ঢাকা শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৮

Mountain View



টাঙ্গাইল কটন মিলস এক যুগ ধরে বন্ধ, বেহাত হতে চলেছে সরকারী দুই’শ কোটি টাকার সম্পত্তি

Print Friendly, PDF & Email

রাশেদ খান মেনন(রাসেল), টাঙ্গাইল : প্রায় এক যুগ ধরে বন্ধ রয়েছে টাঙ্গাইল জেলায় মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই শিল্পাঞ্চলে রাষ্ট্রায়াত্ব প্রতিষ্ঠান টাঙ্গাইল কটন মিলস। মিলটি বন্ধ থাকার কারনে চাকুরি হারিয়ে কয়েক হাজার শ্রমিক কর্মচারী এখন পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। সরকারী তদারকির অভাবে প্রায় ২শ কোটি টাকার সম্পত্তি ধীরে ধীরে বেহাত হতে চলেছে।

Tangail Cotton Mills er  Pic 02  (R.K.Menon)

কটন মিলে অলস পড়ে থাকা মেশিনারিজ, ছবি: রাশেদ খান মেনন

সরেজমিনে অনুসন্ধানে গিয়ে জানা যায়, ১৯৬২ সালে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক সংলগ্ন গোড়াই শিল্পাঞ্চলে ২৬ দশমিক ২৮ একর জায়গা নিয়ে পশ্চিম পাকিস্তান নামে সুতা উৎপাদনের জন্য টাঙ্গাইল কটন মিলস স্থাপিত হয়। উপ মহাদেশের মধ্যে সরকারী মালিকাধীন বাংলাদেশ টেক্সস্টাইল মিলস কর্পোরেশনের প্রথম সুতার মিলস ছিল এটি। ১৯৬২ সালে ১নং ইউনিট এবং ১৯৮১ সালে ২নং ইউনিট চালু করা হয় মিলটিতে। এক সময় শ্রমিক কর্মচারীদের কলকাকলিতে মুখরিত ছিল পুরো এলাকা। সকালে এই এলাকার মানুষের ঘুম ভাঙ্গত মিলের বাঁশির আওয়াজে। প্রায় তিন হাজার শ্রমিক কর্মচারী ও তাদের পরিবারের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছিল এখানে। ১নং ইউনিটে অতি উন্নত মানের ১০ থেকে ৬০ কাউন্ট এবং ২নং ইউনিটে ৩০ থেকে ৮০ কাউন্টের সুতা উৎপন্ন হত। যা দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানী করে সরকার প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করতো সরকার। কাঁচামালের অভাব, অর্থনৈতিক সংকট এবং মিলের যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ১৯৯৮ সালে ২নং ইউনিট এবং ২০০৮ সালে ১নং ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। বেকার হয়ে পরে কয়েক হাজার শ্রমিক । এছাড়া মিলের বিশাল বিশাল পাকা ভবনগুলোর দেয়াল-ছাঁদ খসে পরে যাচ্ছে এবং আবাসিক ভবন ও একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারী তদারকির অভাবে সরকারী এই মিলের দুই শত কোটি টাকার যন্ত্রপাতি এবং বিশাল সম্পতি ধীরে ধীরে বেদখল হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠানটি এক যুগ ধরে বন্ধ থাকলেও বর্তমানে ১৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত আছেন। তাদের মধ্যে ৩জন সরকারি ভাবে বেতন পাচ্ছে। বাকি ১৭ জন বেতন ছাড়াই কর্মরত আছেন। এই কর্মকর্তা কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কটন মিলসের নানা প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ চুপিসারে বিক্রি করার অভিযোগও রয়েছে।

এলাকাবাসীদেও কাছ থেকে জানা যায়, এলাকার প্রভাবশালী মহলের কিছু লোকজন আস্তে আস্তে এই কটনস মিলের জায়গা দখল করছে। টেক্সটাইল মিলের কর্মকর্তা কর্মচারীদের জন্য নির্ধারিত আবাসিক ভবনগুলো বেশ কিছুদিন আগেই বেহাত হয়েছে। এলাকার কিছু লোক ইতোমধ্যেই সেগুলো দখলে নিয়ে বসবাস করছে। মিলটি বন্ধ থাকার কারনে হরদম চলছে নেশার আড্ডা। অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগও করেছে নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেকেই। আর যারা এই কটন মিলে চাকুরী করত তারা অনেকেই মানবেতর জীবন যাপন করছে। অপকর্মকারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় তারা দেখেও না দেখার ভান করে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

টাঙ্গাইল কটন মিলের সুপারভাইজার আব্দুল বারেক সিদ্দিকী জানান, প্রায় এক যুগ ধরে বিভিন্ন সমস্যার কারনে মিলের ১ ও ২নং ইউনিট বন্ধ রয়েছে। ১নং ইউনিটের সকল মেশিন সম্পুর্ণ ভালো আছে। সরকার পূনরায় উদ্যোগ নিয়ে যদি মিলটি চালু করে তাহলে বেকার হয়ে যাওয়া মানুষগুলো কর্মসংস্থান ফিরে পাবে।

টাঙ্গাইল কটন মিলসের জেনারেল ম্যানেজার মোঃ পারভেজ হোসেন জানান, কাঁচামাল, অর্থনৈতিক সংকট এবং মিলের যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ১৯৯৮ সালে মিলের ২নং ইউনিট এবং ২০০৮ সালে ১নং ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। বেকার হয়ে পরে কয়েক হাজার শ্রমিক কর্মচারী। একারনে কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি অলস পরে থেকে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

টাঙ্গাইল কটন মিলের হাবিলদার মিজানুর রহমান জমাদ্দার জানান, বন্ধ থাকা কটন মিলটি চালু হলে এলাকার বেকার সমস্যা দুর হবে। সেই সাথে এলাকার উন্নয়নের পাশাপাশি সরকার লাভবান হবে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে টাঙ্গাইল কটন মিলসটি চালু করার জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন বেকার হয়ে পরা শ্রমিক, এলাকাবাসী ও জনপ্রতিনিধিরা।

ফেসবুক মন্তব্য