ঢাকা মঙ্গলবার, নভেম্বর ২০, ২০১৮

Mountain View



তিনি নায়ক নন, খলনায়ক

Print Friendly, PDF & Email

শৈশবে স্পোর্টসম্যান হওয়ার স্বপ্ন থাকলেও তিনি এখন একজন পুরোদস্তুর অভিনেতা। কঠোর পরিশ্রম, অভিনয়ের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ আর আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে রুপালি পর্দার তারকাদের কাতারে নিজের অবস্থান তৈরী করেছেন তিনি। অভিনয় জগতে নায়ক নন, তিনি খলনায়ক। আর খলচরিত্রে অভিনয় করেই বেশি স্বাচ্ছন্দবোধ করছেন তিনি। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে নায়ক থেকে খলনায়ক হয়েছেন এমন রেকর্ডই বেশি। কিন্তু সরাসরি মূল খলচরিত্রে অভিনয়ে করেছেন এমন খলনায়ক হাতেগোণা কয়েকজন। আর তাঁদেরই একজন রবিউল ইসলাম। মূল খলচরিত্রে তিনি নতুন মুখ হলেও অভিনয় করেছেন বেশ কয়েকটি ছবিতে। মুক্তির মিছিলে রয়েছে প্রায় পাঁচটি ছবি।  প্রতিভাবান, আত্মবিশ্বাসী এ অভিনেতার সঙ্গে কথা বলেছেন টাঙ্গাইল বার্তা’র সহ-সম্পাদিকা  মিথিলা সিদ্দিকা।

অভিনয় শুরুর কথা বলুন…

 – আমার ফিল্মে    আসার কথাই ছিলো gangstarনা। পারিবারিকভাবে তো নয়ই। বাবা পুলিশ ইনস্পেক্টর ছিলেন। অনেকেই হয়তো চিনবেন, বাংলার টাইগার জলিল (আমার বাবা)। ফিল্মে   ও কাজ করতেন। কিন্তু আমি ভাবতাম, বাবার মতো স্পোর্টস ম্যান হবো। তবে স্পোর্টসম্যান হওয়ার পথে হাঁটা হয়নি। সখের বশে কয়েকটি টিভি বিজ্ঞাপনে কাজ করেছি। আর এরপরেই বন্ধুপ্রতিম পরিচালক সামুরাই মারুফের হাত ধরে প্রথম বড় পর্দায় আসি। তাঁর পরিচালনায় পারলে ঠেকা আমার অভিনীত প্রথম ছবি।

বড় পর্দায় প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা বলুন..

– বড় পর্দায় অভিনয়ের প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে। মনের ভেতর অনেক উত্তেজনা কাজ করেছে। তবে প্রথম দিনে ভালো করেছিলাম।

আপনার অভিনীত ছবিগুলো..

– এ পর্যন্ত প্রায় হাফ ডজন ছবিতে মূল খলচরিত্রে অভিনয় করেছি। তার মধ্যে নাবিল আশরাফের রংধনু, আশিকুর রহমানের গ্যাংস্টার রিটার্নস, সামুরাই মারুফের পারলে ঠেকা, মিঠু খানের অচেনা হৃদয়, আর সবর্শেষ মুনসুন ফিল্মস প্রযোজিত ও অনন্ত বর্ষা অভিনীত ‘মোস্ট ওয়েলকাম টু’ ছবিটিতে অভিনয় করেছি। সবগুলো ছবির কাজ শেষ। মুক্তির অপেক্ষায় আছে। খুব শীগ্রই বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে ছবিগুলো মুক্তি দেয়া হবে।

আচ্ছা! আপনি কোন ছবিটা নিয়ে বেশি আশাবাদী…

gangstar.jpg1 – একজন অভিনেতা হিসেবে আমার অভিনীত সব ছবি নিয়ে আমি আশাবাদী। প্রতিটি ছবিতেই আমাকে ভিন্ন ভিন্ন মেজাজে দেখা যাবে। তবে তার মধ্যে গ্যাংস্টার রিটার্নস, অচেনা হৃদয়, মোস্ট ওয়েলকাম টু ছবি তিনটি নিয়ে আমি বেশি আশাবাদী। এর মধ্যে মোস্ট ওয়েলকাম টু ছবিটি বিগ বাজেটের।

এখন কি কোন ছবিতে কাজ করছেন…

আমি অভিনেতা হওয়ার আগে একজন সফল ব্যবসায়ী। তাই ব্যবসা নিয়েও একটু ব্যস্ততা যাচ্ছে। আর পাশাপাশি মোস্তফা কামাল রাজ ও মেজবাহুর রহমান সুমনের সঙ্গে কথা হয়ে আছে। জানুয়ারীতে কাজ শুরু হবে। এছাড়া ও কিছু ছবিতে অভিনয়ের কথাবার্তা চলছে।

আপনি ব্যবসার পাশাপাশি অভিনয়ে কিভাবে সময় দিচ্ছেন…

– লম্বা সময় শ্যুটিং বা শ্যুটিয়ের কাজে বিদেশ গেলে ব্যবসা সামলাতে গিয়ে একটু সমস্যা হয়ে যায়। তবে মানিয়ে নিচ্ছি।

আপনার অভিনীত মুভিগুলোতে আপনার নিজস্ব কোনো ডায়ালগ আছে কি…

 – হ্যা। দুইটি ছবিতে আমার ভিন্ন ডায়ালগ রয়েছে। ডায়ালগগুলো নিজের কাছেই অনেক আনন্দের লাগে। একটা হলো ঘটনা ঘটতে তো আর সময় লাগে না। আর অন্যটি আশিকুর রহমানের গ্যাংস্টার রিটার্নস ছবিতে আমার নাম আব্বাস। সেখানে আমার একটা মজার অথচ ভয়ংকর ডায়ালগ “আব্বা1476943_702948499729603_334206747_nসের হাত থেকে যদি কেউ বাইচাও যায়, ভয়ে আত্মহত্যা কইরা সে মইরা যাইবো” ( হা হা)

আপনি তো থিয়েটার বা মঞ্চে অভিনয় করেন নি, আঞ্চলিক ভাষায় অভিনয় করতে সমস্যা হচ্ছে না…

– আমি মনে করি, অভিনয়টা গড গিফট! আর বাবা পুলিশ অফিসার ছিলেন। বাবার সঙ্গে বিভিন্ন জেলায় থাকতে হয়েছে। সেই সুবাদে কয়েকটি জেলার ভাষা আমার আয়ত্ত্বে রয়েছে। তাই আঞ্চলিক ভাষার ক্ষেত্রে আমার সমস্যা হয় না।

রুপালি পর্দায় নায়ক থেকে ভিলেন হয়। আপনি তো শুরু থেকেই ভিলেন, এখন দর্শক কি ভিন্ন কিছু দেখার আশা করতে পারে….

– হা হা…। খলচরিত্রে অভিনয় করতে আমার ভালোই লাগছে। স্বাচ্ছন্দবোধ করছি। যেহেতু নায়ক থেকে খলনায়ক হয়নি, সেহেতু অপেক্ষা করেন, দেখবেন একদিন আমি খলনায়ক থেকে অ্যাকশন হিরো।

ব্যক্তি রবিউল ইসলাম সম্পর্কে…

– দর্শক আমার অভিনীত ছবিগুলো দেখে হয়তো ভাববে আমি অনেক রুঢ় মেজাজের। কিন্তু না! বাস্তবে রবিউল খুবই প্রাণখোলা আর সদা হাস্যোজ্জ্বল মানুষ। ব্যক্তিজীবনে আমি বিবাহিত। এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে ছোট্ট গোছালো সংসার। অভিনয়, ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়। অবসর সময়টা পরিবারকে দিতে চেষ্টা করি।

ভবিষ্যত পরিকল্পনা…

– ব্যবসার পাশাপাশি ফিল্মে    নিয়মিত কাজ করে যেতে চাই।

টাঙ্গাইল বার্তা সম্পর্কে কিছু বলবেন কি..

– অনলাইনে টাঙ্গাইল বার্তা দেখেছি। এটা অন্যান্য নাম সর্বস্ব অনলাইনের তুলনায় কিছুটা হলেও ভিন্ন। আশা করি, সুস্থ্য সংস্কৃতির চেতনা ধারণ করে টাঙ্গাইল বার্তা এগিয়ে যাবে বহুদুর। শুভ কামনা।

টাঙ্গাইল বার্তাকে সময় দেয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ । 

– আপনাকেও ধন্যবাদ।

ফেসবুক মন্তব্য