ঢাকা মঙ্গলবার, নভেম্বর ১৩, ২০১৮

Mountain View



ফলদায় মন্দির পোড়ানো মামলা : অবশেষে তাহেরুল ইসলাম তোতা জেলহাজতে

Print Friendly, PDF & Email

কেএম মিঠু, নিজস্ব প্রতিনিধি :  অবশেষে বহুল আলোচিত ভূঞাপুর উপজেলাধীন ফলদা কালী মন্দিরে অগ্নি সংযোগ, হামলা ও লুটের মামলার প্রধান আসামী সাবেক যুবলীগ নেতা তাহেরুল ইসলাম তোতাকে ৩ দফা জামিন শুনানি শেষে বিজ্ঞ আদালত জেল হাজতে প্রেরণ করেছে।

বিবরণে প্রকাশ, ২০১৩ সালের ১ এপ্রিল টাঙ্গাইল জেলার প্রাচীনতম ফলদা কেন্দ্রীয় কালী মন্দিরে অগ্নি সংযোগ, হামলা ও লুটের প্রেক্ষিতে ৫ এপ্রিল মন্দির কমিটির সভাপতি শ্রী সরণ দত্ত বাদী হয়ে তাহেরুল ইসলাম তোতাকে প্রধান আসামী করে ভূঞাপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করে। যার নং- ০২, ধারা- ১৪৩/৪৪৮/ ২৯৫/৪৩৬/৩৮০/৪২৭/৫০৬/১১৪/৩৪ দ- বিধি। তৎপরিপ্রেক্ষিতে ভূঞাপুর থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) আবু ওবায়েদ তদন্ত কার্য পরিচালনা করে। শেষে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এসআই নাজমুল হাসান অধিকতর তদন্ত শেষে গত ১২-০২-২০১৪ তারিখ এজাহার নামীয় সকল আসামীর বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে অভিযোগ পত্র দায়ের করে। তাহেরুল ইসলাম তোতা গত ২৯ এপ্রিল ২০১৩ মহামান্য হাইকোর্টের বিচারপতি এম. এনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. আকরাম হোসেন চৌধুরীর বেঞ্চে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে বিচারপতি দুই সপ্তাহের মধ্যে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট টাঙ্গাইল আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিলেও তিনি আদালতের নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দীর্ঘ প্রায় ১৭ মাসের অধিক সময় অতিক্রান্ত হলেও হাইকোর্টের নির্দেশ মোতাবেক আত্মসমর্পণ করেনি। এ নিয়ে সুশীল সমাজ, বিভিন্ন পর্যায়ের নাগরিকবৃন্দ, মানবাধিকারকর্মী ও সাধারণ জনসাধারণের মধ্যে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

সম্প্রতি ফলদায় এক সম্প্রীতি সমাবেশে স্থানীয় সংসদ সদস্য দলমতের উর্ধ্বে উঠে সরকারের সকল এজেন্সিকে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আহবান জানান। উক্ত সমাবেশে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মো. মাহবুব হোসেন, পুলিশ সুপার সালেহ মো. তানভীর, ভূঞাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট আব্দুল হালিম, গোপালপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনুছ ইসলাম তালুকদার ঠান্ডু, সহকারী পুলিশ সুপার আবুল হাসনাত, ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. হেলালুজ্জামান সরকার, জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুজ্জামান স্মৃতি, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সুভাস চন্দ্র সাহাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে গত ০৩ সেপ্টেম্বর অত্র মামলার বাদী ও ০৩ স্বাক্ষীর বাড়িতে দুর্বৃত্তদের দেয়া অগ্নিসংযোগে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে আসেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী বীর মুক্তিযোদ্ধা সুলতানা কামাল। তিনি হাইকোর্টের নির্দেশ উপেক্ষা করে ঘুরে বেড়ানো আসামীসহ অত্র মামলার আসামীদের গ্রেফতারে সরকারের প্রতি আহবান জানান। অবশেষে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন দল গত ২৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ভূঞাপুর স্লুইচগেট এলাকা থেকে বহুল আলোচিত সাবেক যুবলীগ নেতা তাহেরুল ইসলাম তোতাকে গ্রেফতার করে।

২৯ সেপ্টেম্বর ভূঞাপুর থানার পুলিশ কর্তৃক তাকে আদালতে উপস্থাপন করা হলে ৩০ সেপ্টেম্বর আদালত জামিন শুনানির দিন ধার্য করে। উক্ত দিন সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ভূঞাপুর আমলী আদালত দুই পক্ষের জামিন শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর পূর্বক তাকে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। বিবাদীপক্ষের আইনজীবীরা গত ২ অক্টোবর মিস কেস দায়ের করে মাননীয় জেলা ও দায়রা জজ আদালতে জামিনের প্রার্থনা করলে বিজ্ঞ আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর করে তাহেরুল ইসলাম তোতাকে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। সবশেষে গত ১৬ অক্টোবর মাননীয় জেলা ও দায়রা জজ আদালতে জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হলে বিজ্ঞ আদালত শুনানি শেষে জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের মামলা পরিচালনা করেন পিপি এ্যাডভোকেট মো. আকবর হোসেন। তাকে সহযোগিতা করেন এ্যাডভোকেট খান মোহাম্মদ খালেদ, টাঙ্গাইল বারের সাবেক সম্পাদক এ্যাডভোকেট আওয়াল মোল্লা, এ্যাডভোকেট আব্দুল করিম, এ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান খান, এ্যাডভোকেট মো. দুলাল হোসেন, এ্যাডভোকেট বজলুর রহমান, এ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলামসহ আইন ও শালিস কেন্দ্র নিয়োজিত আইনজীবীবৃন্দ। অপরদিকে বিবাদীপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এ্যাডভোকেট শামিমুল আক্তার শামিম প্রমুখ।

ফেসবুক মন্তব্য