবা রোমান্টিক- সব ধরনের ছবিতেই স্রমাট তাঁর যোগ্যতার উজ্জ্বল প্রমাণ দিয়েছেন। চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি  টিভি নাটক এবং টেলিফিল্মেও নিয়মিত কাজ করছেন। নাটক টেলিফিল্মে দিয়েছেন ডিরেকশান। দর্শকের সামনে টিভি পর্দায় উপস্থিত হয়েছেন একজন উপস্থাপক হিসেবে। জনপ্রিয় এ তারকার সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন টাঙ্গাইল বার্তা’র বিনোদন বিভাগের সম্পাদক মিথিলা সিদ্দিকা

somrat

ছোটবেলায় কেমন স্বভাবের ছিলেন..

– ছোটবেলায় দুষ্টু ছিলাম। সবাইতে বড্ড জ্বালাতাম। যেহেতু সবার ছোট, তাই বকা কম,আদর বেশি।  আবার একটু ভদ্রও ছিলাম। কারণ আব্বু শাসন ঠিকই করতেন।

বাবার সাথে শ্যুটিং দেখতে কেমন লাগতো…

– যখন আমার চার বছর, তখন ক্যামেরা দেখে লুকোতাম। লজ্জা লাগতো ছবি তুলতে। পরে যখন বুঝতে শিখলাম, তখন এতোটা খারাপ লাগতো না। শ্যুটিং দেখতাম, ভালো লাগতো। ইন ফেক্ট আব্বার মেকআপ আর্টিস্ট আমাকে দাড়ি গোফ লাগিয়ে দিতো। আমি ওরকম সেজে বাসার সবাইকে ভয় দেখাতাম।

তখন কি ভেবে ছিলেন হিরো হবেন…

– হিরো হবো বা অভিনয় করবো তখনও ভাবি নি। তবে হ্যা আব্বা ও ভাইয়াকে বড় পর্দায় দেখে এক্সাইটেড লাগতো।

কাজের ক্ষেত্রে কার সাপোর্ট পেয়েছেন বেশি… মা/বাবা/ভাই

– যেহেতু আব্বার ইচ্ছেয় ফিল্মে আসলাম, তাই আব্বার সাপোর্টই বেশি ছিল। অ্যাক্টিং ড্রামা মেকিং সব তিনিই শিখিয়েছেন। ।

প্রথম কাজের অভিজ্ঞতা…

– মজার বিষয় হলো আমার প্রথম অ্যাক্টিং বড় ভাইয়ার ডিরেকশানে একটি টিভি নাটক। ২০০৬ সালে “একজন যোদ্ধার মুক্তি ”। খুবই নার্ভাস ছিলাম। কিছুই পারতাম না। তাঁর উপরে কো-আর্টিস্ট ছিলেন, আব্বা ভাইয়া, তাজিন আহমদ আপু।

somrat 3প্রথম ফিল্ম…

–  ২০০৭ সালে ‘আমি বাঁচতে চাই’ ছবির মাধ্যমে ফিল্মের কাজ শুরু করি।  ডিরেক্টর ছিলেন বাবা চিত্রনায়ক নায়ক রাজ রাজ্জাক’ ।

শ্যুটিং এ মজার ঘটনা..

– রাঙামাটি কাপ্তাই লেকের শ্যুটিং করে ফেরার সময় বোটে আমাদের মেকাপ অ্যাসিস্টান্ড ড্যান্স করছিল। আচমকা তাঁকে পানিতে ফেলে দেই। ডিরেক্টরের সঙ্গে বাজি ছিল। জিতলাম ৫০০ টাকা।

আপনি তো নতুন পুরান সব নায়িকার সঙ্গেই কাজ করেছেন, কার সঙ্গে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দবোধ করেন…

– নতুন পুরানো সবার সঙ্গেই কাজের আন্ডারস্ট্যান্ডিং ভালো ছিল। কাজে আনন্দ ছিল। আমি ইগো প্রবলেম যুক্ত মানুষকে পছন্দ করি না। আমার ইগো প্রবলেম নাই। সো যারাই পাংচুয়াল এন্ড হাঁসিখুশি, তাদের সঙ্গেই কাজ করতে ভালো লাগে।

কোন কোন ডিরেক্টরের সঙ্গে কাজ করতে ভালো লাগে…

– আমি খুব অল্প ও পছন্দমতো স্ক্রিপ্টে কাজ করি। তাই ছবির সংখ্যাও কম। তবুও যাদের সঙ্গে কাজ করে শিখতে পেরেছি কিছু, তাঁরা হলেন চাষী নজরুল স্যার, আকবর স্যার, নুর মোহাম্মদ মনি, এবং আব্বা।

ভবিষ্যতে কোন ডিরেক্টরের সঙ্গে কাজ করতে চান..

– আমি সবার সঙ্গেই কাজ করতে চাই। সে নতুন কি পুরানো। যিনি আমাকে প্রোপারভাবে প্রেজেন্ট করতে পারবেন, এবং অবশ্যই ভালো ক্যারেক্টারে পারফর্ম করাতে পারবেন, তাঁর সঙ্গেই কাজ করবো। আমি ছবির সংখ্যা বাড়াতে না ভালো মানসম্মত কাজে বিশ্বাসী।

somrat familyআপনি তো টেলিফিল্ম ডিরেকশন দিয়েছেন, ফিল্মে ডিরেকশান দেয়ার ইচ্ছে আছে কি…

– বড় পর্দা আর ছোট পর্দা এক নয়। ছোট পর্দায় দুটো নাটক বা টেলিফিল্ম ডিরেকশান দিলেই কখনোই পূর্ণদৈর্ঘ্য ফিল্ম ডিরেকশান দেয়া যায় না। আমার সে যোগ্যতা যেদিন হবে বা যদি কখনো অর্জন করতে পারি, তাহলেই হয়তো ফিল্ম ডিরেকশানে আসবো। এখনো অনেক শেখার ও জানার বাকী আছে।

অ্যাক্টিং এর বাইরে আর কি করছেন…

– নিজের ছোটখাটো বিজনেস আছে। ফ্যামিলি বিজনেস তো আছেই। সো শ্যুটিং না থাকলে অফিস করি।

আপনার মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিগুলো কি কি…

– আমি বেঁচে আছি, কোটি টাকার ফকির, মন দিয়েছি তোমাকে, কাজের মানুষ, এক টাকার ছেলে, কোটি টাকার মেয়ে, আয়না কাহিনী, মা আমার চোখের মণি ইত্যাদি।

ফিল্মে দর্শক বাড়ানোর উপায় কি…

– ভালো রুচিসম্মত গল্পের ছবি। আর হলগুলোর সুন্দর ছিমছাম পরিবেশ হওয়া চাই। তাহলে দর্শক বাড়বে।

অবসর সময় কি করেন..

somrat 2– অবসরে ঘরে থাকি। গান শুনতে ভালো লাগে। ক্রিকেট খেলি। বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে বেড়াতো যাই। লাইফ এনজয় করি।

ল্যাটেস্ট কোন ফিল্ম আসছে..

– কাজের শত্রু, ভুল যদি হয়, বেঈমান।

আপনার কোথায় ঘুরতে ভালো লাগে…

– যেখানে প্রাইভেসী থাকবে, নতুন নতুন কিছু দেখার থাকবে, সাথে বন্ধুরা থাকা চাই।

কি কি খেতে পছন্দ করেন,..

– করল্লা দিয়ে ডাল চর্চরী, ইলিশ মাছের ডিম ভাজি, খিচুরী, স্ন্যাকার্স এন্ড স্যান্ডউইচ।

কার হাতের রান্না ভালো লাগে…

– বিয়ের আগে মা অবশ্যই। বিয়ের পর মায়ের ট্রেনিং পাওয়া বউয়ের রান্না। আমি ভেরী লাকী, মা বা বউ যেকোনো বাসায় থাকলেই ভালো খাবার পাই।

পরিধানের ক্ষেত্রে কোন ব্যান্ড..

– আমি খুবই ক্যাজুয়াল। ব্যান্ড এডিকশান আমার নেই। যেটা পরে আরাম লাগে আর মানায় সেটাই ব্যবহার করি।

কি কি ছাড়া আপনি চলতে পারবেন না…

– আমার প্রচন্ড রকমের গাড়ির সখ। গাড়ি আমার গার্লফ্রেন্ডের মতো। সো গাড়ি ছাড়া আমি চলতে পারি না। ডিফ্রেন্ট মডেল, ডিফ্রেন্ড ব্যান্ড, কালেক্ট উইজ করি। ড্রাইভিং শখ। ইনফেক্ট আমার বেডরুমের জানালা দিয়ে যাতে গাড়িগুলো দেখা যায়, সে ব্যবস্থা করে রেখেছি।

রাজনীতিতে আসার ইচ্ছে আছে কি…

– রাজনীতি বুঝিনা। তিনবেলা খাওয়া আর সেফটি ঘুমানোর জায়গা দিলেই খুশি।

আপনাকে যদি প্রধানমন্ত্রী বানানো হয় প্রথমে কি করবেন…

– প্রথম কাজ করবে পদত্যাগপত্র জমা দেয়া। এবং এমন একজনকে বসাতে চাই, যিনি দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করবেন। জাতি ধর্ম নির্বিশেষ ভাই ভাই হয়ে বাঁচতে চাই। খুনাখুনি বন্ধ করবে।

এমন কোনো ইচ্ছে আছে কি যা পুরণ হয়নি…

– আপাতত কোনো ইচ্ছা জাগে নি। আল্লাহ তায়ালা আমাকে অনেক দিয়েছেন। সেজন্যর জন্য সবসময় শুকরিয়া আদায় করি।

টাঙ্গাইল বার্তা সম্পর্কে কিছু বলুন…

– টাঙ্গাইল বার্তা সম্পর্কে বলবো গতানুগতিক সংবাদ প্রকাশ না করে, সত্য খবর সন্ধান করে তা জনগনের কাছে পৌছে দিন।

ফেসবুক মন্তব্য