ঢাকা রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৮

Mountain View



ভূঞাপুরে শিশু জনি হত্যা; ২৫ মিনিটেই শ্যালক জনিকে হত্যা করে দুলাভাই সজিব

Print Friendly, PDF & Email

সোহেল তালুকদার : শ্বশুরের নিকট থেকে দু’দফায় ৫০ ও ৩০ হাজার টাকা না পেয়ে বাসার মধ্যেই পূর্বপরিকল্পিতভাবে শ্যালক ৫ বছরের শিশু জনিকে শ্বাসরোধ হত্যা করে মাদকাসক্ত দুলাভাই সজিব। শুধু তাই নয় হত্যার পর তড়িগড়ি করে লাশ ফেলে দেয়া হয় সেপটিক ট্যাংকে। আর এ হত্যাকান্ডে সে সময় নেয় মাত্র ২৫ মিনিট।

বুধবার বিকালে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে ঘাতক সজিব। গোপালপুর উপজেলার নারুচী গ্রামের আব্দুল মজিদের বেকার ছেলে মাদকাসক্ত সজিব ২ বছর আগে ভালোবেসে বিয়ে করে ভূঞাপুর উপজেলার পৌর এলাকার পূর্ব ভূঞাপুর গ্রামের হারুন-অর-রশীদের মেয়ে তানিয়া আক্তারকে। তানিয়াকে বিয়ের সূত্র ধরেই সে শ্বশুর বাড়িতেই অবস্থান করে। গত দু’বছরে চাকরি দেয়ার নাম করে সে হাতিয়ে নিয়েছে লাখ লাখ টাকা। চাকরি না হওয়ায় পাওনাদাররা তার কাছে টাকার জন্য চাপ দেয়। কোন উপায় না পেয়ে সে শ্বশুরের নিকট দু’দফায় প্রথমে ৫০ হাজার ও পরে ৩০ হাজার টাকা দাবী করে। কিন্তু দু’দফায়ই সে টাকা চেয়ে ব্যর্থ হয়। এতে তার মনে চরম ক্ষোভ ও শ্বশুরের প্রতি ঘৃনার সৃষ্টি হয়। প্রতিশোধের সুযোগ খুঁজতে থাকে সে। গত ১৭ই আগষ্ট সুযোগ পেয়ে যায় সে।

একটি সূত্র জানায়, ওইদিন বিকাল সাড়ে ৫ টার দিকে শ্বাশুরি জহুরা বেগম ৫ বছরে ছেলে জনিকে নিয়ে কলা কিনতে বের হওয়ার সময় সজিব কৌশলে জনিকে তার কাছে রেখে দেয়। ওই সময় সজিবের স্ত্রী তানিয়া বান্ধবী চৈতির সাথে একটি কক্ষে কথা বলছিল এবং ভাড়াটিয়া রিপন ও তার গর্ভবতী স্ত্রী সুমি বাড়িতেই ছিল। এই সুযোগে সে শ্যালক জনিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। বিষয়টি ভাড়াটিয়া রিপন ও তার স্ত্রী সুমি দেখে ফেলায় তাদের মাথায় পিস্তল ঠেকায় সজিব। আর হত্যার বিষয়টি কাউকে বললে তাদেরও মেরে ফেলা হবে বলে হুমকি দেয়। পরে ভাড়াটিয়া রিপনের সহযোগীতায় সজিব শ্যালক শিশু জনির লাশ সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেয়। হত্যা এবং লাশ সেপটিক ট্যাংকে ফেলার জন্য তার সময় লাগে মাত্র ২৫ মিনিট। আধ ঘন্টা পর জনির মা জহুরা বেগম কলা নিয়ে বাসায় ফিরে জনির খোঁজ করতে থাকে। অনেক খোঁজাখোঁজির পরও তার কোন সন্ধান না পেয়ে জনির বড় ভাই জুয়েল রানা রাতেই ভূঞাপুর থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করেন।

এদিকে জনিকে হত্যার পর সজিব বাসায়ই অবস্থান করে। বাসার আশপাশ থেকে সে বিভিন্ন লোক দিয়ে জনির পিতা হারুন-অর-রশীদের কাছে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবী করে। টাকা না দিলে জনিকে মেরে ফেলারও হুমকি দেয়া হয়। ২০ই আগষ্ট বুধবার দুপুরে জনিদের বাসার সেপটিক ট্যাংকের ভিতর থেকে গন্ধ বের হলে পরিবারের লোকজনের সন্দেহ হয়। পরে তারা ট্যাংকের ঢাকনা খুললে জনির লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। লাশ উদ্ধারের পর সজিব গা ঢাকা দেয়। পুলিশ তাৎক্ষণিক বাসার ভাড়াটিয়া রিপন তার স্ত্রী সুমি বেগমসহ চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। পরে রিপনের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পূর্ব ভূঞাপুর এলাকা থেকে সজিবকে আটক করা হয়।

থানা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে সজিব জানিয়েছে শ্বশুরের নিকট থেকে দু’দফায় ৫০ ও ৩০ হাজার টাকা না পেয়ে ১৭ই আগষ্ট সন্ধ্যায়ই বাসার মধ্যেই পূর্বপরিকল্পিতভাবে শ্যালক ৫ বছরের শিশু জনিকে সে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে এবং ভাড়াটিয়া রিপনের সহযোগীতায় তা সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেয়।

এঘটনায় জনির পিতা হারুন-অর-রশীদ বাদী হয়ে বুধবার রাতেই মেয়ের জামাই সজিবকে প্রধান আসামী করে ভাড়াটিয়া রিপনসহ অজ্ঞাত ৩-৪ জনের বিরুদ্ধে ভূঞাপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। বৃহস্পতিবার সকালে সজিব ও রিপনকে টাঙ্গাইল কোর্টে প্রেরণ করা হয়েছে।

এব্যাপারে ভূঞাপুর থানা অফিসার ইনচার্জ হারেচ আলী মিঞা বলেন, সজিব ও রিপনকে গ্রেপ্তারের পর হত্যার বিষয়ে বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। কোর্টে ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে। জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে হত্যার বিষয়ে পরিস্কার হওয়া যাবে। এছাড়াও এঘটনায় আরো কারা জড়িত তাও জানা যাবে।

ফেসবুক মন্তব্য