ঢাকা শনিবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৮

Mountain View



বিদ্যুতের আলো ছাড়াই সোলারের আলোই আলোকিত শার্শার গোগা বিল পাড়া

Print Friendly, PDF & Email
ইয়ানুর রহমানঃ  বিদ্যুতের আলো ছাড়াই গত ২ বছর ধরে সোলারের আলোই আলোকিত হয়েছে শার্শার গোগা বিল পাড়া। রাতের অন্ধকার দুরে ঠেলে দিয়ে শিক্ষার্থীদের জীবন আলোকিত করতে সহায়তা করে চলেছে এ আলো। এ টুকুতেই মহা খুশি এ গ্রামের অবহেলিত মানুষ গুলি। শার্শার গোগা ইউনিয়নের ঠেঙ্গামারী বিলের মাঝখানে অবস্থান বিলপাড়া গ্রামের। গ্রামে ছিলনা বিদ্যুৎ। তিন মাইল পায়ে হেটে কোমলমতি শিশুদের যেতে হতো স্কুলে। যা ছিল অত্যন্ত কষ্ট সাধ্য।

ছিলনা কোন ভাল  রাস্তা। যা ছিল তাও আবার খানা খন্দে ভরা। দীর্ঘদিনের অবহেলীত এ গ্রামের মানুষের প্রানের দাবি ছিল বিদ্যুৎ ও একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এ দাবি আরো সোচ্ছার হয়ে উঠলো। গ্রামের আবাল বৃদ্ধ বনিতা এ দাবি নিয়ে ছুটে গেল সংসদ সদস্য আলহাজ শেখ আফিল উদ্দিনের কাছে। তিনি অজপাড়া গাঁওয়ের বিচ্ছিন্ন এ গ্রামের মানুষের কথা মনযোগ সহকারে শুনে গ্রামটি পরিদর্শনে যান

পরিদর্শন শেষে বিদ্যুৎ বিভাগ ও শিক্ষা বিভাগের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তার সাথে বার বার বৈঠক করলেন। বিদ্যুৎ বিভাগ তাৎনিকভাবে নতুন সংযোগ দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার অগ্রগতির জন্য গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে সোলার বিদ্যুতের ব্যবস্থা করেন সম্পূর্ন নিজস্ব তহবিল হতে সংসদ সদস্য আলহাজ শেখ আফিল উদ্দিন।  এবং সম্পূর্ন নিজস্ব ব্যয়ে উক্ত গ্রামে নির্মান করেন একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। যেখানে গ্রামের প্রতিটা শিশু অতি আরামেই শিক্ষা গ্রহন করছে। রাতে সোলার বিদ্যুতের আলোই ঝলমল করে ঊঠছে গ্রামের এপ্রান্ত হতে ওপ্রান্ত।
খানা খন্দে ভরা রাস্তাটি এখন চলাচলের উপযোগী হয়ে উঠেছে।৫ম শ্রেনীতে পড়–য়া জোলেখা বেগম জানায়, সোলারের আলোতে আমরা সুন্দরভাবে লেখাপড়া করতে পারছি। এখন আর দীর্ঘ ৩কিলোমিটার পায়ে হেটে স্কুলে যেতে হয় না। বাড়ির পাশেই পেয়েছি প্রায়মারি স্কুল। আগের চেয়ে অনেক ভাল রেজাল্ট করতে পারছি। গোগা বিলপাড়া গ্রামের গৃহবধু মরিয়ম বেগম জানায়, জীবনেও ভাবতে পারিনি বিদ্যুতের আলো এখানে পৌছাবে। সবচেয়ে ভাল লাগছে  স্কুলটি পেয়ে। এখন আর দুশ্চিন্তাই থাকতে হয়না ছেলে মেয়েদের নিয়ে। কাছেই স্কুল তাই ভাবনাটা কমে গেছে। আগে রাতে বের হতে ভয় পেতাম।

এখন সোলারের আলো থাকায় রাতে বাইরে বের হতে আর ভয় লাগে না। গৃহকর্তা আলমগীর হোসেন জানান, সংসদ সদস্য আলহাজ শেখ আফিল উদ্দিনের কাছে দাবি করেছি পেয়েছি। খুব ভাল আছি। তবে আরো একটা দাবি আওয়ামীলীগ আবারো মতায় এলে যেন রাস্তাটির দিকে এমপি মহদয় নজর দেন। বিলের মধ্যে গ্রাম হওয়ায় বছরের অর্ধেক সময় কাদায় চলাফেরা করতে হয়। লোকসমাজ পত্রিকায় বিতর্কিত সংবাদ প্রকাশের ব্যাপারে তিনি বলেন, বাবরবার মতায় এলেও ঐ পত্রিকাটির মালিকের দল তো আমাদের জন্য কিছুই করেননি। এখানে বসবাসের পর থেকে আমরা বিভিন্ন সমস্যায় ভুগেছি। কোন দিন আমাদের খোঁজ নেননি। এখন আমরা অনেক পেয়েছি তাই তাদের হিংসে হয়। পত্রিকাটির মিথ্যাচারের কারনে দলটিরই তিই হচ্ছে।

ফেসবুক মন্তব্য