ঢাকা মঙ্গলবার, নভেম্বর ২০, ২০১৮

Mountain View



ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের দুই পাশে জমি দখল, হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা

Print Friendly, PDF & Email

শাহ্ সৈকত মুন্না, মির্জাপুর(টাঙ্গাইল)প্রতিনিধি: ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর উপজেলাসহ আশেপাশের বিভিন্ন এলাকায় জমি অধিগ্রহণের অধিক ক্ষতি পূরণ পেতে নামে নামে মাত্র অবৈধ স্থাপনা নির্মান করে মিলকারখানা ও বাড়ি ঘর দেখিয়ে ভূমিদস্যুরা কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

mirzapur

গত বছরের ১৩ আগস্ট সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী,মোঃ ওবায়দুল কাদের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুরে মহাসড়কের দুইপাশ পরিদর্শনে এসে ঘটনার সত্যতা পান। তিনি মির্জাপুর সড়ক ও জনপথ অফিসে বসে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, স্থানীয় প্রশাসনকে অবৈধ এসব স্থাপনা ভেঙ্গে ফেলার নির্দেশ দেন । কিন্ত মন্ত্রীর নির্দেশের ১০ মাস পার হলেও রহস্য জনক কারনে এসব স্থাপনা ভাঙ্গা হয়নি।

ভুমি অফিস সুত্র জানায়, ঢাকা-টাঙ্গাইল-জয়দেবপুর-বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতুর এলেঙ্গা পর্যন্ত চার লেন করার জন্য সরকার নীতিগত সিন্ধান্ত নিয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় মির্জাপুর উপজেলার ক্যাডেট কলেজ এলাকা থেকে নাটিয়াপাড়া পর্যন্ত জমি অধিগ্রহণ করা হবে। এশিয় উন্নয়ন ব্যাংক, ওপেন ফান্ড ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ও আবুধাবী ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্ট এবং বাংলাদেশ সরকারের প্রায় ৪ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তায় এ মহাসড়কের চার লেন উন্নিত করনের প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। এই প্রকল্পের অধিনে মহাসড়কের দুইপাশে গাজীপুর জেলা ও টাঙ্গাইল জেলার ৮৭ দশমিক ৫১৮৫ একর জমি অধিগ্রহণ করার জন্য যোগাযোগ মন্ত্রনালয় থেকে প্রশাসনিক অনুমোদন পাওয়া গেছে বলে সুত্রটি জানায়। ঐ জমির মধ্যে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলা অংশের জমি পড়েছে ২৩ দশমিক ৭৬৮৯ একর । আর এই জমিগুলি হচ্ছে ক্যাডেট কলেজ, হাটুভাঙ্গা, গোড়াই, নাজিরপাড়া, সোহাগপাড়া, ধেরুয়া, দেওহাটা, বাওয়ারকুমারজানি, মির্জাপুর বাইপাস, পুষ্টকামুরি, নয়াপাড়া, ইচাইর, কুরনি, ধল্লা, পাকুল্লা,  জামুর্কি ও নাটিয়াপাড়া মৌজা ।

এলাকাবাসি সুত্র জানায়,জমি অধিগ্রহণের খবর শুনে কিছু অসাধু চক্র যোগাযোগ মন্ত্রনালয়,সড়ক ও জনপথ বিভাগ, চার লেন প্রকল্পের কিছু দুনীতিবাজ চক্র এবং স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে ঐ সব জমির উপর অবৈধভাবে টিনের ঘর নির্মান শুরু করেছে। দুর্নীতিবাজ এই চক্র জমি ভাড়া নিয়ে অবৈধভাবে নির্মান করছে এসব স্থাপনা । জমির মালিক এবং দালাল চক্র অধিক ক্ষতিপুরণ পেতে রাতারাতি ভাবে অতি নিম্নমানের উপায়ে ঘরবাড়ি নির্মান করে চলেছে। কেউ লম্বালম্বি ভাবে চাল দিয়ে ঘর নির্মান আবার কেউ বা আধাপাকা আবার কেউ বা পাকা ঘর নির্মান করেছে। তবে চিকন রড ও নিম্নমানের ইট দিয়ে ও বাঁশের খুঁটি ব্যবহার করে এসব ঘর নির্মান করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। আর এসব স্থাপনা রাতারাতি ভাবে ডোবা-পুকুর,নিচু জমি ও কাঁচা ধান কেটে নির্মানের হিড়িক পড়েছে। অধিক ক্ষতিপুরণ পেতে এসব স্থাপনার সামনে বিভিন্ন কল-কারখানার সাইন বোর্ড ঝুঁলিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর এসব কাজে সহযোগিতা করছে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের ভুমি অফিসের গুটি কয়েকজন দুর্নীতি পরায়ন কর্মকর্তা কর্মচারী বলে অভিযোগ রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে যারা এসব স্থাপনা নির্মান করছে তাদের বাড়ি গাজীপুর, গাইবান্ধা,দিনাজপুর,ঠাকুরগাও,ফরিদপুর,বগুড়া,ঢাকাসহ ও বিভিন্ন জেলায়। যোগাযোগ মন্ত্রনালয়,সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং প্রকল্পের কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজস করেই অধিক ক্ষতিপুরন পেতে দালাল চক্রটি অবৈধভাবে এসব স্থাপনা নির্মান করে চলেছে।

এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাসুম আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, চার লেন প্রকল্পের অনুমোদনের সময়ই জমির ঘর বাড়ির ভিডিও হয়েছে । মন্ত্রীর নির্দেশ মোতাবেক জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সহযোগিতায় অচিরেই এসব স্থাপনার ভাঙ্গার কাজ শূরু হবে।

মির্জাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মীর এনায়েত হোসেন মন্টু বলেন, সরকারের ভাবমুর্তি বিনষ্ট করার জন্য কয়েকটি চক্র মহাসড়কের দুই পাশে অবৈধভাবে এসব স্থাপনা নির্মান করেছে।

ফেসবুক মন্তব্য