ঢাকা শুক্রবার, মে ২৪, ২০১৯

Mountain View



সাপ নিয়ে যত ভুল ধারণা!

Print Friendly, PDF & Email

ডেস্ক রিপোর্ট : “সাপ! সাপ! সাপ!” বলে হঠাৎ কেউ একজন যদি চিৎকার করে উঠে, সে চিৎকারে আশেপাশের পরোপকারী বীরজনতার প্রথম পদক্ষেপই হয়, যে যা পারে, তাই নিয়ে সাপ মারতে ঝাপিয়ে পড়া। দুঃখজনক হলেও সাপ সম্বন্ধে আমাদের সবার মনোভাব এমনই। এ কথা স্বীকার করি যে, পৃথিবীতে বহুলোক সাপের দংশনে মারা যায়। তবে তার চেয়ে কয়েকশ গুণ সাপ মারা যায় মানুষের হাতে, অকারনে। সাপের গুটিকয় প্রজাতি ছাড়া অধিকাংশ সাপই বিষহীন ও নিরীহ।

উপমহাদেশে প্রাপ্ত সাপের ৭৬ শতাংশই বিষহীন। আর বাকি ২৪ শতাংশের গুটিকয় ছাড়া অধিকাংশই কম বিষধর। সে তুলনায় তাদের প্রতি আমাদের আক্ষেপের পরিমান অনেক বেশি। এই সাপ কিন্তু মানুষের খুবই উপকারি জীব। শস্যহানিকর ইঁদুর ও পোকামাকড় খাওয়াসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাপ মানুষের অনেক উপকার করে। তাই “সাপ মানুষের শত্রু”-এ কথা যারা বলে তারা সাপের শত্রু তো বটেই, মানুষেরও বন্ধু নয়।

এই উপকারি সাধারন জীবটি সম্বন্ধে আমাদের মনে অনেক ভ্রান্ত ধারনা বদ্ধমূল। যার মূল উৎস বলা যায় বিভিন্ন পৌরাণিক কাহিনী। এইসব পৌরাণিক কাহিনী থেকে নানান কাহিনী লোকগাঁথায় অনুপ্রবেশ করে মানুষের মনে সাপ সম্বন্ধে অনেক ভ্রান্ত ধারনার তৈরি হয়েছে। যা অবৈজ্ঞানিক, অযৌক্তিক তথা ভিত্তিহীন। এমন কিছু ভ্রান্ত বিষয় ও তার যৌক্তিক ব্যাখ্যা তুলে ধরছি এ লেখায়-

সাপের মাথায় মনিঃ সাপের মাথায় মনি বলতে কোন কিছুর অস্তিত্ব নেই বা হয় না।

সাপের দুধ কলা খাওয়াঃ সাপ দুধ বা কলা কোনটাই খায় না। সব প্রজাতিই মাংসাশী।

সব সাপ ডিম পাড়েঃ সব সাপই যে ডিম পাড়ে তা ভুল ধারনা। অনেকে সরাসরি বাচ্চা দেয়। যেমনঃ অ্যানাকোন্ডা, চন্দ্রবোড়া।

সর্পদৃষ্টির সম্মোহনী শক্তিঃ সাপের সম্মোহনী শক্তি বলতে কোন শক্তি নেই। সাপের চোখে কোন পর্দা নেই,তার চোখে তাই কোন পলক পড়ে না। আর অধিকাংশ ক্ষেত্রে সাপ দেখলে মানুষ ভয়ে স্তম্ভিত হয়ে যায়, যার কারনে সম্মোহীত হওয়ার ব্যাপারটি মনে হয়।

সাপের প্রতিহিংসাপরায়ণতাঃ শত্রুকে চিনে রাখার ক্ষমতা কোনও সাপের নেই। তাই পরবর্তীতে সাপের প্রতিহিংসার শিকার হওয়ার প্রশ্নই আসে না।

সাপের শ্রবণশক্তিঃ আগে ধারনা ছিল সাপ সম্পূর্ণ বধির। কারন তাদের না আছে কানের ফুটো, না আছে কর্ণেন্দ্রিয়। আধুনিক গবেষনায় জানা গেছে ফুসফুসের মাধ্যমে ওরা বায়ুবাহিত কিছু কিছু শব্দ গ্রহন করতে পারে। জীবজন্তু বা মানুষের পায়ের শব্দে যে সামান্য ভূকম্পন হয় তাও ওরা শুনতে পারে। কিন্তু সাপুড়ের বাঁশির তালে তালে সাপের যে নাচ তা বাঁশির সুরশুনে নয়, নাচে সাপুড়ের লাঠির খোঁচা ও বাঁশির দুলুনিতে।
গরুর বাঁট থেকে দুধ চুষে খাওয়াঃ সাপের ক্ষেত্রে এই ব্যাপারটি করা একেবারেই অসম্ভব। সাপ যা কিছু খায় সব গিলে খায়।

দু-মুখো সাপঃ দু-মুখো সাপ বলতে কোন সাপ নেই। যে সাপকে দু-মুখো বলে সংজ্ঞায়িত করা হয় আসলে এর মাথা একটিই। এর আকৃতি এমন যে, কোনটি মাথা আর কোনটি লেজ তা সহজে সনাক্ত করা যায় না। তাছাড়া পিছু হটার সময় এ সাপ পিছন ফেরে না, ব্যাক-গিয়ারে পিছিয়ে যায়। তবে নিতান্ত প্রকৃতির খেয়ালে একই সাপের দেহে দুটি মাথা গজিয়ে উঠতে পারে।

সাপের পোষ মানাঃ ঘোড়া বা কুকুরের মত সাপ অনুগত হয় না বটে, কিন্তু কেউ যদি দীর্ঘ দিন তার খাদ্য জোগায় তবে তার পোষ মানে।

শনি-মঙ্গলবারে বিষহীন সাপের বিষ হয়ঃ এই ধারনাও ভুল। জীবজগতে গ্রীষ্ম-বর্ষা, অমাবস্যা-পূর্ণিমা,সকাল-সন্ধ্যা, দিন-রাত ইত্যাদি আছে কিন্তু শনি-মঙ্গল-শুক্রবার, বছর-দিন-মাস-তারিখ আক্ষরিক অর্থে থাকলেও বাস্তবিক অর্থে কিছু নেই বা এর কোন প্রভাব নেই। এসব মানুষের কল্পনায় বানানো। সুত্র: সম্পূর্ণ রঙিন

ফেসবুক মন্তব্য