ঢাকা শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৮

Mountain View



৭ মে মির্জাপুরে গণহত্যা দিবস ॥ স্বাধীনতার ৪৪ বছরেও নির্মিত হয়নি শহীদদের জন্য কমপ্লেক্স

Print Friendly, PDF & Email

শাহ্ সৈকত মুন্না, মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধিঃ ৭ মে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে গনহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনের পাকহানাদার বাহিনী অথ্যাচার নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ চালায় মির্জাপুরের নিরীহ বাঙ্গালীর উপর। নিরীহ বাঙ্গালীর আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে মির্জাপুর হানাদার মুক্ত ও স্বাধীন হলেও সেদিনের ভয়াবহ স্মৃতির কথা মনে করে আজও মির্জাপুরবাসী শিউরে উঠে। যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে মির্জাপুর স্বাধীন হয়েছে স্বাধীনতার ৪৪ বছর পার হলেও সেই সব বীর বাঙ্গালী যাদের জীবনের বিনিময়ে মির্জাপুর দখলমুক্ত ও হানাদার মুক্ত হয়েছিল তাদের স্মরণে নির্মিত হয়নি কোন স্মৃতিসৌধ , শহীদ মিনার এবং কোন কমপ্লেক্স।

mirzapur

১৯৭১ সালের ৭ই মার্চে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবর রহমানের আহবানে মির্জাপুর গঠিত হয় সংগ্রাম পরিষদ। সাবেক এমপি প্রয়াত ব্যারিস্টার শওকত আলী খান, সাবেক এমপি ও বর্তমান টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের প্রশাসক এবং টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামীরীগের সাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমান খান ফারুক, বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বিরোত্তম, আজাদ কামাল বীর বিক্রম ও বর্তমান সংসদ সদস্য ও সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ একাব্বর হোসেন সংগ্রাম পরিষদের নের্তৃত্ব দেন।

৩রা এপ্রিল ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গোড়ান -সাটিচড়ায় প্রতিরোধ যুদ্ধে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী পরাজিত হবার পর মির্জাপুর সদরে এসে ঘাঁটি গেরে বসে। এদেশীয় দোসর আর রাজাকার আলবদরদের সহযোগিতায় পাক সেনারা মির্জাপুর সদরের আন্ধরা শাহাপাড়া, কুতুববাজার, পুষ্টকামুরী, বাইমহাটি, সরিষাদাইর ও পালপাড়ায় ঢুকে অত্যাচার নির্যাতন, লুটপাট, অগ্নিসয়যোগ এবং গনহত্যা চালায়। গণ হত্যায় নিহত হয় শতাধিক নারী পুরুষ।ঐ সব এলাকার শতাধিক নারী পুরুষ ও শিশু কিশোরকে হত্যা করে বংশাই ও লৌহজং নদীতে নিক্ষেপ করে বলে সেদিনের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী অতুল পোদ্দার (৯০) ও ঝৃষিকৃষ সাহা (৭৮) সহ অনেকেই জানান। সেদিন যাদের নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছিল তাদের মধ্যে মির্জাপুর গ্রামের দানবীর রনদা প্রসাদ সাহা, তার পুত্র ভবানী প্রসাদ সাহা রবি, কমলা সাহা, সুভাষ সাহা, মধু সাহা, সুধাম চন্দ্র সাহা, ঊমাচরন, ধীরেন নাথ সাহা, গদাচরন সাহা, কেরু শীল, রংলাল সাহা, নিতাই চন্দ্র, আন্ধরা গ্রামের গৌরগোপাল সাহা, গঙ্গাচরন , পদসাহা, কান্দু সাহা, সরিষাদাইর গ্রামের ভবেন্দ্র সাহা, রঞ্জিত সাহা, নিতাই সাহা, ভোলানাথ, গনেশ সাহা, দুর্গাপুর গ্রামের কানাই সাহা, রাখাল চন্দ্র সাহা, সুরেশ, ভবেশ মন্ডল, বাইমহাটি গ্রামের রঞ্জিত সাহা, নগীনা বাশফৈর, কান্ঠালিয়া গ্রামের জগদীশ বকসী, সাধু মালী, পুষ্টকামুরী গ্রামের ডাঃ রেবুতী মোহন, ফনিন্দ্র নাথ সাহা, মাজম আলী ও জয়নাল আবেদীন।

নরঘাতকরা ৬ই মে কুমুদিনী কমপ্লেক্সে ঢুকে উপ মহাদেশের প্রখ্যাত দানবীর কুমুদিনী কমপ্লেক্সের প্রতিষ্ঠাতা রনদা প্রসাদ সাহা ও তার একমাত্র পুত্র ভবানী প্রসাদ সাহা রবিকে না পেয়ে রাজাকার আলবদর বাহিনী নারায়নগঞ্জের বাসা থেকে তাদের ধরে নিয়ে যায়। আজও তাদের কোন খোজ মিলেনি।

৮ই মে আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক আবুল হোসেনের বৃদ্ধ পিতা জয়নাল সরকার এবং বাসায় আওয়ামীলীগের অফিস থাকায় মাজম আলীকে নরঘাতকরা পুড়িয়ে হত্যা করে। ১৯৭১ সালের ৭ই মে গনহত্যার নির্মমতার কথা ভূলতে পারেননি মির্জাপুর বাসী। অনেক যুদ্ধাপরাধী এখনো মির্জাপুরে বীরদর্পে চলাফেরা করলেও তাদের বিরোদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছে মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবার। সেদিন যারা ঘাতকদের হাতে শহীদ হয়েছিলেন তাদের স্মরনের মির্জাপুরে সরকারী ভাবে ৭ই মে পালিত হয় না। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলো পায়নি কোন সাহায্য আর সহযোগিতা। শুধু সেদিনের স্মৃতি মনে করে মির্জাপুর গ্রামে কীর্তন এবং আলোচনা সভা ও কুমুদিনী কমপ্লেক্সে প্রার্থনা সভা, কাঙ্গালী ভোজ ও আলোচনা অনুষ্ঠান হয়। দিবসটি সরকারী ভাবে পালন ও নিহতদের স্মরণে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মাণ এবং অসহায় পরিবারের দিকে বর্তমান সরকার একটু সুনজর দেবেন এমনটাই দাবী মির্জাপুর গ্রামবাসী এবং কুমুদিনী পরিবারের।

ফেসবুক মন্তব্য