ঢাকা মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৮

Mountain View



সখীপুরে বিলুপ্ত হচ্ছে শাল গজারি কপিচ বাগান

Print Friendly, PDF & Email

আমানত হোসাইন মাসুম, সখীপুর সংবাদদাতা: কালের বিবর্তনে ধীরে ধীরে সখীপুর সংরক্ষিত বনাঞ্চলের শত বছরের ঐতিহ্য শাল গজারি কপিচ বাগান বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। বনবিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারী, অবৈধ কাঠ ব্যবসায়ীদের যোগসাজশে শাল গজারি কপিচ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। বন মামলা থেকে রেহাই পাবার জন্য এবং বন বিভাগের লোকজন ঝামেলা এড়াতে কর্তনকৃত শাল গজারির মোথা সমূলে উপরে ফেলা হচ্ছে। অন্যদিকে শাল কপিচ মোথা থেকে বংশ বিস্তারে মারাত্বকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এ বাগান রক্ষার্থে ২০০১-২০০৪ সালে বনবিভাগের পক্ষ থেকে প্লট ভিত্তিক উপকারভোগী নিয়োগ করা হয়। কিন্তু অংশীদারদের প্লটের সীমানা নির্ধারণ করে না দেওয়ায় শাল গজারি কপিচ বাগান রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না বলে একাধিক অভিযোগও রয়েছে। এছাড়া কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে প্লটের পার্শ্ববর্তী লোকদের অংশীদার না করে ১৫/২০ কি.মি. দূরের লোকদের প্লটের অংশীদার করায় অবৈধ বৃক্ষ নিধন করা হলেও প্রতিবাদ করার কেউ নেই।

সরেজমিনে বহেড়াতৈল রেঞ্জের সদর বিটের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায় শাল গজারি কপিচ বাগানের ২৭০ জন উপকারভোগী নিয়োগ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮০/১০০ জন অংশীদার কালিহাতী উপজেলার নাগবাড়ী, রতনগঞ্জ এবং সখীপুর উপজেলার শেষ সীমানা ডাবাইল গোহাইল বাড়ী এলাকার। স্থানীয় উপকারভোগী হেলাল উদ্দিন, মহর আলী, লাল মিয়া ও হারুন সহ আরো অনেকেই জানান শাল গজারি কপিচ বাগানের সীমানা নির্ধারণ করে না দেওয়ায় প্লটের বৃক্ষ রক্ষনাবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এমন কি প্রশাসনিকভাবেও কোন কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছেন না।

বিশ্বায়নের যোগে অবাধে শাল গজারি কপিচ বাগানের বৃক্ষ নিধন করার ফলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিনষ্ট হবে। শাল গজারি কপিচ বাগান যেভাবে দ্রুত বিলুপ্ত হচ্ছে তাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম শাল গজারির নাম শুনবে কিন্তু দেখতে পাবে না।

এ ব্যাপারে বহেড়াতৈল রেঞ্জ কর্মকর্তা মালেকুজ্জামান ও সদর বিট কর্মকর্তা এস.এম কামাল উদ্দিন বলেন, বহেড়াতৈল বিটের বিশাল এরিয়া-লোকবল কম থাকায় রাত-দিন ২৪ ঘন্টা পরিশ্রম করেও শাল গজারি কপিচ বাগান রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে আগের তুলনায় বন অপরাধ অনেকাংশে কমে গেছে।

ফেসবুক মন্তব্য