ঢাকা বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৫, ২০১৮

Mountain View



সখীপুরে যত্রতত্র সাইবার ক্যাফে; সাইবার ক্যাফের নামে গেমসের ব্যবসা

Print Friendly, PDF & Email

আমানত হোসাইন মাসুম, সখীপুর প্রতিনিধি: স্কুল ফাঁকি দিয়ে শিক্ষার্থীদের সাইবার ক্যাফে যাতায়াতের মাত্রা প্রকটভাবে বেড়েছে। কোনো সুস্পষ্ট সাইবার নীতিমালা না থাকার কারণে সাইবার মালিকরাও চালিয়ে যাচ্ছেন ইচ্ছেমতো ব্যবসা। সাইবার ব্যবহারের সহজলভ্যতার কারণে এসব কিশোর শিক্ষার্থীদের মধ্যে লেখাপড়ার প্রতি অনীহা তৈরি থেকে শুরু করে মানসিক অস্থিরতা এবং অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘটছে মূল্যবোধের অবয়।

টাঙ্গাইলের সখীপুরে গড়ে উঠেছে যত্রতত্র সাইবার ক্যাফে। উপজেলার বেশ কয়েকটি বাজারে রয়েছে একাধিক সাইবার ক্যাফে। বাদ নেই স্কুলের পাশের দোকানপাটগুলোতে। এসকল সাইবার ক্যাফে গেমস খেলা এবং ইন্টানেটে পর্নোসাইট ব্রাউজিং চলছে ধুমধারাক্কা। তরুণ শিক্ষার্থীরা এসব সাইবার ক্যাফে বিভিন্ন আপত্তিকর সাইটে মজে থাকে সারাদিন। পর্ণো, ফেসবুক, গেমসসহ নানা মিউজিক সাইটে ঘন্টার পর ঘন্টা সময় কাঁটায় স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা। অনেকেই স্কুল-কলেজ ফাঁকি দিয়ে সাইবার ক্যাফেগুলোতে অতিবাহিত করে ঘন্টার পর ঘন্টা।

সাইবার ক্যাফের মালিক ও গ্রাহকদের (শিক্ষার্থী) সাথে কথা বলে জানা যায়, সাইবার ক্যাফেসমূহ সকাল ৮টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত জমজমাট থাকে। প্রতিটি সাইবার ক্যাফেই থাকে উপচে পড়া ভিড় আর এ জন্যই আসন পেতে সবাইকে অপোর প্রহর গুনতে হয়। প্রতিটি সাইবার ক্যাফেই স্কুল-কলেজের শিার্থীদের ভিড় বেশি দেখা যায়। বিশেষ করে প্রি-ক্যাডেট স্কুলের ২য় থেকে ৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের বেশি চোখে পড়ে এসকল সাইবার ক্যাফে। তবে গ্রাহকদের অধিকাংশই উঠতী বয়সের বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।

ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার কারণে উপজেলাজুড়ে সাইবার ক্যাফের জমজমাট ব্যবসা চলছে। উপজেলার সাইবার ক্যাফে গুলোতে ইন্টাররেটের অপব্যবহার দিন দিন বেড়েই চলেছে। এ বিষয়ে আতংকিত অভিভাবকরা। অভিভাবকদের অভিযোগ বাসায় বসে যা করা যায়না তাই সাইবার ক্যাফে করা হচ্ছে।

সাইবার ক্যাফে আসক্ত হয়ে ওইসব ছেলেদের শিাকার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে জানান অভিভাবকরা। সাইবার ক্যাফের অপব্যবহার রোধের জন্য বিটিআরসির লাইসেন্স নেওয়ার বিধান থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে অধৈভাবে ব্যবসা চালাচ্ছে সাইবার ক্যাফ ব্যবসায়ীরা। এছাড়া পর্ণো সাইট সমূহ না দেখানোর ব্যাপারে কঠোর বিধি নিষেধ থাকলেও তা মানছে না সাইবার ক্যাফে ব্যবসায়ীরা। এডাল্ট ফিল্ডার (পর্ণো নিরোধক) সফটওয়্যার ব্যবহার, গ্রাহকদের নাম, ঠিকানা ও জাতীয় পরিচয় পত্রের নম্বর সংরণের বিধান থাকলেও অধিকাংশ সাইবার ক্যাফ সমূহ এ নীতিমালা সমূহ মানছে না । এক প্রকার স্বেচ্ছাচারী হয়ে ব্যবসা চালাচ্ছে সাইবার ক্যাফে ব্যবসায়ীরা।

সাইবার ক্যাফে ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের জন্য সাইবার ক্যাফ ওনার্স এসোসিয়েশন নামে একটি সংগঠন রয়েছে। ইন্টারনেটের অপব্যবহার প্রতিরোধের জন্য বিআরটিসির নীতিমালা বাস্তবায়ন, এসকল সাইবার ক্যাফে তুলে দেয়া এবং সকলের সচেতনতা আবশ্যক বলে মনে করেন সচেতন মহল।
শুধু সখীপুরে নয় সারাদেশে অবাধে চলছে এসব সাইবার ক্যাফে ব্যবসা। শিক্ষার্থীদের মানোন্নয়ন এবং ফলাফল ভালো করার স্বার্থে দেশের সমস্ত সাইবার ক্যাফে বন্ধ করা প্রয়োজন বোধ করছেন দেশের বিজ্ঞজনেরা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবু নাসের বেগ বলেন, যে সকল সাইবার কাফে গেমসের আসর বসানো হয়েছে তা অচিরেই বন্ধ করা হবে। এটি আমি খুব গুরুত্বসহকারে দেখব বলেও জানান তিনি।

ফেসবুক মন্তব্য