ঢাকা বুধবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৮

Mountain View



টাঙ্গাইলের ভন্ডপীর লুৎফর রহমানসহ গোপীবাগে ৬ জন খুন (এক্সক্লুসিভ ভিডিও)

Print Friendly, PDF & Email

নিজস্ব প্রতিবেদক :  গোপীবাগে খুন হওয়া লুৎফর রহমান টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার চরভরূয়া গ্রামের। তিনি হলেন সেই ব্যক্তি যিনি নিজেকে ইমাম মাহদী দাবি করে এর আগে কমপক্ষে তিনবার গ্রেপ্তার হয়েছিলেন এবং জেলও খেটেছিলেন। ইসলামের নামে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগে তার বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় মামলাও আছে। তার বিরুদ্ধে জিডিও রয়েছে বিভিন্ন থানায়।

২০১১ সালের ১৪ অক্টোবর গোপীবাগ ১ম লেনের এক বাড়ি দীঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করার অভিযোগে পাঁচ সহযোগীসহ ইমাম মাহদী (আ.)-এর সেনাপতি পরিচয়দানকারী এই লুৎফর রহমান ফারুক গ্রেফতার করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। গ্রেফতারকৃতদের মাঝে গোপীবাগে খুন হওয়া মনির ও শাহীনও ছিল।

জানা যায়, হত্যার সময় অন্য কক্ষে আটকে রাখা নারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খুনিরা পুলিশের তাড়া খেয়ে আশ্রয় চান। তারপর তারা লুৎফর রহমানের ইমামতিতেই মাগরিবের নামাজ আদায় করেন। এরপর লুৎফর রহমানের সঙ্গে তাদের বাহাস (ধর্মীয় বিতর্ক) হয়। সাড়ে ৬টার দিকে তাদের মুড়ি মাখানো খেতে দেয়া হয়। এ নারীরা ওই লোকদের কাছে ধারালো অস্ত্র দেখেছে বলেও দাবি করছে।

পুলিশের একজন উপপরিদর্শক (এসআই) জানান, এই লুৎফর রহমানকে এর আগে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) দুইবার আটক করেছিল। যাত্রাবাড়ীতে থাকার সময় প্রথম আটক হন তিনি। তিনি নিজেকে ‘ইমাম মাহদী’ দাবি করেন। গোপীবাগে খুন হওয়া লুৎফর রহমান ফারুক সেই ব্যক্তিই। পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এমনটাই ধারণা করছে পুলিশ।

পুলিশের ধারণা, কোনো ধর্মীয় উগ্রপন্থি সংগঠন বা ব্যক্তি সমষ্টি এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। খুনিরা দক্ষ এবং এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

নিজেকে ইমাম মাহদী বলে দাবি করা লুৎফর রহমানকে এর আগে ২০১১ সালের ১৪ অক্টোবরে গ্রেপ্তার করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। পাঁচ সহযোগীসহ ১৮ গোপীবাগের ১নং লেনের বাসা থেকে পাঁচ সহযোগীসহ গ্রেপ্তার হন তিনি।

নিজেকে হযরত ইমাম মাহদী (আ.), আবার ইমাম মাহদীকে (আ.) নবী দাবি করে তার প্রধান সেনাপতি হিসেবে পরিচয় দেয়া, ইসলামের অপব্যাখ্যা দিয়ে ধর্মপ্রাণ মোসলমানদের বিভ্রান্ত করা, দিনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পরিবর্তে দুই ওয়াক্ত নামাজ, নতুন কালেমা ‘আব্বা আল্লাহ ইমাম মাহদী হুজ্জাতুল্লা’ প্রচার ইত্যাদি অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বিভিন্ন ইসলামি সংগঠন তার বিরুদ্ধে নানা সময় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে।

ডিবি পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এসব কর্মকাণ্ডের জন্য লুৎফর রহমান তার গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের ভূয়াপুর থেকে লোকজনের তাড়া খেয়ে ঢাকায় চলে আসেন। এরপর ২০০৭ সালে সূত্রাপুর এলাকায় একই কর্মকাণ্ডের জন্য তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। তখন বেশ কিছুদিন জেল খাটেন তিনি। জেল থেকে বেরিয়ে যাত্রাবাড়ী এলাকায় আস্তানা গড়ে একই কর্মকাণ্ড চালাতে থাকেন। পরে এলাকার লোকজন তাকে গণধোলাই দিয়ে বের করে দেয়। এরপর তিনি গোপীবাগে একই কর্মকাণ্ড শুরু করেন। অভিযোগ পেয়ে ২০১১ সালের ১৪ অক্টোবর ডিবি পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানায় তার নামে ২০০৯ সালে শাহাবাগ থানায় একটি মামলাও দায়ের করা হয় তার বিরুদ্ধে।

জানা যায়, টাঙ্গাইলে থাকাকালীন সময়ে তিনি নিজেকে পীর দাবী করেন। এসময় তাকে এলাকার মানুষ বিতাড়িত করেন। তিনি বোরকা পড়ে ঢাকায় চলে আসে। এরপরে কোনো এক ল্যাংটা বাবার সান্নিধ্যে সাধনা শুরু করেন তিনি। হঠাৎই ঐ ল্যাংটা বাবা উধাও হলে, তিনি জনসাধারণকে বুঝাতে থাকেন, তিনি ছিলেন ঈমাম মাহদী। উনি এখন সপ্তম আসমানে আছেন। আর লূৎফর রহমানই তার রেখে যাওয়া প্রধান সেনাপতি।  ঢাকায় এসে প্রথমে সূত্রাপুরের ধূপখোলা মাঠের পাশে আখড়া গড়েন লুৎফর রহমান। ২০০৭ সালের ৩০ জুলাই একটি জাতীয় দৈনিকে তাকে নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এর পরেরদিন ৩১ জুলাই তাকে আটক করা হয়। পরে মুচলেকা দিয়ে তিনি মুক্তি পান।

উল্লেখ্য, ইসলাম ধর্ম মতে, ইমাম মাহদী হচ্ছেন সেই ব্যক্তি যিনি পৃথিবী যখন নৈরাজ্য ও অনাচারে ভরে যাবে তখন জন্ম নেবেন। মানুষকে সৎপথের দিকে আহ্বান করবেন এবং সব মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে নেতৃত্ব দিবেন। কেয়ামতের আগে যখন হযরত ঈসা (আ.) দ্বিতীয়বার পৃথিবীতে আসবেন তখন একমাত্র ইমাম মাহদীই তাকে চিনতে পারবেন। আরবি নাম ‘ইমাম মাহদী’ অর্থ ‘হেদায়েতপ্রাপ্ত নেতা’।

তবে শিয়া মতাবলম্বীদের মতে, তাদের ১২ ইমামের শেষ ইমাম হচ্ছেন ইমাম মাহদী। নবীর বংশধরদের মধ্যে আসা পর্যায়ক্রমে ১১ ইমাম ইতিমধ্যে গত হয়েছেন। এখন মুক্তির জন্য ইমাম মাহদীর জন্য শেষ প্রতীক্ষা।

সুত্র: বাংলা মেইল।  আরো বিস্তারিত জানতে ভিডিও দেখুন।

ফেসবুক মন্তব্য