ঢাকা রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৮

Mountain View



আজ ১৩ ডিসেম্বর টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে হানাদার মুক্ত দিবস ॥ ৪২ বছরেরও নির্মাণ হয়নি স্মৃতি ফলক

Print Friendly, PDF & Email

মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল, মির্জাপুর থেকে : আজ ১৩ ডিসেম্বর টাঙ্গাইলের মির্জাপুর হানাদার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে হানাদার মুক্ত হয় মির্জাপুর উপজেলা। দীর্ঘ ৮ মাস ১০ দিন যুদ্ধের পর মুক্তিযোদ্ধাদের নিকট পাকহানাদারদের আত্মসমর্পনের মাধ্যমে মির্জাপুরের আকাশে বাতাসে হেমন্তের দ্বিপ্রহরে উড্ডীয়ন হয় সবুজ জমিনের উপর লাল সূর্য খচিত স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা। কিন্তু এই পতাকা এমনি আসেনি। এর জন্য মির্জাপুর বাসিকে দিতে হয়েছে অনেক রক্ত এবং পাকহানাদারদের বিরুদ্ধে লড়তে হয়েছে অনেক সম্মুখ যুদ্ধে।

১৯৭১ সালের ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক আহবানে সারা দিয়ে টাংগাইলে গঠিত হয় সংগ্রাম পরিষদ এবং হাইকমান্ড। এর নেতৃত্বে ছিলেন সাবেক সাংসদ ফজলুর রহমান ফারুক এবং বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরোত্তম। ২৬ মার্চের ওয়ারলেসের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষনা। ৩রা এপ্রিল ঢাকা-টাংগাইল মহাসড়ক সংলগ্ন গোড়ান সাটিয়াচড়ায় পাকসেনারা আসামাত্র সংগ্রাম পরিষদের সদস্যরা নর ঘাতকদের উপর গুলি চালায়। দীর্ঘ সম্মুখ যুদ্ধে ১০৭ জন মুক্তিপাগল বাঙ্গালীকে হত্যা করা হয় এবং ইপিআর নিহত হয় ২৩ জন। ৩৫০ জন পাকবাহিনী হতাহতের পর গোড়ান সাটিয়াচড়া মুক্ত হলেও পাকসেনার ঘাটি করে বসে উপজেলা সদর এবং ভড়রা ও নরদানা গ্রামে। পাকসেনারা আশেপাশের গ্রামে লূটপাট আর অগ্নিসংযোগ করে নিরীহ ২৮ জন বাঙ্গালীকে হত্যা করে। ৭ মে দানবীর রনদা প্রসাদ সাহা, তার একমাত্র পুত্র ভবানী প্রসাদ সাহা এবং ৮ মে থানা আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক আবুল হোসেনের বৃদ্ধ পিতা জয়নাল সরকারকে পুড়িয়ে হত্যা, মাজম আলী, মির্জাপুর ও আন্ধরা গ্রামের রাখাল চন্দ্র সাহা, সুদাম চন্দ্র সাহা, নিতাই মেম্বার, পান্না লাল, জগবন্ধু রায় সহ ৩৮ জনকে হানাদার এবং এদেশীয় দোসররা হত্যা করে লাশ লৌহজং নদীতে নিক্ষেপ করে। সেদিনের সেই ভয়াবহ স্মৃতি মনে করে মির্জাপুরবাসি আজও কাঁদে।

মির্জাপুরকে হানাদার মুক্ত করার জন্য ১৮ নভেম্বর রাতে মুক্তিযোদ্ধারা চারিদিক থেকে ঘিরে ফেলে। আজাদ কামাল বীর প্রতীক, এম এ সবুর বীর প্রতীক ও রবিউল কমান্ডারের নেতৃত্বে ১৩ ডিসেম্বর হানাদার মুক্ত হয় মির্জাপুর। ১২ ডিসেম্বর রাতে দেশমাতৃকার সূর্য-সন্তান বীরযোদ্ধারা মির্জাপুরের বংশাই, লৌহজং ও চতুর্দিকে পাকসেনাদের ঘিরে ফেলে। শুরু হয় তুমুল সম্মুখ যুদ্ধ। প্রায় ৫শত মুক্তিযোদ্ধা সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নিয়ে পাকসেনাদের পরাজিত করে এবং পাকিস্তানি পতাকা নামিয়ে সেখানে মুক্তিযোদ্ধারা উড়িয়ে দেয় সবুজ জমিনের উপর লাল খচিত স্বাধীন বাংলার পতাকা।

এমনিভাবে বহু রক্ত, ত্যাগ-তিতিক্ষার এবং সম্মুখ যুদ্ধের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৮ মাস ১০ দিন পর বংশাই, লৌহজং ও ধলেশ্বরী বিধৌত ১৪৪ বর্গমাইল আয়তন বিশিষ্ট মির্জাপুর উপজেলা ১৩ ডিসেম্বর । আজ থেকে ৪২ বছর পূর্বে এইদিনে সম্পূর্নভাবে হানাদার মুক্ত হয়। দিবসটি সরকারীভাবে যথাযোগ্য মর্যাদায় আজও পালিত হয়নি। সে দিনের স্মৃতি মনে করে মির্জাপুর ও আন্ধরা গ্রামবাসি আলোচনা সভার আয়োজন করে থাকেন। মির্জাপুরবাসি ১৩ ডিসেম্বর হানাদার মুক্ত দিবসকে সরকারী ভাবে পালনের অনুরোধ জানিয়েছেন।

ফেসবুক মন্তব্য