ঢাকা বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৫, ২০১৮

Mountain View



সেতু’র জন্য হাহাকার! ধলেশ্বরী নদীর দুই পাড়ের মানুষের ; মৃত্যু ঝুঁকি নিয়েই নৌকায় পারাপাড়

Print Friendly, PDF & Email

অভিজিৎ ঘোষ, বিশেষ সংবাদদাতা: প্রবল স্রোত  উপেক্ষা করে মৃত্যু ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন হাজার হাজার লোক নৌকাযোগে ধলেশ্বরী নদী পারাপার হচ্ছে। বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব থেকে টাঙ্গাইলের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ ও নিরাপদ হওয়ায় লোকজন কালিহাতী উপজেলার জোকারচর ধলেশ্বরী নদী পাড় হয়ে যাতায়াত করে থাকে। নদীর উভয়পাড়ের ৪টি ইউনিয়নের কয়েক লাখ মানুষ ওই নদী পাড় হচ্ছে প্রতিনিয়তই। ব্যস্ততম ওই নদী ঘাট দিয়ে সিএনজি চালিত অটোরিক্সা, মোটর সাইকেল, ভ্যানসহ অন্যান্য পরিবহন যাতায়াত করছে। ঈদ মৌসুমে ঢাকা-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হলে ওই ধলেশ্বরী ঘাটে যানবাহনের পরিমাণ তিনগুন বেড়ে যায়। এবছর জোকারচর ঘাট ৩ লাখ টাকায় ইজারা নিয়েছে আয়নাল নামের এক ব্যক্তি।

bhuiyanpurসরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী উপজেলার জোকারচর ধলেশ্বরী নদীর উপর দিয়ে প্রতিদিন ৫/৬ হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পাড় হয় নৌকা করে। এছাড়া ছোট যানবাহনতো রয়েছেই। যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব-টাঙ্গাইল অভিমুখী লোকজন ওই নদী পথ বেছে নিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব থেকে এলেঙ্গা হয়ে টাঙ্গাইল যেতে ২৮ কিলোমিটার রাস্তা পাড়ি দিতে হয়। সেখানে জোকারচর ধলেশ্বরী নদী পার হয়ে টাঙ্গাইল যাওয়া যায় মাত্র ১২ কিলোমিটার রাস্তায়। শুধু নদী উভয়পাড়ই নয় ওই নদীপথ ব্যবহার করে উত্তরবঙ্গসহ টাঙ্গাইল জেলার ভূঞাপুর, গোপালপুর ও ধনবাড়ী উপজেলা এবং জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলার মানুষ। ধলেশ্বরী নদী পাড় হতে জনপ্রতি নৌকায় ভাড়া দিতে হয় ৫টাকা, সিএনজি চালিত অটোরিক্সা ২০ টাকা, ভ্যান ১০ টাকা, মোটর সাইকেল ১০টাকা। এছাড়া যানবাহন ভেদে বিভিন্ন প্রকারে টোল আদায় করে ঘাট ইজারা নেয়া কর্তৃপক্ষ। ধলেশ্বরী নদীর উপর সেতু নির্মাণ করা হলে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরো সহজতর হবে। সেই সাথে ঢাকা-বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব মহাসড়কে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব-টাঙ্গাইল চলাচল করা যাত্রীবাহী বাস, পিকআপ ভ্যান, ছোট ট্রাক, সিএনজি চালিত অটোরিক্সা, ভটভট, নছিমন, করিমন, মোটর সাইকেল, ভ্যান চলাচল কমে যাবে। দূর্ঘটনার সংখ্যাও কম হবে মহাসড়কে । ধলেশ্বরী নদীর দক্ষিণের সল্লা, দূর্গাপুর ইউনিয়নের চরাঞ্চলের মানুষের আবাদি শস্যের সঠিক দাম ফিরে পাবে। ফলে চরাঞ্চলে বেড়ে যাবে চাষাবাদ। পরিবর্তন হবে অর্থনৈতিক অবস্থা।

চরহামজীর আব্দুস ছালাম, দূর্গাপুরের গোলাম হোসেন, হোসনে আরা বেগমসহ এলাকার সাধারন মানুষরা জানালেন, ধলেশ্বরী নদী দুইপাড়ের মানুষের প্রাণের দাবী একটি সেতু নির্মাণ করা হোক। লঞ্চ দূর্ঘটনার হাত থেকে বেঁচে যাবে এ অঞ্চলের সাধারন মানুষ। মন্ত্রিত্ব হারানো লতিফ সিদ্দিকীও অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ধলেশ্বরী সেতুর উপর দিয়ে একটি সেতু নির্মাণের। কিন্তু এখন তার নিজের অস্তিত্ব নিয়েই টানাটানি।

ধলেশ্বরী নদী জোকারচর ঘাটের মাঝি দুলাল হোসেন, রাসেল, আইয়ুব বলেন, বন্যার সময় নদীর স্রোত বেড়ে যায়। ফলে মানুষ ও ছোট যানবাহন নিয়ে প্রবল স্রোত উপেক্ষা করে নদী পাড় হতে অনেক বেগ পেতে হয়। অনেক সময় নৌকা পানিতে তলিয়ে যায় যায় অবস্থা।

কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রফিকুল ইসলাম টাঙ্গাইল বার্তাকে বলেন, জোকারচর ধলেশ্বরী নদীর উপর দিয়ে সেতু নির্মাণের জন্য একটি প্রকল্প তৈরি করে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালকের কাছে পাঠানো হয়েছে। সেতুটি নির্মাণ করতে ব্যয় হবে প্রায় ২ কোটি টাকা। প্রকল্পটি অনুমোদন হলেই টেন্ডার দিয়ে কাজ শুরু করা হবে।

কালিহাতী উপজেলা চেয়ারমান মোজাহারুল ইসলাম তালুকদার বলেন, লাখ লাখ মানুষের প্রাণের দাবী জোকারচরে সেতু নির্মাণের। জামালপুরের তারাকান্দির পিংনা-টাঙ্গাইল রাস্তা ছিল এটি। সেতু নির্মাণে সকল কাজ সম্পন্ন করে একটি প্রাক্কলন তৈরি করে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালকের কাছে পাঠানো হয়েছে। খুব গুরুত্বের সাথে আমরা সেতুটি নির্মাণের জন্য কাজ করে যাচ্ছি।

ফেসবুক মন্তব্য