ঢাকা বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৫, ২০১৮

Mountain View



টাঙ্গাইলে বাবাকে বেঁধে রেখে দু’বোনকে পালাক্রমে ধর্ষণ, মামলা দায়ের

Print Friendly, PDF & Email

মুহা. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি : টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার গাবসারা ইউনিয়নের যমুনা নদীতে নৌকায় বাবাকে বেঁধে রেখে দু’মেয়েকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেছে একদল ডাকাত। এ সময় ডাকাতরা ধর্ষিতাদের কাছে থাকা নগদ টাকা ও স্বর্ণলঙ্কার লুটে নেয়। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ডাকাতদের বাড়িঘর ২৭ এপ্রিল আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে। ধর্ষিতাদের বাবা বাদি হয়ে রোববার(২৬ এপ্রিল) রাতে ভূঞাপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

rape

জানাগেছে, ভূঞাপুর উপজেলার গাবসারা ইউনিয়নের বেলটিয়াপাড়া গ্রামের জৈনক কৃষকের দুই মেয়ে গাজিপুরে গার্মেন্টসে চাকুরী করে। গত ১৩ এপ্রিল ছুটি নিয়ে তারা দুই বোন বাড়ি ফিরতে রাত হওয়ার আশঙ্কায় ততাদের বাবাকে ফোন করে ভূঞাপুরের গোবিন্দাসী ঘাটে নৌকা নিয়ে আসতে বলে। মেয়েদের কথামতো বাবা বেলটিয়াপাড়া গ্রামের আকাব্বরের ছেলে সুজাল(২৮)-এর নৌকা ভাড়া করে গোবিন্দাসী ঘাটে আসেন। দুই বোন তাদের বাবার সাথে গোবিন্দাসী ঘাট থেকে নৌকাযোগে বাড়ির উদ্দেশে রওয়ানা দেয়। যমুনা নদীর রামপুর নামক স্থানে পৌঁছলে একদল ডাকাত তাদের নৌকার গতিরোধ করে। ডাকাতদল নৌকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে কৃষক বাবাকে হাত-পা-মুখ বেঁধে তাঁর(বাবার) সামনেই দুই বোনকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। চলে যাওয়ার সময় ডাকাতদল এ ঘটনা জানাজানি বা মামলা করলে ধর্ষিতাদ্বয় ও তাদের বাবাসহ পরিবারের সবাইকে খুন করে লাশ যমুনায় ভাসিয়ে দেয়ার হুমকি দেয়। এ কারণে হতদরিদ্র পরিবারটি কিছুদিন ঘটনাটি আড়াল করে রাখে। একপর্যায়ে ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকাবাসী ফুঁসে উঠে। তারা ধর্ষণকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করে।

এলাকাবাসীর আশ্বাসের প্রেক্ষিতে হতদরিদ্র ওই কৃষক বাদি হয়ে রোববার(২৬ এপ্রিল) রাতে ভূঞাপুর থানায় একটি মামলা(নং-১৪, তারিখ-২৬/০৪/২০১৫ইং, ধারা ৯(১)/৩০, ৩৭৯, ৫০৬) দায়ের করেছেন।

মামলার বাদি হতদরিদ্র ওই কৃষক জানান, নৌকা চালক সুজালের যোগসাজসে ডাকাত সর্দার আসাদুলের নেতৃত্বে নজরুল, রকমান, সাইদুলসহ ৮-৯ জনের একদল ডাকাত নৌকার গতিরোধ করে হামলা করে। ডাকাতরা তাঁর হাত-পা-মুখ-চোখ বেঁধে নৌকার একপাশে ফেলে রাখে। এসময় ডাকাতরা তাঁর দুই মেয়ে আঁখি ও সখি(ছদ্মনাম) কে পালাক্রমে ধর্ষণ করে এবং মেয়েদের সঙ্গে থাকা নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুটে নেয়। তিনি জানান, ডাকাতরা এখনো তাঁকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। তিনি নিরাপত্তা ও ধর্ষণকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান।

এদিকে, ঘটনাটি প্রকাশ হওয়ায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। উত্তেজিত এলাকাবাসী গত ২৭ এপ্রিল ধর্ষক ডাকাত সর্দার আসাদুল, ডাকাত নজরুল, রকমান, সাইদুলের বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে।

এ বিষয়ে ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মো. ফজলুল কবির জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত ঘৃণিত ও পৈশাচিক। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।

ফেসবুক মন্তব্য