ঢাকা বুধবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৮

Mountain View



টাঙ্গাইল-২ আসনে আতঙ্কে ভোট গ্রহণ কর্মকর্তারা, গোপালপুরের সবকটি কেন্দ্র ঝুঁকিপুর্ণ ঘোষণা

Print Friendly, PDF & Email

মো.কামাল হোসেন : গোপালপুর ও ভূঞাপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত টাঙ্গাইল-২ আসনে ভোটগ্রহন নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন ভোট গ্রহণের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তরা। বিশেষ করে যমুনা নদী বিধৌত চরাঞ্চলে যাদের ভোটগ্রহনের দায়িত্ব পড়েছে সেসব কর্মকর্তারা বেশি শঙ্কায় রয়েছেন। তবে ভূঞাপুরের চেয়ে গোপালপুরের ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের মাঝে তুলনামূলক বেশি আতঙ্ক বিরাজ করছে। গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারি রিটার্নিং অফিসার তানজিনা ইসলাম সবকটি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছেন। ইতিমধ্যে প্রতিটি কেন্দ্রে ৩ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করার কথা থাকলেও ওই সংখ্যা বাড়িয়ে ৫ জন করা হয়েছে। ঝুঁকির কারণ হিসেবে বিগত কয়েকমাসে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় রেললাইন উপড়ে ফেলা, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ওসি ও এসআইসহ পুলিশের বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার ঘটনা, পুলিশের পিকআপ-ভ্যানে আগুন ও ভাংচুর, বিবদমান রাজনৈতিক দলের মধ্যে একর পর এক সংঘর্ষ, হামলা, বাড়ি-ঘর ও দোকানপাট ভাংচুর, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ এবং বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মী গ্রেপ্তারের বিষয়টি বেরিয়ে এসেছে। এ উপজেলায় ৭০ টি ভোট কেন্দ্রে ৩৪৪টি বুথে ১ লাখ ৮২ হাজার ১৬১ জন ভোটারের বিপরীতে ৭০ জন প্রিজাইডিং অফিসার, ৩৪৪ জন সহকারি প্রিজাইডিং অফিসার ও ৬৮৮ জন পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে গোপালপুর উপজেলার একাধিক প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারি প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গোপালপুরে একের পর এক সহিংস ঘটনায় তারা কেন্দ্রগুলোতে ভোট গ্রহণ নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন।

এদিকে ভূঞাপুর উপজেলায় গোবিন্দাসীতে আওয়ামী লীগ-বিএনপি সংঘর্ষ, সারপলশিয়ায় পুলিশের সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের সংঘর্ষে এসআইসহ বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত, মামলা ও অর্ধশত গ্রেপ্তার এবং ইব্রহীমাবাদ রেল স্টেশনে পরিত্যাক্ত বগিতে অগ্নিসংযোগ ছাড়া তেমন কোন বড় ধরনের ঘটনা ঘটেনি। তবে এ উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের মধ্যে ৩টি ইউনিয়নই যমুনা নদী বিধৌত চরাঞ্চল বেষ্টিত। ইউনিয়ন ৩ টিতে দূর্গম চরাঞ্চলে কেন্দ্র রয়েছে ১০টি। ওই ১০টি কেন্দ্রে অনাকাঙ্খিত কোন ঘটনা ঘটলে যমুনা নদী পাড়ি দিয়ে দীর্ঘ সময় পায়ে হেটে পৌছতে হবে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে। একারণে দূর্গম চরাঞ্চলে যেসব প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারি প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন তাদের মধ্যে বিরাজ করছে আতঙ্ক। ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী ও সহকারি রিটার্নিং অফিসার মো. হেলালুজ্জামান সরকার দূর্গম চরাঞ্চলের ১০টি কেন্দ্রসহ ২৬টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষনা করেছেন।

এ উপজেলায় ৫১টি কেন্দ্রে ২৬৪টি বুথে ১লাখ ২৯হাজার ৭৭৯জন ভোটারের বিপরীতে ৫১জন প্রিজাইডিং অফিসার, ২৬৪ জন সহকারি প্রিজাইডিং অফিসার এবং ৫২৮ জন পোলিং অফিসার নিয়োজিত থাকবেন।

নির্বাচনের বিষয়ে গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারি রিটার্নিং অফিসার তানজিনা ইসলাম বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গোপালপুর এমনিতেই অস্থিতিশীল। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েকটি অনাকাঙ্খিত ঘটনাও ঘটেছে। এজন্য এ উপজেলার প্রত্যেকটি ভোট কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে।

ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারি রিটার্নিং অফিসার মো.হেলালুজ্জামান সরকার বলেন, ভূঞাপুরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনেকটাই স্থিতিশীল। এ উপজেলায় এ পর্যন্ত বড় ধরনের কোন রাজনৈতিক সহিংসতা ঘটেনি। দূর্গম চরাঞ্চলসহ ২৬টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হলেও আশা করি তেমন কোন সমস্যা হবেনা।

ফেসবুক মন্তব্য