ঢাকা মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৮

Mountain View



সখীপুরে রমরমা কোচিং বাণিজ্য; টার্গেট প্রাথমিক সমাপনী ও জেএসসি পরীক্ষা

Print Friendly, PDF & Email

আমানত হোসাইন মাসুম, সখীপুর সংবাদদাতা : পঞ্চম শ্রেণীর প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী ও অষ্টম শ্রেণীর জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট  (জেএসসি) পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে টাঙ্গাইলের সখীপুরে কোচিং ও মডেল টেস্ট বাণিজ্য এখন রমরমা। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মোটা অংকের বিনিময়ে কোচিং ও মডেল টেস্টে অংশ নিতে বাধ্য করা হচ্ছে। কাঙ্খিত সাফল্যের শতভাগ নিশ্চয়তার নামে চলছে এসব প্রতারণা। রমরমা কোচিং বাণিজ্যে নীতিমালা অসহায় হয়ে পড়েছে। দুই বছর আগে সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধে নীতিমালা প্রণয়ন করে সরকার। এতে সব বিষয়ে অতিরিক্ত ক্লাস করলেও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে উপজেলা পর্যায়ে ১’শ ৫০ টাকার বেশি নেয়া যাবে না বলে নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়। তবে ওই নীতিমালার ফাঁক-ফোকরে বিশেষ মহল কোচিং বাণিজ্য এখনও অব্যাহত রেখেছে।

সরেজমিন অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে ভিন্ন চিত্র। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আসন্ন পঞ্চম শ্রেণীর প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী ও অষ্টম শ্রেণীর জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট  (জেএসসি) পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে এ উপজেলায় আগের মতোই রমরমা কোচিং ও মডেল টেস্ট বাণিজ্য অব্যাহত রয়েছে। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের এ বাণিজ্যে অংশ নিতে বাধ্য করা হচ্ছে। কোন অভিভাবক এর সঙ্গে একমত পোষণ না করলে তাদের শিক্ষার্থীদের নানা নাজেহাল পরিস্থিতির শিকার হচ্ছে। নীতিমালার কোনরূপ তোয়াক্কা না করে নেয়া হচ্ছে খেয়াল খুশি মতো টাকা।

কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে এককালীন টাকা আদায় করা হচ্ছে। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার কোচিং ও মডেল টেস্ট বাবদ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রতি মাসে ১ হাজার ৫’শ থেকে ২ হাজার এবং জেএসসি পরীক্ষার কোচিং ও মডেল টেস্ট বাবদ ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত নেয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটিরা এ ধরনের বাণিজ্য পরিচালনা করছেন। কিছু কিছু কোচিং সেন্টারও শতভাগ ফলাফলের নিশ্চয়তা দিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রতারিত করছে।

অভিভাবকদের ভাষ্য- কোচিং বাণিজ্যের কাছে তারা অসহায়। নীতিমালা উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে কোন তদারক দল মাঠে নেই। বাধ্য হয়েই তারা সন্তানদের কোচিংয়ে দিচ্ছেন।

এ ব্যাপারে সখীপুর উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমিনুল হক ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মফিজুল ইসলাম বলেন- অনেকের কাছ থেকে তারা অভিযোগ পেয়েছেন। এ বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেন জানান।

উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত শিকদার বলেন- কোন প্রতিষ্ঠানে যদি নীতিমালার বাইরে শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে অর্থ আদায় করা হয়, তা হবে বে-আইনী। এ জন্য তিনি প্রতিষ্ঠান প্রধানদের এ কোচিং বাণিজ্য বন্ধে নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানান।

ফেসবুক মন্তব্য