ঢাকা বুধবার, ডিসেম্বর ১৯, ২০১৮

Mountain View



সখীপুরে বিদ্যুৎ বিভ্রাট, বোরো চাষীদের মাথায় হাত

Print Friendly, PDF & Email

নিজস্ব সংবাদদাতা, সখীপুর : টাঙ্গাইলের সখীপুরে বিদ্যুৎ বিভ্রাট চরম আকার ধারণ করেছে। প্রতি ঘন্টায় ১৫/২০ বার বিদ্যুৎ আসে মাত্র দুই মিনিটের জন্য। সারাদিন চলে বিদ্যুতের এই আসা-যাওয়ার লুকোচুরি খেলা। মিনিটে-মিনিটে বিদ্যুতের এই আসা-যাওয়ার কারণে চলতি ইরি-বোরো ক্ষেতে সেঁচ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। প্রতিকার চেয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগে ফোন করে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের জারি খেয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন গ্রাহকরা। দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের এমন উদ্যত আচরণের কারণে গ্রাহকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ উত্তেজনা বিরাজ করছে। লোডশেডিংয়ের নামে ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হচ্ছে। তার উপর রয়েছে লো ভোল্টেজও।

সরেজমিন পরিদর্শনে জানা যায়- সখীপুর উপজেলায় পিডিবি’র গ্রাহকদের চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ কম থাকায় দীর্ঘদিন ধরে সখীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সাব-স্টেশন কেন্দ্র থেকে ধার করা বিদ্যুৎ দিয়ে পিবিএস ফিডারের নামে ১৮ টি গ্রামের প্রায় দশ হাজার গ্রাহককে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। এই পিবিএস ফিডারের অন্তর্ভূক্ত এলাকাগুলো হল- প্রতিমা বংকী, কালিদাস, করটিয়া পাড়া, দেওয়ানপুর, হারিঙ্গাচালা, ছোট পাথারপুর, জয়বাংলা, কালমেঘা, মোচারিয়া পাথার, লাঙ্গুলিয়া, শোলাপ্রতিমা, পাহাড় কাঞ্চনপুর, বোয়ালী, ফোটানি বাজার, কীর্তনখোলা, বাঘবেড় ও ইছাদিঘী। এসব এলাকায় প্রায় ২’শ গভীর নলকূপ, ৫০টি রাইচ মিলসহ প্রায় ২ হাজার পোলট্রি খামার রয়েছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটে সেঁচের অভাবে এসব এলাকার ইরি-বোরো চাষ ব্যাপক তিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অপরদিকে এসব এলাকার প্রায় ২ হাজার পোলট্রি খামার মালিক এই তীব্র গরমে তাদের খামারের মুরগী নিয়ে বিপাকে পড়েছে।

ইতিমধ্যেই কয়েক’শ খামারি গরমে মুরগীর মৃত্যুতে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। শনিবার সন্ধ্যায় গ্রাহকরা উপজেলার প্রতিমা বংকী সাবস্টেশন কেন্দ্রে এসে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের দাবিতে বিক্ষোভ করেন। পরে এলাকা ভিত্তিক বিদ্যুৎ ভাগাভাগির আশ্বাসে গ্রাহকরা চলে যায়। কিন্তু রাতে আবার একইভাবে বিদ্যুৎ বিভ্রাট হলে রবিবার সকালে আবারও গ্রাহকরা সাবস্টেশন কেন্দ্রে জড়ো হতে থাকে। পরে গ্রাহকরা ওই পিবিএস ফিডারের দায়িত্বে থাকা আবদুর রহিমকে ফোন করলে তিনি উত্তেজিত গ্রাহকদের উল্টো প্রশ্ন করে বলেন- ‘আমি কি আপনাদের চাকরি করি?’

গ্রাহকরা অভিযোগ করেন- এই ফিডারে পিডিবি’র নিয়োগকৃত কোন লাইনম্যান নেই। লাইন কোন কারণে বন্ধ হলে চালু করার কেউ থাকে না। রাতভর বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে।

বিদ্যুৎ গ্রাহক শাহ আলম বলেন- মিনিটে মিনিটে বিদ্যুতের আসা যাওয়ার কারণে ইরি-বোরো ক্ষেতে সেঁচ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। থোর ধানে সেঁচ দিতে না পারায় মরে যাচ্ছে। পোলট্রি খামার মালিক নূর ইসলাম বলেন- গরমে আমার ১ লাখ টাকার মুরগী মারা গেছে।

জানতে চেয়ে ওই পিবিএস ফিডারের দায়িত্বে থাকা আবদুর রহিমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে মুঠোফোনে কোন মন্তব্য করবেন না বলে ফোন রেখে দেন।

সখীপুর পিডিবি’র উপ-বিভাগীয় সহকারী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম বলেন- টাঙ্গাইল গ্রীড থেকে যে পরিমান বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা সে পরিমান পাওয়া যাচ্ছে না। সখীপুরের জন্য ১২/১৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও ৪/৫ মেগাওয়াট দেয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে সখীপুর পিডিবি’র (বিক্রয় ও বিতরণ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইকবাল হাসান মুঠোফোনে বলেন- চলতি মৌসুমে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। উপজেলার নলুয়াতে নতুন একটি সাব-স্টেশনের কাজ চলছে। ওই স্টেশনটির কাজ সম্পন্ন হলে বিদ্যুৎ সমস্যা কিছুটা কমে আসবে।

ফেসবুক মন্তব্য