ঢাকা বুধবার, ডিসেম্বর ১৯, ২০১৮

Mountain View



হরতাল-অবরোধের প্রভাব; মধুপুর গড়ের কলা চাষীদের দুর্দশা

Print Friendly, PDF & Email

madhupur banana

এসএম সবুজ, মধুপুর(টাঙ্গাইল)প্রতিনিধিঃ- হরতাল-অবরোধের প্রভাবে টাঙ্গাইলের মধুপুর গড় এলাকার কলাচাষীরা কষ্টার্জিত ফলের ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। কলা বিকিকিনিতে প্রতিদিন তারা লোকসান গুনছেন। ফলে আর্থিকভাবেও তারা হচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্ত ।

জানা যায়, জেলার মধুপুর, ধনবাড়ি ও ঘাটাইল উপজেলার পাহাড়ি এলাকায় এবার সাড়ে এগারো হাজার একরে কলার আবাদ হয়েছে। সাধারণত ডিসেম্বর থেকে বাগানে কলা পাঁকা শুরু হয়। এবারও তার ব্যত্যয় হয়নি। কিন্তু বাধ সেধেছে রাজনৈতিক সংকট। জানুয়ারি থেকেই সারাদেশে লাগাতর অবরোধ ও হরতাল। এতে কলা বিপণন ও বাজারজাতকরণে সমস্যার শুরু। কলা চাষী সমিতির সহ-সভাপতি শহীদুল ইসলাম জানান, পাহাড়ি এলাকার গারো সম্প্রদায়ের জমি বন্দোবস্তি নিয়ে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে অনেকেই গড়ে তুলেছেন কলার বড় বড় খামার। একরে কলা চাষে ব্যয় হয় ৬০/৭০ হাজার টাকা। ফলণ ভালো হলে বিক্রিতে পাওয়া যায় দেড়-দুই লক্ষ টাকা। চট্টগ্রাম, সিলেট, ঢাকা, বরিশাল ও খুলনার পাইকাররা এখানকার কলার প্রধান ক্রেতা। কেনা কলা ট্রাকে করে আড়তে চালান দেয়া হয়। এবার কলা সংগ্রহের ভরা মৌসুমে লাগাতর অবরোধ-হরতালে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাইকার ও মহাজনরা কলা কিনতে আসছেননা।

madhupur

গত জানুয়ারিতে চট্টগামের সীতাকুন্ডে কলা পরিবহনের সময় কলাসহ তিনটি ট্রাক পেট্রোল বোমার শিকার হয়ে চালক, হেলপার ও ব্যবসায়ীসহ ৬জন দগ্ধ হন। একইভাবে খুলনা ও বরিশালে যাওয়ার সময় সিরাজগঞ্জে কলাভর্তি দুটি ট্রাক এবং সিলেট যাওয়ার পথে কুমিল্লায় অপর তিনটি কলা ভর্তি ট্রাক ককটেল ও পেট্রোল বোমার শিকার হয়। এসব স্থানেও ট্রাকের চালক ও কলা ব্যবসায়ীসহ ৯ জন দগ্ধ হন। এসব ঘটনায় কলা ব্যবসায়ী ও মহাজনের মধ্যে ভীতির সৃষ্টি হওয়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মহাজনরা কলা কেনা বন্ধ করে দেন। অনেকে ব্যবসাই গুটিয়ে নেন। মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে হাতেগোনা ক‘জন মহাজন কলা কিনলেও দাম কম।

সিলেট বালাগঞ্জের কলাব্যবসায়ী আবিদ হাসান জানান, জীবনের মায়া ত্যাগ করে পরিবহণে সংশ্লিষ্টরা কলা পরিবহন করে থাকে। ট্রাক মালিকরাও ঝুঁকি নিয়ে ট্রাক ভাড়া দিতে হাঁকান তিন চারগুণ বেশি টাকা। ফলে ট্রাকের বাড়তি ভাড়া পুষিয়ে নিতে মহাজনরা কম দামে কলা কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।

মধুপুর উপজেলার মাগন্তিনগর গ্রামের কলা চাষী সুরুজ টাঙ্গাইল বার্তাকে জানান, হাটবাজারে মহাজনের বিচরণ কম থাকায় কলার পাইকারি বাজারে ধস নেমেছে। গত মৌসুমের চেয়ে অনেক কম দামে ব্যবসায়ীরা কলা বিক্রিতে বাধ্য হচ্ছেন। কোনো দিন পাইকার না এলে স্থানীয় দালালদের কাছে লোকসান দিয়ে কলা বিক্রি করতে হচ্ছে চাষীদের। কলার ন্যায্য দাম না মেলায় ফল চাষীরা প্রতিদিন লোকসানের কবলে পড়ছেন ।

ফেসবুক মন্তব্য