ঢাকা বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৫, ২০১৮

Mountain View



টাঙ্গাইলে বাবার পাশে চির নিদ্রায় শায়িত হলেন খালেদ খান

Print Friendly, PDF & Email

নিজস্ব সংবাদদাতা : দেশের জননন্দিত মঞ্চ ও টিভি অভিনেতা ও শক্তিমান নিদের্শক খালেদ খান বাবার পাশে চির নিদ্রায় শায়িত হলেন তার জন্মস্থান টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার উয়ার্শী ইউনিয়নের মশদই গ্রামে।

শনিবার মাগরিবের পর মশদই মধ্যপাড়া জামে মসজিদ মাঠে নামাজে জানাজা শেষে সামাজিক কবরস্থানে বাবা নজরুল ইসলাম খানের পাশেই তাকে দাফন করা হয়।

1535411_10201598789504780_1417438510_n বিকেল সোয়া ৫টায় খালেদ খানের কফিনবাহী এ্যাম্বুলেন্সটি গ্রামে এসে পৌঁছলে হাজার হাজার শোকার্ত এলাকাবাসী তাকে এক নজর দেখার জন্য ভিড় জমান। এ সময় খালেদ খানের লাশ গ্রহণ করেন মশদই গ্রামের মুরুব্বী আব্দুল হক খান, সাবেক মেম্বার কহিনূর ইসলামসহ তার নিকটাত্মীয়স্বজনরা

জানাজায় দলমত নির্বিশেষে হাজার হাজার মানুষ অংশ নেন।

এর আগে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ফুলেল শুভেচ্ছায় শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয় নাটকের যুবরাজ খালেদ খানকে । শনিবার সকাল সাড়ে দশটায় সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের নেতৃত্বে বারডেম হাসপাতালের মরচুয়ারি থেকে খালেদ খানের মরদেহ নিয়ে আসা হয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে। এখানে প্রায় আড়াই ঘণ্টা সর্বস্তরের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয় মরদেহ। এ সময় ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত হন নাটকের এই যুবরাজ। আর সতীর্থদের স্মৃতিচারণে মুখর হয়ে ওঠে পুরো শহীদ মিনার চত্বর।

এদিন শেষ শ্রদ্ধা জানাতে শহীদ মিনারে ছুটে আসেন সর্বস্তরের সংস্কৃতি কর্মী আর অগুনতি ভক্ত দর্শক। খালেদ খানের স্ত্রী মিতা হক, কন্যা জয়িতা, ভাই শাহিন খান, ভাগ্নি রুনা খান এবং সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু, গোলাম কুদ্দুস, হাসান আরিফ, কাজী আরিফ ছাড়াও এদিন ফুল হাতে এসেছেন শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে রামেন্দু মজুমদার, ফেরদৌসি মজুমদার, ত্রপা মজুমদার, হাসান ইমাম, ড. ইনামুল হক, শংকর সাঁওজাল, খায়রুল আনাম সবুজ, মোরশেদুল ইসলাম, গাজী রাকায়েত, কামাল লোহানী, ফরিদুর রেজা সাগর, দেবপ্রিয় ভট্ট্যাচার্য, লিয়াকত আলী লাকী, ঝুনা চৌধুরী, সৈয়দ শামসুল হক, আসাদুজ্জামান নূর, খায়রুল আনাম শাকিল, শারমীন সাথী ইসলাম, বুলবুল ইসলাম, রিপন খান, নাদের চৌধুরী, চাষী নজরুল ইসলাম, ফুয়াদ নাসের বাবু, তারিক আনাম খান, আলী যাকের, বিপাশা হায়াত, ইরেশ জাকের, নিমা রহমান, তৌকীর আহমেদ, আজাদ আবুল কালাম, মোমেনা চৌধুরী, রফিকুল আলম, রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, কেরামত মাওলা, আহসানুল হক মিনু, অরণ্য আনোয়ার, কৌশিক শংকর দাস, মোহন খানসহ দেশের প্রায় সব নাট্য সংগঠনের সদস্যরা।

শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সর্বস্তরের ফুলেল শুভেচ্ছা শেষে খালেদ খানের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদ প্রাঙ্গণে। সেখানে বাদ জোহর নামাজে জানাজা শেষে সরাসরি মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে গ্রামের বাড়িতে।

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন মোটর নিউরন ও হৃদরোগে ভুগে ৫৫ বছর বয়সে গতকাল শুক্রবার রাতে মারা যান নব্বইয়ের দশকের মঞ্চ ও টেলিভিশনের জনপ্রিয় অভিনেতা খালেদ খান। এ বছর শিল্পকলা একাডেমি নাট্যকলায় পুরস্কারের জন্য খালেদ খানকে মনোনীত করেছিল। সেই পুরস্কার হাতে নেয়ার আগে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন এই শিল্পী।

১৯৫৭ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের ছাত্র ছিলেন খালেদ খান। ১৯৭৫ সালে নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের সদস্য হিসেবে মঞ্চনাটকে খালেদ খানের যাত্রা শুরু হয়। ১৯৮৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেয়া এই শিল্পী অভিনয় শুরু করেন আশির দশকে, মঞ্চনাটকের মাধ্যমে। প্রয়াত নন্দিত কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ধারাবাহিক নাটক ‘এইসব দিনরাত্রি’ ও ইমদাদুল হক মিলনের ‘রূপনগর’ নাটকে অভিনয় করে সে সময় দারুণ জনপ্রিয়তা পান খালেদ খান।

ফেসবুক মন্তব্য