ঢাকা বুধবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৮

Mountain View



ভূঞাপুরে যৌতুক না পেয়ে পাষন্ড স্বামীর কান্ড! মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে শরিফা

Print Friendly, PDF & Email

bhuiyanpur

অভিজিৎ ঘোষ, ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা: দুই কন্যা সন্তানের জননী শরিফা খাতুন। বিয়ের হওয়ার শুরু থেকেই সংসারে অশান্তি লেগেই থাকতো। কারণ স্বামীর চাহিদা অনুযায়ী যৌতুক না দেয়া। স্বামীসহ তার শশুর, শাশুড়ি ও দেবর প্রতিনিয়ত তার উপর মানবিক আত্মচার চালাতো। মঙ্গলবার সকালে শরিফার নামে থাকা ৫শতাংশ জমি তার স্বামীর নামে লিখে না দেয়ায় এবং নগদ টাকা যৌতুক না পেয়ে পাশবিক নির্যাতন চালায় শরিফার স্বামী জুয়েল। কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে ও দেয়ালের সাথে মাথা আছঁড়িয়ে তাকে গুরুত্বর জখম করে। এসময় তার সহযোগি ছিলেন শরিফার শশুড় আবু সাইদ, শাশুড়ি জুলেখা বেগম, দেবর মিজানুর ও রুবেল। আহত অবস্থায় গ্রামের প্রতিবেশীরা শরিফাকে ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

জানা যায়, উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের খানুরবাড়ি গ্রামের শরবত আলী বেপারীর একমাত্র মেয়ে শরিফা খাতুনের বিয়ে হয় একই উপজেলার পৌর এলাকার আবু সাইদের ছেলে যৌতুক লোভী জুয়েলের সাথে। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন অজুহাতে শরিফাকে যৌতুকের জন্য চাপ প্রয়োগ করতো। দরিদ্র ঘরের মেয়ে শরিফা সকল অত্মাচার সহ্য করে তার বাবাকে কিছু না জানিয়ে চুপ করে থাকে। এরমধ্যে প্রথম কন্যা সন্তান হওয়ার পর নির্যাতনের মাত্রা আরো বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে যৌতুকের জন্য ব্যাপক মারধর করে তার স্বামী। পরে গ্রাম্য সালিশের বৈঠকে বিষয়টি মিমাংশা করা হয়। এরপর আবার শরিফা ও জুয়েলের ঘরে জন্ম নেয় আরেকটি কন্যা সন্তান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আবার নির্যাতন শুরু হয় তার উপর। মঙ্গলবার শরিফার নামে থাকা ৫ শতাংশ জমি তার স্বামীর নামে লিখে ও নগদ টাকা দাবী করে জুয়েল ও তার পরিবার। কিন্তু শরিফা দিতে অস্বীকার করলে শুরু হয় তার উপর পাশবিক নির্যাতন। একপর্যায়ে শশুর, শাশুড়ি ও দুই দেবর মিলে মারধর শুরু করে শরিফাকে। স্বামী জুয়েল ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার হাতে ও স্তনে আঘাত করে। এছাড়া শরিফাকে ধরে পাঁকা দেয়ালে তার মাথা আঁছড়িয়ে গুরুত্বর জখম করে। পরে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে পাশের বাড়ির লোকজন তাকে ধরে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করে। বিকালে শারিরীক অবস্থার অবনতি হলে তাকে সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল মেডিকেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. রিফাত হাসান বলেন, মাথায় ও শরীরে মারাত্মক জখম হয়েছে। মাথায় গুরুত্বর আঘাত লাগায় রোগী বমি করছে। সে এখনও আশঙ্কামুক্ত নয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে টাঙ্গাইল মেডিকেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ভূঞাপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, “এখন পর্যন্ত আমরা কোন অভিযোগ পাইনি। তবে অভিযোগ পেলে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

ফেসবুক মন্তব্য