ঢাকা শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৮

Mountain View



ঘাটাইলে বাল্য বিবাহের প্রকোপ বেড়েই চলেছে, বাড়ছে বিচ্ছেদ ও মাতৃ মৃত্যুর হার

Print Friendly, PDF & Email

child marraige

মোঃ আরিফ খান , ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি : টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বাল্য বিবাহের প্রকোপ দিন দিন বেড়েই চলেছে। প্রশাসনের চোখ কে ফাঁকি দিয়ে বাল্য বিবাহ হরহামেশাই নিকাহ্ রেজিস্ট্রেশন করে যাচ্ছেন কিছু সংখ্যাক অসাধু কাজীরা। এতে করে বিভিন্ন ইউনিয়নে বাল্য বিবাহের ফলে বিবাহ বিচ্ছেদ ও মাতৃ মৃত্যুর হার বেড়ে চলছে।

জেলা তথ্য অফিসের সূত্র মতে বাংলাদেশের মধ্যে টাঙ্গাইল জেলায় বাল্য বিবাহের হার বেশি। সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়, স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীরাই বাল্য বিবাহের শিকার হচ্ছে বেশি। উপজেলার জামুরিয়া ইউনিয়নের চানতারা গণ উচ্চ বিদ্যালয়ের ২৩ জন ছাত্রী ২০১৪ শিক্ষাবর্ষের বাল্য বিবাহের শিকার হয়েছে। এদের মধ্যে ৬ষ্ঠ-একজন, সপ্তম-৭জন, অষ্টম-১২ জন, নবম-১ জন ও দশম শ্রেণির ২জন ছাত্রী বাল্য বিবাহের শিকার। চলতি বছর এরই মধ্যে সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির দুজন ছাত্রী বিয়ের পিড়িতে বসেছে। ধ

লাপাড়া ইউনিয়নের রামদেবপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বাল্য বিবাহ নিয়ম নীতিতে পরিণত হয়েছে। ঐ স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা বেদেনা বেগম জানান, আমার স্কুলের শিক্ষার্থীর অভিবাবকদের বাল্য বিবাহ সর্ম্পকে সচেতন করে কোন ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে না এক বৎসরে আমার স্কুল থেকে প্রায় বিশ জন শিক্ষার্থী বাল্য বিবাহের শিকার হয়েছে। এরা কাজীদের ম্যানেজ করে জন্ম নিবন্ধনে বয়স বাড়িয়ে নিকাহ্ রেজিস্ট্রেশন করে থাকে। কাজীরা প্রশাসন ও আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে হরহামেশাই নিকাহ্ রেজিস্ট্রেশন করে চলছেন। অভিযোগ রয়েছে অনেক ক্ষেত্রে কাজীদের সহায়তায় জন্মনিবন্ধন সংশোধন করে নিকাহ্ রেজিস্ট্রেশন করা হয়।

অনুসন্ধানীতে আরো জানা যায়, ১৯/১১/২০১৪ তারিখ চানতারা গণ উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী কাত্রা গ্রামের প্রবাসী নূরুল ইসলামের মেয়ে নূরন্নাহারের বিয়ে ঠিক হয় ফতেরপাড়া গ্রামের সুমনের সাথে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন জানতে পারলে তৎকালিন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোছাম্মৎ শাহিনা আক্তার উপস্থিত হয়ে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে বিয়ে বন্ধ ও নূরুন্নাহের মা সোমলা বেগম কে এক হাজার টাকা জরিমানা করেন কিন্তু বিয়ে বন্ধের ছয়ঘণ্টা পর আবার বিয়ের পিড়িতে বসেন নূরুন্নাহার।

এ বিষয়ে ঘাটাইল উপজেলার কাজী সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব কাজী আঃ মালেক বলেন-আমার কিছুই বলার নাই।

এ বিষয়ে ঘাটাইল উপজেলার মহিলা ও শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা নাছিমা খাতুন টাঙ্গাইল বার্তাকে জানান, মাঠ পর্যায়ে প্রতিটি ইউনিয়নে ৪০ জন নারী কর্মী এ বিষয়ে কাজ করছে। পরবর্তী উপজেলা মাসিক সমন্বয় মিটিং এ বাল্য বিবাহের কুফল সর্ম্পকে কাজীদের উদ্বৃত্ত করা হবে।

ফেসবুক মন্তব্য