ঢাকা রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৮

Mountain View



মৌমাছি নিধন বন্ধ করা হোক

Print Friendly, PDF & Email

অধ্যাপক অমূল্য চন্দ্র বৈদ্য: মৌমাছি পালন যেমন লাভজনক তেমন আনন্দদায়ক কাজ। আমাদের দেশে মৌমাছি পালনের প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি। কারণ বাংলাদেশ একটি কৃষি প্রধান দেশ। প্রথমত পরাগায়নের অন্যতম বাহক মৌমাছি পালনের মাধ্যমে উদ্ভিদের ফলন বৃদ্ধি করানো ; দ্বিতীয়ত মৌমাছি পালন করে মহৌষধ ও সর্বোৎকৃষ্ট পুষ্টিকর খাদ্য মধু উৎপাদনের মাধ্যমে বাড়তি আয়ের সুযোগ করা; তৃতীয়ত মৌমাছি পালন করে প্রকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করা; চতুর্থত মৌমাছি পালন করে প্রায় বিলুপ্ত অথচ অত্যন্ত উপকারী পতঙ্গকে রক্ষা করা।

সাধারনত সপুষ্পক নিষিক্তকরণ না হলে ডিম্বাশয় ফলে ও ডিম্বক বীজে পরিনত হয় না। নিষিক্ত করণের পূর্বশর্ত হল পরাগায়ন। প্রায় ৭০% পরাগায়ন মৌমাছির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। মৌমাছির প্রধান খাদ্য ফুলের নেকটার ও পোলেন। তাই মৌমাছি খাদ্যের জন্য ফুলে যেতে বাধ্য হয়। মৌমাছি যখন কোন ফুলে খাদ্যের জন্য যায় তখন তারা ফুলের নেকটার ও পোলেন শেষ না হওয়া সেখানে অবস্থান করে। বিধায় সুষ্ঠু ও সুন্দর ভাবে পরাগায়ন হয়ে থাকে ।
মৌমাছি দ্বারা পরাগায়ন যথাসময়ে হয় বলে ফলের উৎপাদন বেশি হয়। আকারে বড় ও সুস্বাদু হয়। বীজের অংকুরোদগম বেশি হয়। মৌমাছি পরাগায়নে সহায়তা করার জন্য উদ্ভিদের বংশ বিস্তার হয় সুনিশ্চিত। যদি মৌমাছি ফুলে ফুলে বিচরণ না করত তবে প্রানীদেরও জীবন যাপন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হতো। কিন্তু অত্যাচার ও অবহেলায় মৌমাছিরা আজ বিলুপ্ত প্রায়। ফলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিনষ্ট হচ্ছে।

প্রাচীনকাল থেকে মানুষ অবৈজ্ঞানিক ভাবে মধু সংগ্রহ করে আসছে। তখন থেকেই মূলত শুরু হয়েছে মৌমাছি ধ্বংস যজ্ঞ। তারই প্রেক্ষিতে মৌমাছি বিলুপ্ত হচেছ। মৌ শিকারীরা সারা বছরই অবৈজ্ঞানিক ভাবে মধু আহরন করে থাকে। সহজে যাতে মৌচাক থেকে মধু বের করা যায় সেজন্য চাকে আগুন দেয়া হয়। মৌমাছিরা ঝাকে ঝাকে অগ্নি দগ্ধ মারা যায়। অথচ দৈত্য মৌমাছির চাক থেকে সংগ্রহকৃত মধু স্বাস্থ্যসম্মত নয়। এ মধুতে মৌমাছির লারভা ও পিউপার দেহ নিঃসৃত রসও থাকে।

বৈজ্ঞানিক ভাবে মৌমাছি চাষ করলে শুধু মধু সহজেই সংগ্রহ করা যায়। ফলে বাড়তি আয়ও করা যায় ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা হয় । অঢ়রবং রহফরপধ ও অঢ়রবং সবষরভবৎধ হচেছ বাক্সে পালন যোগ্য মৌমাছি। মৌমাছি নিধন বন্ধ করা একান্ত প্রয়োজন। বেকার যুবক যুবতীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে মৌমাছি পালনে উ™¦ুদ্ধ করা দরকার।

লেখক: অধ্যাপক, উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগ, গোপালপুর কলেজ।

ফেসবুক মন্তব্য