ঢাকা বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২৬, ২০১৮

Mountain View



পরীক্ষায় নকল বন্ধে আমাদের করণীয়

Print Friendly, PDF & Email

অধ্যাপক এ সি বৈদ্য, অতিথি লেখক : পরীক্ষায় নকল মাদকের মতোই সামাজিক ব্যাধি হয়ে আমাদের মধ্যে আসন করে নিয়েছে। প্রায় সবারই যেন পরীক্ষায় নকলের পক্ষে অবস্থান। ছাত্র, শিক্ষক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা, ছাত্রনেতা, ব্যবস্থাপনা কমিটি, অভিভাবকসহ সমাজের সকল স্তরের লোকজন নকলের সাথে কম বেশি জড়িত। সবাই চায় তার ছেলে মেয়ে যেন পরীক্ষায় ভাল রেজাল্ট করে এবং তা যে কোন উপায়ে হোক। শিক্ষকেরা এখন আর পরীক্ষার হলে বলে দিতে ভয় বা শরম পায় না। সারা বছর প্রাইভেট পড়ায়, ভাল রেজাল্ট না করাতে পারলে কোচিং বা প্রাইভেট বানিজ্য বন্ধ হয়ে যাবে। প্রশ্ন পত্র ফাঁসের সাথে এক শ্রেণির শিক্ষকও জড়িত।

প্রায় সকল পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়া যেন এখন রেওয়াজে পরিনত হয়েছে। বিষয় ভিত্তিক শিক্ষকদের পরীক্ষার হলে দায়িত্ব পালনে এখন কোন বাধা নেই। জেনে শুনেই এক শ্রেণির দূর্নীতিবাজ শিক্ষকরা সুকৌশলে একাজ করে থাকে। পরীক্ষায় ভাল ফলাফল করলে এলাকার সুনাম হবে, স্কুলের সুনাম হবে। তাছাড়া এমনও দেখা যায় রাজনৈতিক নেতারাও পরীক্ষা কেন্দ্রের কর্মকর্তাদের মধ্যে শলা-পরামশর্শ করে অবাধে নকল সরবরাহ করার ব্যাবস্থা করে দেয়। এরাই আবার প্রশ্ন পত্র ফাঁসে করার কাজে লিপ্ত থাকে। বিষয় ভিত্তিক বিশেষজ্ঞ শিক্ষকেরা প্রশ্নের উত্তর ঠিক করে দেন। এরপর কম্পিউটার করা হয় এবং চাহিদা অনুযায়ী ফটোকপি করে নকল সরবরাহ করা হয়। অধিকাংশ অভিভাবকেরা এ কাজে আর্থিক সহযোগিতা করতে দ্বিধা করেন না। নকল করে ভাল পরীক্ষা দিল জেনেও সবাই যেন খুশি। ফলাফল পেয়ে বাবা মা ভাই বোন শিক্ষক সবাই মহাখুশি। যার পাশ করার কথা নয় সে জিপিএ-৫ (গোল্ডন) পায়। এতে শিক্ষকদের কদর বেড়ে যায়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও বাহাবা নেয়।

ইদানিং কালে পত্রিকার পাতায় প্রায়ই দেখা যায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের খবর। এইত সেদিন প্রাইমারী নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হলো। এটি জাতির জন্য কতো যে লজ্জাস্কর তা কেউ ভাবছিনা। কোমলমতি শিশুরা পিএসসি, জেএসসি পরীক্ষা দিচেছ তাও ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রে। বাবা মা শিক্ষক শিক্ষার্থীরা অস্থির হয়ে প্রশ্ন সংগ্রহ করছে। প্রশাসন জেনেও না জানার ভান করছে। ফলাফল ভাল হলেই হল। জীবনের শুরুতে যে পরীক্ষা দিতে হল তাতে যদি নকলের হাতেখড়ি হয় তবে অন্যান্য পরীক্ষায়তো নকল ছাড়া চলবে না। এভাবেই কয়েক বছর যাবৎ নকল আস্তানা গেড়ে বসেছে। ভয়ে কেউ এ অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে পারছে না। প্রশ্ন পত্র ফাঁস এবং নকল সরবরাহ বানিজ্যের সাথে জড়িতরা খুব প্রভাবশালী জেনে কেউ তাদের বিপক্ষে অবস্থান নিতে চান না।

এ ধরনের অনৈতিক কাজকে আমাদের ঘৃনা করা উচিত। শিক্ষার্থীদের এ ধরনের অনৈতিক কাজের ক্ষতিকর প্রভাব বুঝাতে হবে। সংশ্লিষ্টদের কঠোর হস্তে দমন করতে হবে এবং আইনের হাতে সোপর্দ করতে হবে। পরীক্ষার হলে বহিরাগত প্রবেশ বন্ধ করতে হবে। প্রয়োজনে প্রাইভেট টিউশনির সাথে জড়িত শিক্ষকদের পরীক্ষার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিতে হবে। ছাত্র, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে নৈতিকতায় ফিরিয়ে আনতে হবে। নকলের কুফল সর্ম্পকে ধারনা দিতে হবে। প্রতিষ্ঠান প্রধানদেরও এ পথ থেকে ফিরে আসতে হবে সব রকম বাধা অতিক্রম করে। পিএসসি, জেএসসি, এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষা এখন পরিচ্ছন্ন হয়না বললেই চলে। তাই এত পাশের হার ও ফলাফল ভাল। বিগত কয়েক বছর যাবত চলছে নকল প্রবনতা। জানে সবাই বলতে চায়না কেউ। আমরা আশা করব আর কোন পরীক্ষায় নকল হবেনা। সরকার এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে থাকবে এবং আসন্ন এসএসসি পরীক্ষা থেকে শুরু হোক এ মহতী উদ্যোগ

লেখক: বিভাগীয় প্রধান,উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগ; গোপালপুর কলেজ, টাঙ্গাইল।

ফেসবুক মন্তব্য