ঢাকা মঙ্গলবার, নভেম্বর ২০, ২০১৮

Mountain View



সখীপুর বড়চওনা উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে অনিয়ম চিকিৎসক থাকেন না ওষুধ দেন ঝাড়ুদার

Print Friendly, PDF & Email

আমানত হোসাইন মাসুম, সখীপুর প্রতিনিধি: সখীপুর উপজেলার বড়চওনা উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রায় প্রতিদিনই নিয়মিত চিকিৎসক উপস্থিত থাকেন না বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। ফলে চিকিৎসা না পেয়ে রোগীরা ফিরে যান। এখানে প্রায় ২০টি গ্রামের লোকজন প্রতিদিন ১’শ হতে দু’শ জন রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন।

জানা যায়, এই উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে মেডিক্যাল অফিসার ১জন, উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার ১জন এবং ১জন ফার্মাসিস্ট থাকলেও নিয়মিত তারা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে উপস্থিত থাকেন না।

রবিবার সরেজমিন ওই স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়ে জানা যায়, বেলা ১১টা’রও পরে কেন্দ্রে আসেন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার ডা. হাফিজুর রহমান। অথচ তার উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে উপস্থিত থাকার কথা সকাল ন’টায়। দেরিতে আসার কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান, পরীক্ষায় ডিউটির জন্য তার দেরি হয়েছে। ততক্ষণে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রায় শ’খানেক নারী-পুরুষ ও শিশু রোগীর জটলা বেধে যায়। জ্বর, কাশি, ঠান্ডা ও শ্বাস কষ্টজনিত অনেক শিশু রোগীর মায়েরা সকাল থেকেই চিকিৎসকের অপেক্ষায় ছিল। সব রোগী একজনের পক্ষে দেখা হিমশিম খাওয়ার দৃশ্যও দেখা যায়।

অন্যদিকে ফার্মাসিস্ট না থাকায় ঝাড়ুদার লাল বানুকে ওষুধ ডেলিভারী দিতে হয়। কিন্তু বিপত্তি! ঝাড়ুদার লাল বানু টুকরো প্রেসক্রিপশন পড়ে ওষুধ দিতে না পারায় রোগী দেখাবস্থায় চিকিৎসক হাফিজুর রহমানকে ওষুধ ডেলিভারী দিতে হয়। এ অবস্থায় বেলা দেড়টা পর্যন্ত ওই চিকিৎসক প্রায় ৬০ জন রোগী দেখেন। ভিড়ের চাপে বাকী রোগীরা চিকিৎসা না নিয়েই ফিরে যায়।

উপজেলার বিন্নাখাইরা গ্রামের বৃদ্ধ কাজিমুদ্দিন (৮০) আসেন চিকিৎসা নিতে। তিনি বলেন, ‘দাক্তরগো কামইতো রোগী দেহা, কিন্তু আমরা সুময় মুত দাক্তর পাই না’। বিন্নরী গ্রামের কোকিলা নিয়ে আসেন তার ৪ বছর বয়সী ছেলে কবিরকে, জরিনা নিয়ে আসেন তার ৯ মাস বয়সী মেয়ে আরজিনাকে নিয়ে। দুটি শিশুরই জ্বর-ঠান্ডা-কাশি ও শ্বাস কষ্টজনিত রোগ।

দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগী ও শিশু রোগীদের মায়েরা বলেন, ‘এ কেন্দ্রের ডা. শামছুন নাহার সুমীকে আমাদের অসুস্থ সন্তান দেখাবো। কিন্তু ওই চিকিৎসককে আমরা যথাসময়ে পাই না।’ এ ব্যাপারে অনুপস্থিত ফার্মাসিস্ট আবু বকর মুঠোফোনে বলেন, ‘আমার মেয়ের পরীক্ষাজনিত কারণে আসতে পারি নাই।’ মেডিক্যাল অফিসার ডা. শামছুন নাহার সুমী টাঙ্গাইল সদর থেকে আসেন।

অনুপস্থিত থাকার কারণ জানতে চাইলে মুঠোফোনে এ প্রতিবেদককে দাম্ভিকতার সঙ্গে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যা খুশি তাই লিখতে পারেন’ আমি অসুস্থ্য।

ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, ওই চিকিৎসক সপ্তাহে ২/৩ দিন এসে তিনি শুধু হাজিরা খাতায় স্বার দেন। রোগীও কম দেখেন। কয়েক মাস আগেও তিনি পরীক্ষা র কারণ দেখিয়ে প্রায় তিন মাস ছুটিতে ছিলেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. আনোয়ার হোসেনের কাছে ওই দুই কর্মকর্তার অনুপস্থিতির কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ডা. শামছুন নাহার সুমী ও ফার্মাসিস্ট আবু বকর সিদ্দিকের কোন ছুটির আবেদন তিনি পাননি। টাঙ্গাইল জেলা সিভিল সার্জন ডা. সৈয়দ ইবনে সাইদ বলেন, অনুপস্থিতির ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফেসবুক মন্তব্য