ঢাকা বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৫, ২০১৮

Mountain View



সৎ মা-ভাইয়ের সাথে প্রতারণা, আজগুবি চিকিৎসায় আধমরা শিশু বায়োজিত হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছে

Print Friendly, PDF & Email

dhanbari

এসএম সবুজ, মধুপুর(টাঙ্গাইল)প্রতিনিধি: সৎ মাকে প্রতারণার জালে ফেলে অর্থ বাগিয়ে নেয়াসহ অজানা কঠিন রোগে জ্বিন দিয়ে চিকিৎসার নামে ছোট ভাইকে অমানসিক শারীরিক নির্যাতন করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে শামীম(২৫) নামের এক প্রতারক। জ্বীন পরিবারের সদস্য বানিয়ে আজগুবী নিয়ম কানুন পালনে বাধ্য করার অভিযোগও পাওয়া গেছে তার বিরুদ্ধে।

প্রতারক শামীম টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার ধোপাখালী ইউনিয়েনের বানিয়াবাড়ী গ্রামের জনৈক আব্দুল হাইয়ের প্রথম পক্ষের ছেলে। সে টাঙ্গাইলে টেক্সটাইলে ডিপ্লোমা করছে বলে জানা গেছে। আব্দুল হাই ১ম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর ১৫ বছর আগে দ্বিতীয় বিয়ে করেন একই এলাকার মৃত মফেল আকন্দের বিধবা মেয়ে সাহিদা খাতুনকে। তিনি টাঙ্গাইল পৌরসভার নাইট গার্ডের চাকরির সুবাদে টাঙ্গাইল ঈদগাহ মাঠ এলাকায় বাসা নিয়ে থাকেন।

অভিযোগে জানা যায়, শামীম ভগ্নিপতি হাফিজুর ও বন্ধু সবুজকে নিয়ে একটি চক্র গড়ে নানাভাবে বিভিন্ন জনকে প্রতারণার জালে ফেলে সর্বস্বান্ত করে। ১৫/১৬ বছর আগে মায়ের মৃত্যুর পর বাবার দ্বিতীয় বিয়ে করা স্ত্রী সাহিদাকে শামীম মেনে নিতে পারেনি। তাই এতদিন পর ওই সৎ মা ও তার সৎ ভাইকেও সে প্রতারণার জালে ফেলে অবর্ণনীয় যন্ত্রণা তৈরি করেছে। জ্বিনের চিকিৎসার নামে সৎ ভাই বায়েজিদ (৪) কে পিটিয়ে হাত-পা ভাঙ্গাসহ ধারালো কিছু দিয়ে শরীরে অসংখ্য ক্ষত করেছে। তাকে উদ্ধার করে মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্রেক্সে ভর্তি করিয়ে গত বুধবার থেকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

প্রতারণার শিকার সাহিদা জানান, শামীম তাকে জ্বীনের কাছ থেকে ৫ কোটি টাকা পাইয়ে দিতে গ্রুপের সদস্য হতে বলে। শামীমের পীড়াপিড়িতে তিনি সরল বিশ্বাসে ২০ হাজার টাকা দিয়ে সদস্য হন। পরে সৎভাই বায়েজিদ কঠিন রোগে আক্রান্ত বলে ভয় দেখিয়ে তাকে জ্বীন দিয়ে চিকিৎসা করতে হবে শামীম জানান। ভয় পেয়ে সাহিদা শামীমের কথামতো শিশু সন্তান বায়েজিদ কে তার হাতে তুল দেন। গত ৪ এপ্রিল বায়োজিদকে শামীম অজানা স্থানে নিয়ে গিয়ে আটকিয়ে রাখে। টানা ৫ দিন পরিবারের কারো সাথে দেখা করতে না দিয়ে চিকিৎসার নামে নির্যাতন করে। শামীম অমানসিক নির্যাতন করে ছোট ভাই বায়েজিদের বা হাত, ডান পা ভেঙ্গে দেয়াসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে দিয়েছে। আটকে রাখার ওই সময়ে শামীম জ্বীনের আদেশ বলে বায়েজিদের মঙ্গলের জন্য সৎমা সাহিদাকে বাড়ি বাড়ি ভিক্ষা, ৭৫কিলোমিটার পায়ে হাঁটতে এবং ৭০ ঘাটের পানি সংগ্রহ করতে বাধ্য করে। অনেক অনুরোধ করেও মা সাহিদা ছেলের সাথে দেখা করতে পারেননি। ৫ দিন পর গত বুধবার (৮এপ্রিল) মোবাইলে শামীমের ডাকে বায়েজিদের নানা হাসান আলী টাঙ্গাইল থেকে বায়েজিদকে মুমুর্ষূ অবস্থায় নিয়ে আসেন। মধুপুর এনে ওইদিনই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। গতবুধবার থেকে বায়েজিদ সেখানে চিকিৎসাধীন।

এব্যাপারে অভিযুক্ত শামীমের সাথে কথা বললে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং তার সৎ মা বায়েজিদকে কোন কবিরাজের কাছে চিকিৎসা করিয়েছেন তা তিনি জানেন না বলে জানান।

বায়েজিদের মামা মফিজুল শনিবার মামলার কথা বললেও রবিবার বিকাল পর্যন্ত এব্যাপারে কোন মামলা করেননি বলে জানান।

ফেসবুক মন্তব্য